লীল্লন্বলেলন্ত্ হাললম্থাসা প্রথম পর্ব

[ * 8110) 1

£ 2৪81 '013-

রি 038 নি

কত আনা খচ

ভ্ীপ্রশ্মথ চৌ্ুল্লী

ক্যালকাটা পাব্লিশাস্ণ কলেজ খ্রী্ট মার্কেট

প্রকাশক-_ শ্রীবারিদকান্তি বন্থু শ্রশরচ্চন্দ্র গুহ, বি-এ

8 মানি, 2 1 থা সপ & 4 রি রর & চা শী রশ 1 রি (হাঁস ঝি

হালখাতা

আজ *'ল। বৈশাখ নুতন বৎসরের প্রথম দিন অপর /শের অর জাতের পক্ষে আনন্দ উত্সবের দিন। কিন্ত | রাসেটিন চিনি শুধু হালখাতায়। ব্ছরকার দিনে আমরা হু বৎসরের দেনাপাওন। লাভলোকসানের হিসেব নিকেশ করি, ইন খাতা |লি, এবং তার প্রথম পাতার পুরাণো খাতার জের বসে, পর বৎসর যায়, আবার বংসর আসে, কিন্ত মদের হন খাতায় কিছু নতুন লাভের কথা থাকে না। পরা এক হালখাতা থেকে আর এক হালখাতায় শুধু লোক-

নর ঘরট। বাড়িয়ে চলেছি। ভাবে আর কিছুদিন চল্লে থে আন দর জাতকে দেউলে হ'তে হবে, সে বিষয়ে সন্দেহ

8৮

নেই। লাভের দিকে শূন্য লোকসানের দিকে অঙ্ক ক্রমে বেড়ে | নু তবে আমরা ব্যবসা গুটিয়ে নিইনে কেন? কারণ ভবের টি দোকানপাট কেউ স্বেচ্ছায় তোলে-না, তার উপর আবার 0 আছে। লোকে বলে আশা না মলে যায় না। | . আমরা স্বজাতি সম্বন্ধেযে একেবারেই উদাসীন, তা নম্বর! কেলি বৎসর, জাতি হিসেবে কায়স্থ বড় কি বৈদ্য বড়, এই নিয়ে অকটা তর্ক ওঠে। যেহেতু আমর! অপরের তুলনায় সং. পইনেদেই ছোট, সেইজন্য আমাদের নিজোগের মধ্যে কে ছে বড, নিয়ে বিবাদবিসম্বাদ করা ডা আর উপায় নেই নিজেকে বড় বলে? পরিচয় দেবার মায়া আমর! ছাড়তে পারিনে ব্য়স্থ' বলেন আমি বড়, বৈদ্য বলেন আমি বড়। শাস্ত্রে যখ ী্া,সুনির নানা মত, তখন সথশ্ম বিচার করে? বিষরে ঠিকট সব (করা প্রায় অসম্ভব বৈদ্যের ব্যবসায় চিকিৎসা »প্রাণ- ফরা। ক্ষত্রিয়ের ব্যবসায় 'প্রাণবধ করা,_-অতএব ক্ষত্রিয় নিঃসন্দেহ বৈদ্য অপেক্ষ। জেট! সুতরাং বৈচ্য অপেক্ষা বড হতে গেলে ক্ষত্রিয় হওয়া আবশ্তক, এই মনে করে” জনকতক শয়স্গ-স্মাজের দলপতি ক্ষত্রিয় হবার জন্য বদ্ধপরিধর হয়েছিলেন শুভসংবাদ শুনে” আমি একটু বিশেষ উৎ্ফুল্ হ'য়ে উঠেছিলুম ক্ষাবণ প্রথমত: আমি উন্নতির পক্ষপাতী ;_কোন লোক। (8 জাতিবিশেষ আপন চেষ্টায় আপনার অবস্থার

থর "পক্ষে স্বাভাবিক। বিশেষত: বাঙ্গলার পক্ষে খন

হালখাতা

জিনিনটি এতটা নৃতন। নৃতনের প্রতি মন কার না৷ যায়, অন্তত: রঃ হজ জন্যও | অবনতির জন্য কাউকেই আয়াস করতে হয় পা একটু টিলে দিলে আপ্না হ'তেই হয়। জড়পদার্থের ঠিযীদি লক্ষণ নিশ্চেষ্টতা, আর জড়পদার্থের প্রধান ধশ্ম অধোগতি-__ চি 1:.১. সম্প্রতি প্রোফেসর জে, সি, বোস্‌ শ্তন্তে রা [রা সমাজে প্রমাণ করেছেন থে, জড়ে জীবে দল িদজ্ঞান শুধু ভ্রান্তিমাত্র সেত্রান্তির মূল, আমাদের চমু ৃষ্টি। তিনি ইলেক্টি সিটির আলোকের সাহায্যে খত দিরেছেন যে, অবস্থ। অনুসারে জড়পদার্থের ভাবভঙ্গী ঠিক্ষ সজীব পদার্থের অুব্ূপ প্রোফেসর বোস্‌ নিজে বলেন ই-ভারতবাসীর পক্ষে কিছু নতুন সত্য বা তথ্য নয়, সত্য খাদের পূর্বপুরুষদের কাছে বহুপূর্ধ্বে ধরা পড়েছিল, তাদের দিবা ক্ষ এড়িয়ে যেতে পারেনি; এক কথায় এটা আমাদের পধানদানী সত্য আমি বলি, তার আর সন্দেহ কি? সত্যের শর্ীখের জন্য বিজ্ঞানের সাহায্যও আবশ্যক নয়, এবং আমাদের লির7র কাছেও যাবার দরকার নেই আমরা প্রতিদিনের করজ়াজীলনের কাজে নিত্য প্রমাণ দিচ্চি যে, আমাদের

জে কোন প্রভেদ নেই | স্থৃতরাং কেউ যদি কার্যতঃ প্রমাণ করতে উদ্ঘত হয়, তা হলে নৃতন জীবনের... আভাস পাওয়া যায় .

১২৯ দের বাঙ্গালী জাতির চিরলজ্জার কথা আমাদের দেশে

টি বেটা এর জন্য আমরা অপর বীরজাতির ধিক্কার,

হু

বীরবলের হালখাতা

লাঞ্ছনা, গঞ্জনা চিরকাল নীরবে সহা করে” আস্ছি। ঘোষ, বোস, মিত্র, দে, দর্ত, গুহ প্রভৃতিরা যে আমাদের এই চিরদিনের লজ্জা দূর, এই চিরদিনের অভাব মোচন কর্বার জন্য কোমর বেধেছিলেন, তার জন্য তারা স্বদেশহিতৈষী শ্বজাতিপ্রিয় লোকমাত্রেরই কলৃতজ্ঞতাভাজন হয়েছেন ছুঃখের বিষয় এই যে, কায়স্থবের! ক্ষত্রিয় হবার জন্য ঠিক পথটা অবলম্বন করেন নি, কাজেই অকুতকাধ্য হয়েছেন তাদের প্রথম ভুল, শাস্ত্রের প্রমাণের উপর নির্ভর করতে যাওয়া কি ছিলুম সেইটে স্থির করতে হ'লে, পুরাণে। পাজিপুখি খুলে” বসা আবশ্যক, কিন্তু কি হব.তা স্থির করতে হ'লে ইতিহাসের সাহাধ্য অনাবশ্তক | ভবিষ্যতের বিষয় অতীত কি সাক্ষী দেবে? বিশেষতঃ বিষয়ট। হচ্চে যখন ক্ষত্রির হওয়া, তখন গায়ের জোরই যথেষ্ট কিন্ত আমাদের এমনি অভ্যাস খারাপ হয়েছে যে, আমরা শাস্ত্রের দোহাই না দিয়ে একপদও অগ্রসর হ'তে পারিনে।

পৃথিবীতে মানুষের উপর মান্থুষ অত্যাচার করুবার জন্য ছুটি মারাত্মক জিনিসের স্থষ্টি করেছে, অস্ত্রশস্ত্র শান্ত্র। আমরা অত্যন্ত নিরীহ, কারও সঙ্গে মুখে ছাড়া ঝগড়৷ বিবাদ করিনে, যেখানে লড়াই হচ্চে সে পাড়। দিয়ে হাটিনে ;__এই উপায়ে যুদ্ধের অস্ত্রশস্ত্রকে বেবাক্‌ ফাঁকি দিয়েছি যা কিছু বাকি আছে ডাক্তারের হাতে আমর চিররুগ্র, স্থতরাৎ ডাক্তারকে ছেড়ে আমরা ঘর করতে পারিনে,_এই' উভয় সন্কটে আমরা হোমিও- প্যাথি কবিরাজীর শরণাপন্ন হ'য়ে সে অস্ত্রশস্তেরও সংস্পর্শ

হালখাতা

এড়িয়েছি। আমাদের যখন এত বুদ্ধি, তখন শাস্ত্রের হাত থেবে উদ্ধার পাই, এমন কি কিছু উপায় বা”র করতে পারিনে ? কিন্তু ক্ষত্রিয় হওয়া কায়স্থের কপালে ঘট্ল না রাজ বিনয়কুষ্ণ দেব একে কায়স্থের দলপতি, তার উপর আবা; গোষ্ঠীপতি, সৃতরাং তিনি যখন ব্যাপারে বিরোধী হলেন তখন অপর পক্ষ ভয়ে নিরস্ত হলেন ধার! ক্ষত্রিয় হতে উদ্যত তাদের ভয় জিনিসটা যে আগে হ'তেই ত্যাগ করা নিতান্ত আবশ্যক, কথা বোঝা উচিত ছিল ভীরুতা ক্ষাত্রধশ্ ফ২ একসঙ্গে থাকৃতে পারে না, কথা বোধ হয় তারা অবগত ছিলেন না তবে হয়ত মনে করেছিলেন, যখন মূর্থ ব্রাহ্মণ দেশ ছেয়ে গেছে, তখন ভীরু ক্ষত্রিয়ে আপত্তি কি? জড়পদার্থেরও একটা অস্তনিহিত শক্তি আছে, তার কার্ধ্য হচ্চে চলৎশক্তি রহিত কর! আমাদের সমাকে যে নাড়ানো যায় না, তার কারণ এই £ড়শক্তিই আমাদের সমীজে সর্বজরী শক্তি রাজ! বিনয়রৃষ্জ যে কারস্থমমাজের সংস্কারের উদ্যোগে গা দিয়েছেন, শুধু তাই নয়,তিনি এবার সমগ্র ভারতবর্ষের দীক্ডায় সমাজ-সংস্কার-মহাসভার সভাপতির আসন থেকে এই মত বাক্ত করেছেন ষে, হিন্দুদমাজে অনেক দোষ থাকতে পারে, এবং সে দোষ না থাকৃলে সমাজের উপকার হ'তে পারে, অতএব সমাজসংস্কারের চেষ্টা করা অকর্তব্য। স্মাজের স্থষ্টি গঠন অতীতে, স্থতরাৎ তার সঙ্্কার পরিবর্তন হবে বর্তমানের কোনও কর্তব্য. নেই, কোনও দায়িত্ব নেই

সমাজ গড়ে মানুষে, ইচ্ছে করুলে ভাঙতে পারে মান্ুষে”-অতএব মানষে তার সংস্কার করুতে পারে না, সে ভার সময়ের হাতে, অন্ধ গ্রকৃতির হাতে মত যে অস্বীকার করে, সে 80715 পড়েনি আজকাল এক শ্রেণীর লোক আছেন ধারা সমাজের অবস্থা,

দেশের অবস্থা, নিজেদের অবস্থা, এই সব বিষয়েই একটু আধ্টু চিন্তা করে” থাকেন, এবং শেষে এই সিদ্ধান্তে উপস্থিত হন যে, সাবধানের মার নেই এঁর! সব জিনিসই ধীরে স্বৃস্থে ঠাণ্ডাভাবে কর্বার পক্ষপাতী এরা রোখ্‌ করে” স্মুখে এগোতে চান না বলে” কেউ যেন মনে না ভাবেন যে, এরা পিছনে ফিরতে চান যেখানে আছি সেখানে থাকাই এর! বুদ্ধির কাজ মনে করেন বরং একটু অগ্রসর হওয়াই এরা অনুমোদন করেন, কিন্তু সে বড় আস্তে, বড় সন্তর্পণে। যে হাড়-বাঙ্গালী ভাব অধিকাংশ লোকের ভিতর অব্যক্তভাবে আছে, 2 কেউ পরিষ্কার স্থন্দর ইংরাজীতে তা ব্যক্ত করেন টি +-সংক্ষেপে এদের বক্তব্য

এই যে, জীবনের গাধাবোট উন্নতির ক্ষীণ শ্রোতে ভাসাও, সে একটু একটু করে” অগ্রসর হবে, যদিচ চোখে দেখতে মনে হবে চল্ছে না। কিন্ত খবরদার লগি মেরো নী, দাড় ফেলো! না, গুণ টেনো না, পাল খাটিয়ো না,-_শুধু চুপটি করে? হালটি ধ'রে বসে, থেকো এই মতের নাম হচ্চে বিজ্ঞতা |] বিজ্ঞতার আমাদের দেশে বড় আদর, বড় মান্য গাধাবোর্ট চলে না দেখে লোকে মনে করে, না-জানি তাতে কত অগাধ মাল বোঝাই আছে!

হালখাতা

বিজ্ঞতা জিনিসটা আমাদের বর্তমান অবস্থায় একটা ফল মাত্র অবস্থাকে ইংরেজীতে বলে 75075161010 7591100১ অর্থাৎ এখন আমাদের জাতির বয়ঃসন্ধি উপস্থিত। বিগ্যাপতি ঠাকুর বয়ঃসন্ধির এই বলে" বর্ণনা করেছেন যে “লখইতে না পার জেঠ কি কনেঠ,৮--এ জোষ্ঠ কি কনিষ্ঠ চেনা যায় না কাজেই আমরা! কাজে কথায় পরিচয় দিই হয় ছেলেমীর, নয় জ্যাঠামীর, ন1 হয় এক সঙ্গে দুয়ের এই জ্যাঠাছেলের ভাবটা আমাদের বিশেষ মনংপৃত। ছোট ছেলের ছুরস্ত ভাব আমর! মোটেই ভালবাসিনে তার মুখে পাক! পাকা কথা শোনাই আমাদের পছন্দসই এই জ্যাঠামীরই ভদ্র নাম বিজ্ঞতা

ধরাকে সরা জ্ঞান করা আমরা সকলেই উপহাসের বিষয় মনে করি, কিন্তু সরাকে ধর! জ্ঞান করা আমাদের কাছে একটা মহৎ জিনিস। কারণ মনোভাবটি না থাক্‌লে বিজ্ঞ হওয়া যায় না। 89109. ঘা91801) 5৬০1০6০-প বিপুল রাজ্য বিপ্লবের সমালোচনাস্থত্রে যে মতামত ব্যক্ত করেছেন, সেই মতামত বালবিধবাকে জোর ক'রে বিধব! রাখ্বার স্বপক্ষে, কৌলিন্তপ্রথা বজায় রাখবার স্বপক্ষে প্রয়োগ করুলে যে আর পাঁচজনের হাসি পাবে না কেন, তা বুব্তে পারিনে।

আমাদের সমাজ সামাজিক নিয়ম বহুকাল হ'তে চলে, আস্ছে, আচারে ব্যবহারে আমরা অভ্যাসের দাস আমাদের শিক্ষা নূতন, সে শিক্ষায় আমাদের মনের বদল হয়েছে। আমাদের সামাজিক ব্যবহারে আমাদের মনের ভাবে মিল

বীরবলের হালখাতা

নেই। ধীর! মনকে মান্গষের সর্বশ্রেষ্ঠ অংশ বলে" বিশ্বাস করেন, তাঁদের সহজেই ইচ্ছা হয় যে ব্যবহার মনের অন্থরূপ করে আনি। অপর পক্ষে ধার! ছুর্ববল, ভীরু অক্ষম, অথচ বুদ্ধিমান-ত্ীরা চেষ্টা করেন তর্কযুক্তির সাহায্যে মনকে ব্যবহারের অনুরূপ করে” আনি এই উদ্দেশ্টে যে তর্কযুক্তি খুজে পেতে বা'র করা হয়, তারি নাম বিজ্ঞভাব! আমরা বাঙ্গালীজাতি সহজেই দূর্বল, ভীরু অক্ষম, সুতরাং স্বভাবের

বলে আমরা না ভেবে চিন্তে বিজ্ঞের পদানত হই,_-এই হচ্ছে লার কথা

বৈশাখ, ১৩০৯

কথার কথা

সম্প্রতি বাঙ্গল৷ ব্যাকরণ নিয়ে আমাদের ক্ষুত্র সাহিত্য-সমাজে একটা বড় রকম বিবাদের স্থত্রপাত হয়েছে আমি বৈয়াকরণ নই, হবারও কোন ইচ্ছে নেই। আলেক্জান্দ্রিয়ার বিখ্যাত লাইব্রেরী মুসলমানরা ভম্মসাৎ করেছে বলে" সাধারণতঃ লোকে ছুঃখ করে? থাকে, কিন্ত প্রসিদ্ধ ফরাসী লেখক 11006215175 এর মনোভাব এই যে, ছাই গেছে বাচা গেছে! কেন না, সেখানে অভিধান ব্যাকরণের এক লক্ষ গ্রন্থ ছিল। “বাব! শুধু কথার উপর এত কথা! আমিও 1100651879এর মতে সায় দিই। যেহেতু আমি ব্যাকরণের কোন ধার ধারিনে, স্থতরা কোন খধিখণমুক্ত হবার জন্য বিচারে আমার . যোগ দেবার কোন আবশ্তক ছিল না। কিন্তু তর্ক জিনিসট! আমাদের দেশে তরল পদার্থ, দেখতে না দেখতে বিষয় হ'তে বিষয়ান্তরে অবলীলাক্রমে গড়িয়ে যাওয়াটাই তার স্বভাব। তর্কটা সুরু হয়েছিল ব্যাকরণ নিয়ে, এখন মাঝামাঝি অবস্থায় অলঙ্কার শাস্ত্রে এসে পৌচেছে, শেষ হবে বোধ হয় বৈরাগ্যে। সে যাই হোক্‌, পণ্ডিত শরচ্চন্দ্র শাস্ত্রী মহাশয় এই মত প্রচার করছেন যে, আমর! লেখায় যত অধিক সংস্কৃত শব আমদানি কর্ব, ততই আমাদের সাহিত্যের মঙ্গল আমার ইচ্ছে বাঙ্গল!

বীরবলের হালখাতা

সাহিত্য বাঙ্গলা ভাষাতেই লেখা হয়। ছুর্ববলের স্বভাব, নিজের পায়ের উপর ভর দিয়ে দাড়াতে পারে না। বাইরের একটা আশ্রয় আাক্ড়ে ধরে, রাখতে চায়। আমর! নিজের উন্নতির জন্যে পরের উপর নির্ভর করি। স্বদেশের উন্নতির জন্যে আমরা বিদেশীর মুখাপেক্ষী হয়ে রয়েছি, এবং একই কারণে নিজভাষার শ্রীবৃদ্ধির জন্যে অপর ভাষার সাহাষা ভিক্ষা করি। অপর ভাষা যতই শ্রেষ্ঠ হোক না কেন, তার অঞ্চল ধরে" বেড়ানোটা কি মনুষ্যত্বের পরিচয় দেয়? আমি বলি আমরা নিজেকে একবার পরীক্ষা করে; দেখি না কেন? ফল কি হবে কেউ বল্তে পারে না, কারণ কোন সন্দেহ নেই যে, সে পরীক্ষা আমরা পূর্বে কখনও করিনি যাক্‌ ওসব বাজে কথা আমি বাঙ্গালাভাষ। ভালবাসি, সংস্কৃতকে ভক্তি করি। কিন্তু শাস্ত্র মানিনে যে, যাকে শ্রদ্ধা করি তারই শ্রাদ্ধ করতে হবে। আমার মত ঠিক, কিম্বা শাস্ত্রী মহাশয়ের মত ঠিক, সে বিচার আমি করুতে বসিনি। শুধু তিনি যে যুক্তি দ্বারা নিজের মত সমর্থন কর্‌তে উদ্যত হয়েছেন, তাই আমি যাচিয়ে দেখতে চাই |

(২) কেউ হয়ত প্রথমেই জিজ্ঞাসা কর্তে পারেন, বাঙ্গলাভাষা কাকে বলে? বাঙ্গালীর মুখে প্রশ্থ শোভা পায় না! প্রশ্নের সহজ উত্তর কি এই নয় যে, যে ভাষা আমরা সকলে জানি, শুনি, বুঝি; যে ভাষায় আমরা ভাবনা, চিন্তা, স্থখ, ছুংখ বিন।

কথার কথা

আয়াসে বিন! ক্লেশে বহুকাল হ'তে প্রকাশ করে, আস্ছি, এবং সম্ভবতঃ আরও বহুকাল পধ্যস্ত প্রকাশ করুব, সেই ভাষাই বাঙ্গলাভাষ। ? বাঙ্গলাভাষার অস্তিত্ব প্রকতিবাদ অভিধানের ভিতর নয়, বাঙ্গালীর মুখে কিন্তু অনেকে দেখতে পাই এই অতি সহজ কথাটা স্বীকার কর্তে নিতান্ত কুষ্ঠিত। শুনতে পাই কোন কোন শাস্ত্রজ্ঞ মৌলবী বলে” থাকেন যে, দিল্লীর বাদসাহ যখন উর্দ্,ভাষ। সুষ্টি করতে বস্লেন, তখন তার অভি- প্রার ছিল একেবারে খাটি ফার্সীভাষা তৈয়ারী করা, কিন্তু বেচারা হিন্দুদের কান্রীকাটিতে রুপা-পরবশ হ'য়ে হিন্দীভাষার কতকগুলি কথা উদ্দতে ঢুকৃতে দিয়েছিলেন! আমাদের মধ্যেও হয়ত . শান্ত্রজ্ঞ পণ্ডিতদের বিশ্বাস যে, আছিশ্রের আদিপুরুষ যখন গৌড়ভাষা স্থষ্টি করতে উদ্যত হলেন, তখন তার স্বল্প ছিল যে ভাষাটাকে বিলকুল সংস্কৃত ভাষা! করে” তোলেন, শুধু গৌড়বাসীদের প্রতি পরম অন্গৃকম্পাবশতঃ তাদের ভাষার গুটিকতক কথা বাঙ্গলাভাষায় ব্যবহার করুতে অনুমতি দিয়ে- ছিলেন। এখন ধারা সংস্কৃত-ব্ুল ভাষ। ব্যবহার কর্বার পক্ষপাতী, তারা ঘে গোড়ায় গলদ হয়েছিল তাই শুধরে নেবার জন্যে উতৎ্কন্টিত হয়েছেন আমাদের ভাষায় অনেক অবিকৃত

স্কৃত শব আছে, সেইগুলিকেই ভাষার গোড়াপত্তন ধরে? নিয়ে, তার উপর যত পারো আরও সংস্কৃত শব্ধ চাপাও--কালক্রমে বাঙ্গলায় সংস্কৃতে দ্ৈতভাব থাকৃবে না।_আসলে জ্ঞানী- লোকের কাছে এখনো নেই মাহা এর, বলে”

বীরবলের হালখাতা

আমরা সংস্কৃত বাঙ্গলায় অদবৈতবাদী হয়ে উঠতে পার্ছিনে। বাঙ্গলায় ফার্সী কথার সংখ্যাও বড় কম নয়, ভাগ্যক্রমে ফাসীপড়। বাঙ্গালীর সংখ্যা বড় কম। ৫নলে সম্ভবতঃ তারা বল্তেন বাঙ্গলাকে ফার্সীবহুল করে” তোল মধ্যে থেকে আমাদের ম৷ সরন্বতী, কাশী যাই কি মক্কা যাই, এই ভেবে আকুল হতেন। এক একবার মনে হয় উভয় সঙ্কট ছিল ভাল, কারণ একেবারে পণ্ডিতমগ্ডলীর হাতে পড়ে” মার আশু কাশীপ্রাপ্তি হবারই অধিক সম্ভাবনা

৪]

এই প্রসঙ্গে পগ্ডিতপ্রবর সভীশচন্দ্র বিদ্যাভূষণ মহাশয়ের প্রথম বক্তব্য এই যে, সাহিত্যের উৎপত্তি মান্গষের অমর হবার ইচ্ছায়। যা কিছু বর্তমান আছে, তার কুলুজি লিখ্তে গেলেই, গোড়ার দিকটে গোঁজামিল দিয়ে সাবৃতে হয়। বড় বড় দার্শনিক বৈজ্ঞানিক, যথা শঙ্কর 5796750891 প্রভৃতিও এঁ উপায় অবলম্বন করেছেন স্থতরাৎ কোনও জিনিসের উৎপত্তির মূল নির্ণয় কর্তে যাওয়াট। বৃথা পরিশ্রম কিন্তু কথ নির্ভয়ে বলা যেতে পারে যে, আর যা হ'তেই হোক্‌, অমর হবার ইচ্ছে থেকে সাহিত্যের উত্পত্তি হয়নি প্রথমতঃ অমরত্বের ঝুঁকি আমরা সকলে সামলাতে পারিনে, কিন্তু কলম চালাবার জন্য আমাদের অনেকেরই আঞ্গুল নিস্পিস্‌ করে। যদি ভাল মন্দ মাঝারি আমাদের প্রতি কথা, প্রতি কাজ চিরস্থায়ী হবার তিলমাত্র .

১২

কথার কথ।

সম্ভাবনা থাকৃত, তাহ'লে মনে করে” দেখুন আমরা ক'জনে মুখ খুলতে কিম্বা হাত তুল্‌্তে সাহসী হতুম? অমরত্বের বিভীষিকা চোখের উপর থাকলে, আমরা যা 2:5০ তা ব্যতীত কিছু বল্‌্তে কিন্বা কর্‌তে রাজি হতুম না। আর আমরা সকলেই মনে মনে জানি যে, আমাদের অতি ভাল কাজ, অতি ভাল কথাও 7975০0০এর অনেক নীচে আসল কা, মৃত্যু আছে বলে' বেঁচে স্থখ। পুণ্যক্ষ হবার পর আবার মন্ত্যলোকে ফিরে আসবার সম্ভাবনা আছে বলে"ই দেবতার! অমরপুরীতে ক্ফৃর্তিতে বাস করেন, তা নাহলে স্বর্গও তাদের অসহা হ'ত। সেযাই হোক্‌, আমরা মানুষ, দেবতা নই,__ স্থতরাং আমাদের মুখের কথা দৈববাণী হবে, ইচ্ছা! আমাদের মনে স্বাভাবিক নয়।

দ্বিতীয়তঃ, যদি কেউ শুধু অমর হবার জন্যে লিখব, এই কঠিন পণ করে” বসেন,__ তাহ'লে সে ইচ্ছা! সফল হবার আশা কত কম বুঝতে পারলে, তিনি যদি বুদ্ধিমান হন তাহ”লে লেখা হ'তে নিশ্চয়ই নিবৃত্ত হবেন। কারণ সকলেই জানি যে, হাজারে নখ নিরনব্বই জনের সরস্বতী সৃতবৎসা তা ছাড়া সাহিত্যজগতে মড়ক অষ্টপ্রহর লেগে রয়েচে। লাখে এক বাঁচে, বাদবাকির প্রাণ দু'দণ্ডের জন্যও নয়। চরক পরামর্শ দিয়েছেন, যে দেশে মহামারীর প্রকোপ, সে দেশ ছেড়ে পলায়ন করাই কর্তব্য | অমর হবার ইচ্ছায় আশায়, কে সে রাজ্যে প্রবেশ কর্‌তে চায়?

১৩

বীরবলের হালখাতা

(৪ )

বিছ্ভাভূষণ মহাশয়ের আরও বক্তব্য এই যে, জীয়স্ত ভাষার ব্যাকরণ করতে নেই, তাহলেই নির্াত মরণ। সংস্কৃত মৃতভাষা, কারণ ব্যাকরণের নাগপাশে বদ্ধ হ+য়ে সংস্কৃত প্রাণত্যাগ করেছে আরও বক্তব্য এই যে, মুখের ভাষার ব্যাকরণ নেই, কিন্ত লিখিত ভাষার ব্যাকরণ নইলে চলে না। প্রমাণ_সংস্কৃত শুধু অমরত্ব লাভ করেছে, পালি প্রভৃতি প্রারুত ভাষা! একেবারে চিরকালের জন্য মরে? গেছে অর্থাৎ, এক কথায় বল্তে গেলে, যে কোন ভাষারই হোক্‌ না কেন, চিরকালের জন্য বাচতে হলে আগে মর! দরকার তাই যদি হয়, তাহ'লে বাঙ্গল৷ যদি ব্যাকরণের দড়ি গলায় দিয়ে আত্মহত্যা কর্‌তে চায়, তাতে বিষ্াভৃষণ মহাশয়ের আপত্তি কি? তার মতান্থসারে মের ছুয়োর দিয়ে অমরপুরীতে ঢুকৃতে হয়! তিনি আরও বলেন যে, পালি প্রভৃতি প্রাকৃত ভাষায় হাজার হাজার গ্রন্থ রচিত হয়েছে, কিন্তু প্রাকৃত সংস্কৃত নয় বলে” পালি প্রস্তুতি ভাষা লুপ্ত হ'য়ে গেছে অতএব, বাঙ্গলা যতটা সংস্কৃতের কাছাকাছি নিয়ে আস্তে পারো, ততই তার মঙ্গল। যদি বিদ্যাভৃষণ মহাশয়ের মত সত্য হয়, তাহ'লে -স্কৃতবহুল বাঙ্গলায় লেখা কেন, একেবারে সংস্কৃত ভাষাতেই আমাদের লেখ কর্তব্য কারণ তাহ'লে অমর হবার বিষয় আর কোনও স্দেহ থাকে না। কিন্তু একটা কথা আমি ভাল বুঝ তে পার্ছিনে ; পালি প্রভৃতি ভাষা মৃত সত্য, কিন্তু সংস্কতও কি মৃত নয়? দেবভাষা অমর হ'তে পারে, কিন্ত

১৪

কথার কথা

ইহলোকে নয়। সংসারে মৃত্যুর হাত কেউ এড়াইতে পারে না। পালিও পারে নি, সংস্কৃতও পারে নি, আমাদের মাতৃভাষাও পারুবে না। তবে ষে ক'দিন বেঁচে আছে, সে ক'দিন সংক্কতের মৃতদেহ স্বন্ধে নিয়ে বেড়াতে হবে, বাঙ্গলার উপর কঠিন পরিশ্রমের বিধান কেন? বাঙ্গলার প্রাণ একটুখানি, অতথানি চাপ সইবে না।

(৫ )

বিষয়ে শাস্ত্রী মহাশয়ের বক্তব্য যদি ভূল না বুঝে" থাকি, তাহ'লে তার মত সংক্ষেপে এই দাড়ায় যে, বাঙ্গলাকে প্রায় সংস্কত করে আন্লে, আসামী হিন্দুস্থানী প্রভৃতি বিদেশী লোকদের পক্ষে বঙ্গভাষা শিক্ষাটা! অতি সহজপাধ্য ব্যাপার হয়ে উঠ্বে। দ্বিতীয়তঃ, অন্য ভাষার যে স্থবিধাটুকু নেই, বাঙ্গলার তা আছে যেকোন সংস্কৃত কথা যেখানে হোক্‌ লেখায় বসিষে দিলে বাঙ্গল। ভাষার বাগলাত্ব নষ্ট হয় না। অর্থাৎ ধারা আমাদের ভাষা জানেন না, তারা যাতে সহজে বুঝতে পারেন সেই উদ্দেস্টে, সাধারণ বাঙ্গালীরপক্ষে আমাদের লিখিত ভাষ৷ হুর্ববোধ ক'রে তুলতে হবে! কথাটা এতই অন্ভুত যে, এর কি উত্তর দেবো ভেবে পাওয়া যায় না। হ্তরাং তার অপর মতটি ঠিক কিন। দেখা যাক়। আমাদের দেশে ছোট ছেলেদের বিশ্বাস যে, বাঙ্গলা কথার পিছনে অন্ুম্বর জুড়ে দিলে সংস্কৃত হয়, আর প্রাপ্তবয়স্ক লোকদের মত যে, সংস্কৃত কথার অন্গস্বর

১৫

বীরবলের হালখাত।

বিসর্গ ছে'টে দিলেই বাঙ্গলা হয়। ছুটো বিশ্বাসই সমান সত্য। বাদরের ল্যাজ কেটে দিলেই কি মানুষ হয়? শাস্ত্রী মহাশয় উদাহরণ স্বরূপে বলেছেন, হিন্দীতে “ঘর্মে যায়গা” চলে, কিন্ত “গৃহমে যায়গা” চলে না,_-ওটা তুল হিন্দী হয়। কিন্তু বাঙ্গলায় ঘরের বদলে গৃহ যেখানে সেখানে ব্যবহার কর! যায়। অর্থাৎ সকল ভাষার একটা নিয়ম আছে, শুধু বাঙ্গল! ভাষার নেই। যার যা খুসী লিখতে পারি, ভাষ। বাঙ্গলা হতেই বাধ্য বাঙ্গলা ভাষার প্রধান গুণ যে, বাঙ্গালী কথায় লেখায় যথেচ্ছাচারী হতে পারে! শাস্ত্রী মহাশয়ের নির্বাচিত কথ! দিয়েই তার তুল ভাঙ্গিয়ে দেওয়া যায়। “ঘরের ছেলে ঘরে যাও, ঘরের ভাত বেশী করে” খেয়ো” এই বাক্যটি হতে কোথাও “ঘর” তুলে দিয়ে 'গৃহ' স্থাপনা করে" দেখুন কানেই বা কেমন শোনায়, আর মানেই বা কত পরিষ্কার হয়?

( ৬)

আসল কথাটা কি এই নয় যে লিখিত ভাষায় আর মুখের ভাষায় মূলে কোন প্রভেদ নেই? ভাষা ছুয়েরই এক, শুধু প্রকাশের উপায় ভিন্ন। একদিকে স্বরের সাহায্যে, অপর দিকে অক্ষরের সাহায্যে বাণীর বসতি রসনায়। শুধু মুখের কথাই জীবস্ত। ফতদুর পারা যায়, যে ভাষায় কথা কই সেই ভাষায় লিখৃতে পার্লেই লেখা প্রাণ পায়। আমাদের প্রধান চেষ্টার বিষয় হওয়া উচিত কথায় লেখায় এক্য রক্ষা করা,

১৬

কথার কথ!

এঁক্য নষ্ট কর! নয়! ভাষা মানুষের মুখ হ'তে কলমের মুখে আসে, কলমের মুখ হ'তে মানুষের মুখে নয়। উল্টোটা চেষ্টা কর্তে গেলে মুখে শুধু কালি পড়ে। কেউ কেউ বলেন যে, আমাদের ভাবের এশ্বধ্য এতটা! বেড়ে গেছে যে বাপ ঠাকুরদাদার ভাষার ভিতর তা আর ধরে” রাখা যায় না কথাটা! ঠিক হ'তে পারে, কিন্তু বাঙ্গল! সাহিত্যে তার বড় একট! প্রমাণ পাওয়া যায় না। কনাদের মতে “অভাব, একটা পদার্থ। আমি হিন্দুস্তান, কাজেই আমাকে বৈশেষিক দর্শন মান্তে হয়; সেই কারণেই আমি স্বীকার কর্তে বাধ্য যে, প্রচলিত বাঙ্গল। সাহিত্যেও অনেকটা পদার্থ আছে। ইংরেজী সাহিত্যের ভাব» সংস্কৃত ভাষার শব্ধ, বাঙ্গল! ভাষার ব্যাকরণ,_-এই তিন চিজ, মিলিয়ে যে খিচুড়ি 'যের করি, তাকেই আমরা বাজলা সাহিত্য বলে” থাকি বলা বাহুল্য ইংরেজী না জান্লে তার ভাব বোঝা যায় না। আমার এক এক সময়ে সন্দেহ হয় যে, হয়ত বিদেশের ভাব পুরাকালের ভাষা, এই ছুয়ের আওতার ভিতর পড়ে? বাঙ্গলা সাহিত্য ফুটে” উঠতে পারছে না। কথা আমি অবশ্ত মানি যে, আমাদের ভাষায় কতক পরিমাণে নৃতন কথা আন্বার দরকার আছে। যার জীবন আছে, তারই প্রতিদিন খোরাক যোগাতে হবে। আর আমাদের ভাষার দেহপুই করুতে হ'লে প্রধানতঃ অমরকোষ থেকেই নৃতন কথা টেনে মান্তে হবে। কিন্তু যিনি নৃতন সংস্কৃত কথা ব্যবহার ক্র্বেন, চার এইটি মনে রাখা উচিত যে, তাঁর আবার নৃতন করে,

৮৫ ১৭

বীরবলের হালখাতা

প্রতি কথাটির প্রাণ-প্রতিষ্টা করৃতে হবে; তা ঘদি না পারেন তাহ'লে সরস্বতীর কানে শ্বধু পরের সোন! পরানো হবে। বিচার না করে” একরাশ সংস্কৃত শব্দ জড় করলেই, ভাষারও শ্রীবৃদ্ধি হবে না, সাহিত্যেরও গৌরব বাড়বে না, মনোভাবও পরিষ্কার করে" ব্যক্ত করা হবে না। ভাষার এখন শানিক়ে ধার বা”র করা আবশ্যক, ভার বাড়ানো নয়। যে কথাটা নিতান্ত না হ'লে নয়, সেটি যেখান থেকে পারো নিয়ে এসো, যদি নিজের ভাষার ভিতর তাকে খাপ, খাওয়াতে পারো কিন্তু তার বেশী ভিক্ষে, ধার, কিন্বা চুরি করে এনো না। ভগবান পবননন্দন বিশল্যকরণী আন্তে গিয়ে আন্ত গন্ধমাদন ষে সমূলে উত্পাটন করে এনেছিলেন, তাতে তার অসাধারণ ক্ষমতার পরিচয় বদয়েছেন__কিন্ত বুদ্ধির পরিচয় দেন নি।

জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৯

৬৮

আমরা তোমর! (১) তোমরা আমরা বিভিন্ন। কারণ তোমরা তোমরা, এবং আমরা আমরা! তা যদি ন! হ'ত, তা হলে ইউরোপ এসিয়। ছুই, ছুই হ'ত না”_এক হ'্ত। আমি তুমির প্রভেদ থাকৃত না। আমর! তোমরা উভয়ে মিলে, হয় শুধু আমরা হতুম, না হয় শ্বধু তোমরা হ'তে 6২) আমরা পূর্ব, তোমরা পশ্চিম। আমরা আরম্ত, তোমরা শেষ। আমাদের দেশ মানব-সভ্যতার স্যতিকা গৃহ, তোমাদের দেশ মানব-সভ্যতার শ্বশুন।. আমরা উষা, তোমরা গোধূলি আমাদের অন্ধকার হ'তে উদয়, তোমাদের অন্ধকারের ভিতর বিলয়। | ( ৩) | আমাদের রং কালো, তোমাদের রং সার্দা। আমাদের বসন সাদা, তোমাদের বসন কালো তোমরা! শ্বেতাঙ্গ ঢেকে রাখো, আমরা কৃষ্ণদেহ খুলে রাখি। আমরা খাই সাদ! জল, তোমরা খাও লাল পানি। আমাদের আকাশ আগুন, তোমাদের আকাশ ধোয়া। নীল তোমাদের স্ত্রীলোকের চোখে, সোনা তোমাদের স্ত্রীলোকের মাথায়; নীল আম্মাকে “শত্রে*এমান।

১৯

আমাদের মাটির নীচে। তোমাদের আমাদের অনেক বর্ণভেদ। ভূলে" যেন না যাই যে, তোমাদের দেশ আমাদের দেশের মধ্যে কালাপানির ব্যবধান। কালাপানি পার হ'লে আমাদের জাত যায়, না হ'লে তোমাদের জাত থাকে না। | (৪ )

তোমরা দ্ধ, আমর! প্রস্থ আমরা নিশ্চল, তোমরা চঞ্চল। আমর! ওজনে ভারি, তোমরা দামে চড়া অপরকে বশীভূত কবুবার তোমাদের মতে একমাত্র উপায়__গায়ের জোর, আমাদের মতে একমাত্র উপায়--মনের নরম ভাব। তোমাদের পুরুষের হাতে ইস্পাৎ্, আমাদের মেয়েদের হাতে লোহ!। আমর! বাচাল, তোমর! বধির আমাদের বুদ্ধি স্ুপ্ম্র--এত সক্ষম যে, আছে কি ন। বোঝা কঠিন তোমাদের বুদ্ধি স্থল, এত স্থল যে, কতখানি আছে তা বোঝা কঠিন। আমাদের কাছে যা সত্য, তোমাদের কাছে তা কল্পনা,-আর তোমাদের কাছে যা সত্য, আমাদের কাছে তা স্বপ্র।

(৫ )

তোমরা বিদেশে ছুটে বেড়াও, আমরা ঘরে শুয়ে থাকি। আমাদের সমাজ স্থাবর, তোমাদের সমাজ জঙ্গম। তোমাদের আদর্শ জানোয়ার, আমাদের আদর্শ উদ্ভিদ তোমাদের নেশা ম্দ, আমাদের নেশা! আফিং। তোমাদের স্থখ ছট্ফটানিতে, আমাদের সখ ঝিমুনিতে। স্থুখ তোমাদের 10581, দুঃখ আমাদের 7521. তোমরা চাও দুনিয়াকে জয় কব্বার বল,

২০

আমরা তোমরা

আমরা চাই ছুনিয়াকে ফাকি দেবার ছল। তোমাদের লক্ষ্য আরাম, আমাদের লক্ষ্য বিরাম। তোমাদের নীতির শেষ কথা শ্রম, আমাদের আশ্রম ( ৬) তোমাদের মেয়ে প্রায় পুরুষ, আমাদের পুরুষ প্রায় মেয়ে বুড়ো হ'লেও তোমাদের ছেলেমি যায় না, _ছেলেবেলাও আমরা! বুড়োমিতে পরিপূর্ণ আমরা বিয়ে করি যৌবন না আস্তে, তোমরা বিয়ে কর যৌবন গত হ'লে তোমরা যখন সবে গৃহপ্রবেশ কর, আমর! তখন বনে যাই 3 তোমাদের আগে ভালবাসা, পরে বিবাহ,_আমাদের আগে বিবাহ, পরে ভালবাসা আমাদের বিবাহ হয়, তোমরা বিবাহ “কর? আমাদের ভাষায় মুখ্য ধাতু “ভূ, তোমাদের ভাষায় “কক*। তোমাদের রম্ণীদের রূপের আদর আছে, আমাদের রমশীদের গুণের কদর নেই। তোমাদের স্বামীদের পাণ্ডিত্য চাই অর্থশান্পে, আমাদের স্বামীদের পাগ্ডিত্য চাই ' অলঙ্কারশান্ত্রে (৮) অর্থাৎ এক কথায়, তোমরা যা চাও আমরা তা চাইনে, আমরা যা চাই তোমরা তা! চাঁও না,__তোমরা যা পাও আমরা তা পাইনে, আমরা যা পাই তোমরা এক, তোমরা চাও অনেক

২১

পর্ন উিধ

পার্থানদকাডান্বীম্ীভাইলাইত্রের কানু পাই” 9 ন৯$৮--াশিশ

বীরবলের হালখাতা

তোমরা অনেকের বদলে পাও একের পিঠে অনেক শৃন্য। তোমাদের দার্শনিক চায় যুক্তি, আমাদের দার্শনিক চায় মুক্তি। তোমরা চাও বাহির, আমর! চাই ভিতর তোমাদের পুরুষের জীবন বাড়ীর বাহিরে, আমাদের পুরুষের মরণ বাড়ীর ভিতর আমাদের গান, আমাদের বাজন৷ তোমাদের মতে শুধু বিলাপ; তোমাদের গান, তোমাদের বাজনা আমাদের মতে শুধু প্রলাপ তোমাদের বিজ্ঞানের উদ্দেস্ত সব জেনে কিছু না জানা, আমাদের জ্ঞানের উদ্দেন্ঠ কিছু না জেনে সৃব জানা ।. তোমাদের পরলোক

এশা

স্বর্গ” আমাদের ইহলোক নরক কাজেই পরলোক তোমাদের গম্য, ইহলোক আমাদের ত্যাজয। তোমাদের ধশ্মমতে আত্মা অনাদি নয় কিন্তু অনন্ত, আমাদের ধর্মমতে আত্ম অনাদি কিন্ত অনন্ত নয়”-তার শেষ নির্বাণ। পূর্তেই বলেছি প্রাচী প্রতীচী পৃথক। আমরাও ভাল, তোমরাও ভাল,-শুধু তোমাদের ভাল আমাদের মন্দ; আমাদের ভাল তোমাদের মন্দ। স্থৃতরাং অতীতের আমরা বর্তমানের তোমরা, এই ছুয়ে মিলে যে ভবিষ্যতের তারা হবে--তাও অসম্ভব

শ্রাবণ, ১৩০৯

১৬

শ্রীমতী ভারতী-সম্পাদিকা! নৃতন বৎসরের প্রথম দিন হ'তে ভারতীর জন্য একটা খেয়াল খাতা! খুল্বেন। এই অভিপ্রায়ে ধারা লেখেন, কিন্বা লিখতে পারেন, কিন্বা ধাদের লেখা! উচিত, কিম্বা লিখতে পার! উচিত,_-এমন অনেক লোকের কাছে ছু' এক কলম লেখার নিমন্ত্রণ পাঠিয়েছেন উপরোক্ত চারটি দলের মধ্যে আমি যে ঠিক কোথায় জাছি, তা জানিনে। তবুও ভারতী-সম্পাদিকার সাদর নিমন্ত্রণ রক্ষা! কর। কর্তব্য বিবেচনায়, ছু"চার ছত্র রচনা করতে উদ্যত হরেছি। ভারতী-সম্পাদিকা ভরসা দিয়েছেন যে, যা” খুসী লিখলেই হবেকোন বিশেষ বিষয়ের অবতারণ| কিম্বা আলোচনা কর্বার দরকার নেই প্রস্তাবে অপরের কি হয় বল্তে পারিনে, আমার ভরসার চাইতে ভয় বেশী হয়। আমাদের মন সহজে এবং শিক্ষার গুণে এতটা বৈষয়িক যে, বিষয়ের অবলম্বন ছেড়ে দিলে আমাদের মানের ক্রিয়া বন্ধ হয়, বল্বার কথা আর কিছু থাকে না। হাওয়ার উপর চল! যত সহজ, ফ্লাকার উপর লেখাও তত সহজ গণিতশান্ত্রে যাই হোক্‌, সাহিত্যে শৃন্যের উপর শুন্য চাপিয়ে কোন কথার গুণবৃদ্ধি করা যায় না। বিনিস্ৃতার মাল! ফ্রমাস দেওয়া যত সহজ, গাথা তত সহজ নয়। বিদ্যের

৮৯৬

বীরবলের হালখাতা

সন্ধান শতেকে জনেক জানে আসল কথা, আমর। সকলেই গভীর নিজ্রামগ্র, শুধু কেউ কেউ ন্বপ্র দেখি। ভারতী- সম্পাদিকার ইচ্ছা এই শেষোক্ত দলের একটু বক্বার স্থবিথে করে? দেওয়া (৮1 2

খেয়াল খাতা ভারতীর টাদার খাতা স্বেচ্ছায় স্বচ্ছন্দ- চিত্তে যিনি যা” দেবেন, তা” সাদরে গ্রহণ কর! হবে। আধুলি সিকি ছুয়ানি কিছুই ফেরৎ যাবে না, শুধু ঘসা পয়সা মেকি চল্বে না। কথা যতই ছোট হোক, খাটি হওয়া চাই,তার উপর চকৃচকে হলে কথাই নেই। যে ভাব হাজার হাতে ফিরেছে, যার চেহারা বলে? জিনিসটা লুপ্রপ্রায় হয়েছে, অতি পরিচিত বলে” যা আর কারো নজরে পড়ে না, সে ভাব খেয়াল খাতায় স্থান পাবে না। নিতান্ত পুরাণো চিন্তা, পুরাণো ভাবের প্রকাশের জন্য স্বতন্ত্র ব্যবস্থা আছে,_-আর্টিকেল লেখা আমাদের কাজের কথায় যখন কোন ফল ধরে না, তখন বাজে কথার ফুলের চাষ কবৃলে হানি কি? যখন আমাদের ক্ষধা নিবৃত্তি করবার কোন উপায় করতে পার্ছিনে, তখন দিন থাকৃতে সখ মিটিয়ে নেবার চেষ্ট! করাটা আবশ্যক আর কথা বলা বাহুল্য, ধেখানে কেনা-বেচার কোন সম্বন্ধ নেই,_ব্যাপারটা হচ্ছে শুধু দান গ্রহণের,__সে স্থলে কোন ভদ্রসন্তান মসিজীবী হলেও, যে-কথা নিজে সম্পূর্ণ বিশ্বাস করেন না কিন্বা ঝুটো বলে" জানেন, তা” চালা ভ্ুচেষ্টা করুবেন না। আমরা কাধ্য-

২৪

খেয়াল খাতা

জগতে যখন সাচ্চা হ'তে পারিনে, তখন আশা করা যায় কল্পনা- জগতে অলীকতার চচ্চা করব না। এই কারণেই বল্ছি ঘসা পয়সা মেকি চল্বে ন1। (৩) খেয়ালী লেখ। বড় দুশ্রাপ্য জিনিস। কারণ সংসারে বদ.

পন ০৭ বা উপরও

খেয়ালী লো লোকের রকিছুব কমৃতি নেই, কিন্ত খেয়ালী লোকের বড়ই বড়ই, অভাব, 1 ব। অধিকাঁশ মা মানুষ যা করে, তা আয়াসসাধ্য | পঁধারণ লোকের পক্ষে একটুখানি ভাব, অনেকখানি ভাবনার ফল। মান্ষের পক্ষে চেষ্ট। করাটাই স্বাভাবিক, স্থৃতরাৎ সহজ | স্বতঃ- উচ্ছৃসিত চিন্ত। কিম্বা ভাঁব শুধু ছু'এক জনের নিজ প্রকৃতিগুণে হয়। যা” আপনি হয়, তা” এতই শ্রেষ্ঠ এতই আশ্চর্যজনক যে, তার মূলে আমরা দৈবশক্তি আরোপ করি। জগত-সষ্টি ভগবানের লীল। বলেই এত প্রশন্ত, এবং আমাদের হাতে গড় জিনিস কষ্টসাধ্য বলেই এত সঙ্কীর্ণ। তবে আমাদের সকলেরই মনে বিনা ইচ্ছাতেও যে নানাপ্রকার ভাবনা-চিস্তার উদয় হয়, কথ। অস্বীকার কর্বার জে! নেই। কিন্তু সে ভাবনা-চিন্তার কারণ স্পষ্ট এবং রূপ অস্পষ্ট রোগ শোক দারিত্র্য প্রভৃতি নানা স্পষ্ট সাংসারিক কারণে আমাদের ভাবনা হয়, কিন্তু সে ভাবনা এতই এলোমেলে! যে, অন্যে পরে কা কথা, আমর! নিজেরাই তার খেই খুঁজে” পাইনে যা নিজে ধর্‌তে পারিনে, তা অন্তের কাছে ধরে? দেওয়। অসম্ভব; যে ভাব আমর! প্রকাশ করতে পারিনে, তাকে খেযাদ? বলা যায় না। খেয়াল

২৫

বীরবলের হালখাতা!

অনির্দিষ্ট কারণে মনের মধ্যে দিব্য একটি স্থস্পষ্ট স্থসম্বদ্ধ চেহার নিয়ে উপস্থিত হয়। খেয়াল রূপবিশিষ্ট, দুশ্চিন্তা তা নয়। (৪ )

খেয়াল অভ্যাস কর্বার পূর্বে খেয়ালের রূপনির্ণয় করাটা আবশ্যক, কারণ স্বরূপ জান্লে অনধিকারীরা বিষয়ের বৃথা চচ্চ! করবেন না। আমাদের লিখিত শাস্ত্রে খেয়ালের বড় উদাহরণ পাওয়া যায় না, স্বতরাৎ সঙ্গীতশাস্ত্র হ'তে এর আদর্শ নিতে হবে। এক কথায় বলতে গেলে, প্ুপদের অধীনতা হ'তে মুক্ত হবার বাসনাই খেয়ালের উৎপত্তির কারণ। এ্রুপদের ধীর, গম্ভীর, শুদ্ধ, শান্ত রূপ ছাড়াও, পৃথিবীতে ভাবের অন্য অনেক রূপ আছে। বিলম্বিত লয়ের সাহায্যে মনের সকল স্ফরপ্ডি, সকল আক্ষেপ প্রকাশ করা যায় শা স্ৃতরাং প্ুপদের কড়া শাসনের মধ্যে যার স্থান নেই,_যথা তান, গিটুকিরি ইত্যাদি,_তাই নিয়েই খেয়ালের আসল কারবার কিন্তু খেয়ালের স্বাধীন ভাব উচ্ছজ্ঘখল হ'লেও, যথেচ্ছাচারী নয়। খেয়ালী যতই কার্দানী করুন না কেন, তালচ্যুত কিনব! রাগত্রষ্ট হবার অধিকার তার নেই। জড় যেমন চৈতন্যের আধার, দেহ যেমন রূপের আশ্রয়- ভূমি, রাগও তেমনি খেয়ালের অবলম্বন বর্ণ অলঙ্কার বিন্তাসের উদ্দেশ্য রূপ ফুটিয়ে তোলা, লুকিয়ে ফেলা নয়। খেয়ালের চাল ধ্ুপদের মত সরল নয় বলে” মাতালের মৃত আকাবাকা নয়,_নর্তকীর মত বিচিত্র। খেয়াল ঞ্পদের বন্ধন যতই ছাড়িয়ে যাক না কেন, স্থরের বন্ধন ছাড়ায় না; তার

ন৬

খেয়াল খাতা! গতি সময়ে সময়ে অতিশয় দ্রুতলঘু হ'লেও, ছন্দঃপতন হয় ন|। গানও যে নিয়মাধীন, লেখাও সেই নিয়মাধীন। ধার মন সিধে পথ ভিন্ন চল্তে জানে না, ধার কল্পনা আপনা হতেই খেলে না, ঘিনি আপনাকে সম্পূর্ণ ছেড়ে দিতে পারেন না, অথবা ছেড়ে দিলে আর নিজবশে রাখতে পারেন না”_তীর খেয়াল লেখার চেষ্টা! ন৷ করাই ভাল। তাতে তীর শুধু গৌরবের লাঘব হবে। কূশদেহ পুষ্ট কর্বার চেষ্টা অনেক সময়ে ব্যর্থ হ'লেও, কখনই ক্ষতিকর নয়,-_কিন্তু স্থলদেহকে সুঙ্্ম করবার চেষ্টায় প্রাণসংশয় উপস্থিত হয়। ইঙ্গিতজ্ঞ লোকমাত্রেই উপরোক্ত কথা কটি সার্থকতা বুঝতে পার্বেন। 106)

আমার কথার ভাবেই বুঝতে পারছেন যে, আমি খেয়াল বিষয়ে একটু হাক্ক! অঙ্গের জিনিসের পক্ষপাতী চুট্ুকিও আমার অতি আদরের সামগ্রী, যদি স্থর খাঁটি থাকে ঢং ওস্তাদী হয়। আমার বিশ্বাস, আমাদের দেশের আজকাল প্রধান অভাব গুণপনাযুক্ত ছিব্লেমী। সম্বন্ধে কৈফিয়ৎ স্বরূপে দু'এক কথা বল! প্রয়োজন কোন ব্যক্তি কিম্বা জাতিবিশেষ যখন অবস্থা- বিপধ্যয়ে সকল অধিকার হ'তে বিচ্যুত হয়, তখন তার ছু'টি অধিকার অবশিষ্ট থাকে,_কাদ্বার হাস্বার। আমর! আমাদের সেই কাদ্বার অধিকার যোল-আনা বুঝে নিয়েছি, এবং নিত্য কাজে লাগাচ্ছি। আমরা কাদতে পেলে যত খুসী থাকি, এমন আর কিছুতেই নয় আমর! লেখায় কাঁদি, বক্তৃতায়

বণ

বীরবলের হালখাতা

কাদি। আমরা দেশে কেঁদেই সন্তুষ্ট থাকিনে, টাদা তুলে বিদেশে গিয়ে কাদি। আমাদের ত্বজাতির মধ্যে ধারা স্থানে, অস্থানে, এমন কি অরণ্যে পধ্যন্ত রোদন কর্‌তে শিক্ষা দেন, তারাই দেশের জ্ঞানী গুণী বুদ্ধিমীন প্রধান লোক বলে" গণ্য এবং মান্য যেখানে ফোমস্‌ করা উচিত, সেখানে ফোস্‌ ফৌস্‌ করলেই আমরা বলিহারি যাই। আমাদের এই কান্না দেখে কারও মন ভেজে না, অনেকের মন চটে (আমাদের নতুন সভ্যযুগের অপূর্ব স্থষ্টি স্যাসন্যাল কংগ্রেস, অপর সগ্ভজাত শিশুর মত ভূমিষ্ঠ হয়েই কান্না স্বর করে” দিলেন আর যদিও তা”র সাবালক হবার বয়স উত্তীর্ণ হয়েছে, তবুও বৎসরের ৩৬২ দিন কুস্তকর্ণের মত নিদ্রা দিয়ে, তারপর জেগে উঠেই তিন দিন ধরে' কোকিয়ে কান্না সমান চল্ছে। যদি কেউ বলে,ছি। অত কাদ কেন, একটু কাজ কর না,তা হ'লে তার উপর আবার চোখ রাডিয়ে ওঠে) বয়সের গুণে শুধু এটুকু উন্নতি হয়েছে। মনের দুঃখের কান্নাও অতিরিক্ত হ'লে কারও মায়া হয় না। কিন্তু কানন! ব্যাপারটাকে 'একটা! কর্তব্যকম্ম করে” তোলা শুধু আমাদের দেশেই সম্ভব হয়েছে আমরা সমস্ত দিন গৃহকর্ম করে”, বিকেলে গ! ধুয়ে, চুল বেঁধে, পা ছড়িয়ে যখন পুরাতন মাতৃবিয়োগের জন্য নিয়মিত এক ঘণ্টা ধরে” ইনিয়ে বিনিয়ে কাদতে থাকি, তখন পৃথিবীর পুরুষমান্ষদের হাসিও পায়, রাগও ধরে। সকলেই জানেন বে, কানা ব্যাপারটারও নানা পদ্ধতি আছে,__যথা, রোল কান্না, মড়া কান্না, ফুপিয়ে কান্না, ফুলে ফুলে কান্ন। ইত্যাদি,_

ন্হ৮

খেয়াল খাতা

কিন্ত আমরা শুধু অভ্যাস করেছি নাকে কান্না! এবং কথাও বোধ হয় সকলেই জানেন যে, সদারঙ্গ বলে* গেছেন খেয়ালে সব স্থর লাগে, শুধু নাকি স্থুর লাগে না। এই সব কারণেই আমার মতে এখন সাহিত্যের সর ব্দলানো প্রয়োজন করুণরসে ভারতবর্ষ স্যাত্সেতে হয়ে উঠেছে; আমাদের স্থখের জন্য না হোক্‌, স্বাস্থ্যের জন্যও হান্যরসের আলোক দেশম্য ছড়িয়ে দেওয়! নিতান্ত আবশ্যক হ'য়ে পড়েছে যদি কেউ বলে, আমাদের এই ছুদ্দিনে হাসি কি শোভ| পায়? তার উত্তর--ঘোর মেঘাচ্ছন্ন অমাবন্যার রাত্রিতেও কি বিদ্যুৎ দেখা! দেয় না, কিম্বা শোভা! পায় না? আমাদের এই অবিরত-ধারা অশ্রবৃষ্টির মধ্যে কেহ কেহ যদি বিদ্যুৎ স্থষ্টি করুতে পারেন, তা হ'লে আমাদের ভাগ্যাকাশ পরিষ্কার হবার একট] সম্ভাবনা হয়।

বৈশাখ, ১৩১২

২৯

মলাট-সমালোচন'

'সাহিত্য”-মম্পাদক মহাশয় সমীপেধু £--

“বারে হাত কাকুড়ের তেরো হাত বীচি” জিনিসটা দেশে একটা মস্ত ঠাট্রার সামগ্রী। কিন্তু বারে পাত বইয়ের তেরে পাত। সমালোচনা দেখে কারোই হাসি পায় না। অথচ বীজ পরিমাণে এক হাত কমই হোক আর এক হাত বেশীই হোক্‌, তার থেকে নতুন ফল জন্মায়; কিন্তু এরূপ সমালোচনায় সাহিত্যের কিংবা সমাজের কি ফললাভ হয়। বলা কঠিন। সেকালে যখন স্থএ আকারে মূল গ্রন্থ রচনা করবার পদ্ধতি প্রচলিত ছিল, তখন ভান্তে টাকায় কারিকায় তার বিস্তৃত ব্যাখ্যার আবশ্তকতা! ছিল। কিন্তু একালে যখন, যে কথা ছু কথায় বলা যায়, তাই ছু'শো কথায় লেখা হয়, তখন সমীলোচক- দের ভাস্তকার না হয়ে স্থত্রকার হওয়াই সঙ্গত। তারা যদি কোন নব্য গ্রস্থের খেই ধরিয়ে দেন, তা! হ*লেই আমরা পাঠকবর্গ, যথেষ্ট মনে করি। কিন্তু এরূপ করতে 'গেলে তাদের ব্যবসা মারা যায়। সুতরাং তারা যে সমালোচনার রীতি পরিবর্তন কবৃবেন, এরূপ আশ! করা নিক্ষল।

শ্রীযুক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অতুযুক্তির প্রতিবাদ করে? একটি প্রবন্ধ লেখেন। আমার ঠিক মনে নেই যে, তিনি সাহিত্যেও অত্যুক্তি যে নিন্দনীয়, কথাটা বলেছেন কি না। সে যাই হোক,

৩৩

মলাট-সমালোচন৷।

রবীন্দ্রবাবুর সেই তীব্র প্রতিবাদে বিশেষ কোন স্থৃফল হয়েছে বলে” মনে হয় না। বরং দেখতে পাই যে, অততযুক্তির মাত্রা ক্রমে সপ্তমে চড়ে” গেছে। সমালোচকদের অতুযুক্তিট! প্রায় প্রশংসা কর্বার সময়েই দেখা যায়। বোধ হয় তাদের বিশ্বাস যে, নিন্দা জিনিসটা সোজা! কথাতেই করা চলে, কিন্ত প্রশংসাকে ডালপাল৷ দিয়ে পত্রে পুষ্পে সাজিয়ে বা'র করা উচিত। কেন-ন৷ নিন্দুকের চাইতে সমাজে চাটুকারের মধ্যাদা অনেক বেশী। কিন্ত আসলে অতি-নিন্দা এবং অতি-প্রশৎসা উভয়ই সমান জঘন্ কারণ, অত্যুক্তির “অতি', শুধু স্থরুচি এবং ভন্্রতা নয়, সত্যেরও সীমা অতিক্রম করে” যায়। এক কথায়, অত্যুক্তি, মিথ্যোক্তি। মিছা! কথ! মানুষে বিনা কারণে বলে না। হয় ভয়ে, না হয় কোন স্বার্থসিদ্ধির জন্যই লোকে সত্যের অপলাপ করে। সম্ভবতঃ অভ্যাসবশতঃ মিখ্যাকে সত্যের অপেক্ষা অধিকমাত্রীয় কেউ চচ্চা করে। কোন বিশেষ উদ্দেশে মিথ্যা কথা বল! চর্চ। কর্‌লে, ক্রমে তা উদ্দেশ্টবিহীন অভ্যাসে পরিণত হয়। বাঙ্গলা-সাহিত্যে আজকাল যেরূপ নির্লজ্জ অতি-প্রশংসার বাড়াবাড়ি দেখতে পাওয়! যায়, তা”তে মনে হয় যে, তার মূলে উদ্দেশ্য এবং অভ্যাস ছুই জিনিসই আছে। এক একটি ক্ষুদ্র পুস্তকের যে-সকল বিশেষণে স্ততিবাদ করা হয়ে থাকে, সেগুলি বোধ হয় শেক্সপীয়র কিংবা কালিদাসের সম্বন্ধে প্রয়োগ করলেও একটু বেশী হ'য়ে পড়ে। সমালোচনা এখন বিজ্ঞাপনের মৃদ্তি ধারণ করেছে তার থেকে বোঝ! যায় যে, যাতে বাজারে

৩০

বইয়ের ভালরকম কাট্শস্ত' কয, সেই উদ্দেশে আজকাঙ্গ সমীলোচন। লেখা হয়ে থাকে যে উপায়ে পেটেণ্ট ড্ষধ বিক্রী রুরা হয়, সেই উপায়েই সাহিত্যও বাজারে বিক্রী করা হয়। লেখক সমালোচক হয় একই ব্যক্তি, নয় পরস্পর্ধজে একই কারবারের অংশীদার আমার মাল তুমি যাচাই করে” পয়লা নম্বরের বলে” দাও, তোমার মাল আমি যাচাই করে” পয়ল! নম্বরের বলে? দেবো,_এই রকম একটা বন্দোবস্ত পেশাদার লেখকদের মধ্যে যে আছে, কথা সহজেই মনে উদয় হয়। এই কারণেই, পেটেন্ট উষধের মতই, একলের“ছেঁণট গল্প কিং! ছে্টি কবিতার বই,_/মধা, হী, ধাঁ, শ্রী প্রভৃতির বদ্ধক, এবং নৈতিক-বলকারক ব্লে"_উল্লিখিত হয়ে থাকে কিদ্তু এরূপ কথায় বিশ্বাস স্থাপন বরে” পাঠক নিত্যই প্রতারিত এবং প্রবঞ্চিত হয় যা" চ্যবন- প্রাশ বলে? কিনে আনা যায়, তা দেখা যায়»-প্রায়ই অকাল- কুম্মাগুখণ্ডমাত্র |

অতি বিজ্ঞাপিত জিনিসের প্রতি আমার শ্রদ্ধা অতি কম। কারণ, মানবহ্ৃদয়ের স্বাভাবিক দুর্বলতার উপর বিজ্ঞাপনের . বল, এবং আ্ানবমনের সরল বিশ্বাসের উপর বিজ্ঞাপনের ছল প্রতিষ্ঠিত। যখন আমাদের এক মাথা চুল থাকে, তখন আমরা কেশ-বদ্ধক তলের বড় একটা সন্ধান রাখিনে কিন্তু মাথায় যখন টাক চকু চকু করে” ওঠে, তখনই আমরা কুস্তলবৃষ্যের শরণ গ্রহণ করে” নিজেদের অবিমৃত্যকারিতার পরিচয় পাই, এবং দিই। কারণ, তাতে টাকের প্রসার ক্রমশ:ই বৃদ্ধি পায়, এবং

৩২.

সেই সঙ্গে টাকাও নষ্ট হয়। বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্ঠ আমাদের মন নয়ন আকর্ষণ" করা বিজ্ঞাপন প্রতি ছত্রের শেষে প্রশ্ন _মিনোযোগ করছেন ত? আমাদের চিত্ত আকর্ষণ করতে না পারুলেও, বিজ্ঞাপন চব্বিশ ঘণ্টা আমাদের নয়ন আকর্ষণ করে” থাকে জিনিস চোখ এড়িয়ে যাবার জো নেই। কারণ, যুগে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন প্রবন্ধের গা ঘেঁসে থাকে, মাসিক পত্রিকার শিরোভূষণ হ'য়ে দেখা দেয়, এক কথায় সাহিত্য-জগতে যেখানেই একটু ফাঁক দেখে, সেইখানেই এসে জুড়ে” বসে ইংরেজী ভাষায় একটি প্রবচন আছে যে, প্রাচীরের কান আছে। . এদেশে সে বধির কি না'জানিনে, কিন্তু বিজ্ঞা- পনের দৌলতে মৃক নয়। রাজপথের উভয় পার্থর প্রাচীর মিথ্যা কথা তারম্বরে চীৎকার করে বলে। তাই আজকাল পৃথিবীতে চোখকান না বুজে চল্লে, বিজ্ঞাপন কারো ইন্দরিয়ের অগোচর থাকে না। যদি চোখকান বুজে চল, তা হলেও বিজ্ঞাপনের হাত থেকে নিস্তার নেই। কারণ, পদব্রজেই চল, আর গাড়ীতেই যাও, রাস্তার লোকে তোমাকে বিজ্ঞাপন ছুড়ে মারে এতে আশ্চর্য্য হবার কোনও কথা নেই ছুঁড়ে" মারাই বিজ্ঞাপনের ধর্্ম। তার রং ছুঁড়ে” মারে, তার ভাষা ছুঁড়ে” মারে, তার ভাব ছুড়ে” _মারে। সুতরাং বিজ্ঞাপিত জিনিসের সঙ্গে আমার আত্মীক্তা না থাকৃলেও, তার মোড়কের সঙ্গে এবং মলাটের সঙ্গে আমার চাক্ষ্ষ পরিচয় আছে। আমি বহু ওষধের এবং বহু গ্রস্থের কেবলমাত্র মুখ চিলি:

৩৩ 1. রী 27228 0. রা মু টি ডি | ৮৫

বীরবলের হালখাতা

যা জানি, তারই সমালোচন। করা সম্ভব। স্থতরাং আমি মলাটের সমালোচনা কর্তে উদ্যত হয়েছি অন্ততঃ মুখপাত- টুকু দোরস্ত করে” দিতে পার্‌লে, আপাততঃ বঙ্গ-সাহিত্যের মুখ- রক্ষা হয়।

আমি পূর্বেই বলেছি যে, নব্য বঙ্গ-সাহিত্যের কেবলমাত্র নাম-রূপের সঙ্গে আমার পরিচয় আছে। প্রধানতঃ সেই নাম জিনিসটার সমালোচনা করাই আমার উদ্দেশ্ট কিন্ত রূপ জিনিসটা একেবারে ছেঁটে দেওয়া চলে না! বলে” সে সম্বন্ধে ছুই একট! কথা বল্তে চাই ডাক্তারখানার ..আলো যেমন লাল নীল সবুজ বেগুনে প্রভৃতি নানারূপ কীচের আবরণের মধ্য দিয়ে গ্রকাশ পায়, তেমনই পুন্তকের দোকানে কালের পুস্তক পুস্তিকাগুলি নানারূপ বর্ণচ্ছটায় নিজেদের প্রকাশ করে। স্থতরাং নব্য সাহিত্যের বর্ণপরিচয় যে আমার হয়নি, কথা বল্তে পারিনে। কবিতা আজকাল গোধুলিতে গা-ঢাক। দিয়ে, লজ্জা-নআঅ নববধূ সম”. আমাদের কাছে এসে উপস্থিত হয় ন|। কিন্তু গালে আল্তা৷ মেখে রাজপথের মুখে বাতায়নে এসে দেখা দেয়। বর্ণেরও একটা আভিজাত্য আছে। তার স্থসংযত ভাবের উপরেই তার গাস্তীধ্য সৌন্দর্য্য নির্ভর করে। বাড়া- বাড়ি জিনিসটা! সব ক্ষেত্রেই ইতরতার পরিচায়ক আমার মতে, পূজার বাজারের নানারূপ রঙ্চঙে পোষাক পরে, প্রাপ্চবয়স্ক সাহিত্যের সমাজে বা*র হওয়া উচিত নয়। তবে পুজার উপহার স্বরূপে যদি তার চলন হয়, তা৷ হ'লে অবশ্য কিছু বলা চলে না।

৩৪

মলাট-সমালোচনা

সাহিত্য যখন কুস্তলীন, তাম্থুলীন এবং তরল আল্তার সঙ্গে একশ্রেণীভুক্ত হয়, তখন পুরুষের পক্ষে পরুষ বাক্য ছাড়া তার সম্বন্ধে অন্য কোন ভাষা ব্যবহার কর! চলে না। তবে এই কথা জিজ্ঞাসা করি যে, এতে ঘে আত্মমর্ধ্যাদার লাঘব হয়, সহজ কথাটা কি গ্রস্থকারেরা! বুঝতে পারেন না? কবি কিচান যে, তার হৃদয়রক্ত তরল আল্তার সামিল হয়? চিস্তাশীল লেখক কি এই কথা মনে করে” স্বখী হন যে, তাঁর মন্তিফ লোকে স্থবাসিত নারিকেল তৈল হিসাবে দেখবে? এবং বাণী কি রসনা-নিঃস্ছত পানের পিকের সঙ্গে জড়িত হতে লজ্জা বোধ করেন না? আশা করি বে, বইয়ের মলাটের এই অতিরঞ্জিত রূপ শীপ্রই সকলের পক্ষেই অরুচিকর হয়ে উঠবে অ্যান্সীক কাগজে ছাপানো, এবৎ চকচকে, ঝকৃঝকে, তকৃতকে করে; বাধানে! পুস্তকে আমার কৌন আপত্তি নেই। দপ্তরীকে আসল গ্রন্থকার বলে” ভুল না করলেই আমি খুষ্টু৫ই আমরা যেন ভূলে” না যাই যে, লেখকের কৃতিত্ব মলাটে শুধু ঢাক! পড়ে। জীর্ণ কাগজে, শীর্ণ অক্ষরে, ক্ষীণ কালীতে ছাপানো একখানি “পদ কল্পতরু” যে শত শত তকৃতকে ঝকৃঝকে চক্চকে :গ্রস্থের চাইতে শতগুণে আদরের সামক্জী !

এখন সমালোচনা স্বর করে” দেবার পূর্বেই কথাটার একটু আলোচন| করা দরকার কারণ, শব্দটি আমর! ঠিক অর্থে ব্যবহার করি কি না, সেবিষয়ে আমার একটু সন্দেহ আছে প্রথমেই, “সম” উপসর্গটির যে বিশেষ কোন সার্থকতা আছে,

৩৫

বীরবলের হালখাত।

এরূপ আমার বিশ্বাস নয়। শব্দ অতিকায় হ'লে যে তার গৌরব-বৃদ্ধি হয়, কথা আমি মানি; কিন্তু, দেহভারের সঙ্গে সঙ্গে যে বাক্যের অর্থভার বেড়ে যায়, তার কোন বিশেষ প্রমাণ পাওয়া যায় না। যুগের লেখকেরা মাতৃভাষায় লিখেই সন্ত থাকেন না, কিন্তু সেই সঙ্গে মায়ের দেহপুষ্টি করাও তাদের কর্তব্য বলে মনে করেন। কিন্তু সে পুষ্টিসাধনের জন্য বহুসংখ্যক অর্থপূর্ণ ছোট ছোট কথা চাই, ঘা সহজেই বঙ্গভাষার অঙ্গীভূত হ'তে পারে। স্বপ্পসংখ্যক এবং কতকাংশে নিরর্থক বড় বড় কথার সাহায্যে সে উদ্দেশ্যসিদ্ধি হবে না। সংস্কৃত ভাষার সঙ্গে আমার পরিচয় অতি সামান্য; কিন্তু সেই স্বল্প পরিচয়েই "আমার এইটুকু জ্ঞান জন্মেছে যে, সে ভাষার বাক্যাবলী আয়ত্ত করা নিতাস্ত কঠিন। সংস্কতের উপর হস্তক্ষেপ কর্বা মাত্রই মতা আমাদের হন্তগত হয় না। বরং আমাদের অশিক্ষিত হাতে. পড়ে” প্রায়ই তারঞ্ অর্থবিকূৃতি ঘটে সংস্কৃত সাহিত্যে গৌজামিল দেওয়া জিনিসটা একেবারেই প্রচলিত ছিল না। কবি হোন্‌, দার্শনিক হোন্‌, আমাদের পূর্ববপুরুষরা প্রত্যেক কথাটি ওজন করে” ব্যবহার কর্তেন। শব্ধের কোনরূপ অসঙ্গত প্রয়োগ সেকালে অমীঞ্জনীয় দৌষ বলে গণ্য হ'ত। কিন্ত একালে আমরা কথার সংখ্যা নিয়েই ব্যস্ত, তার ওজনের ধার বড় একট ধারিনে। নিজের ভাষাই যখন আমরা সু অর্থ বিচার করে" ব্যবহার করিনে, তখন স্বপ্প-পরিচিত এবং অনায়ত্ত সংস্কৃত শব্দের অর্থ বিচার করে” ব্যবহার কর্‌তে গেলে,

৩৬

মলাট-সমালোচনা

সে ব্যবহার যে বন্ধ হবার উপক্রম হয়, তা আমি জানি। তবুও একেবারে বেপরোয়াভাবে সংস্কত শব্দের অতিরিক্ত ব্যবহারের আমি পক্ষপাতী নই। তাতে মনোভাবও স্পষ্ট করে; ব্যক্ত করা যায় না, এবং ভাষাও ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে উদাহরণ- স্বরূপে দ্রেখানো যেতে পারে, এই “সমালোচনা” কথাটা আমরা যে অর্থে ব্যবহার করি, তার আসল অর্থ ঠিক তা নয়। আমরা কথায় বলি “লেখাপড়া” শিখি; কিন্তু আসলে আমরা অধিকাংশ শিক্ষিত লোক শুধু পড়তেই শিখি, লিখতে শিখিনে পাঠক- মাত্রেরই পাঠ্য কিন্বা অপাঠ্য পুস্তক সম্বন্ধে মতামত গড়ে, তোল্বার ক্ষমতা! থাক্‌ আর না থাক্‌, মতামত ব্যক্ত করুবার অধিকার আছে; বিশেষতঃ সে কাধ্যের উদ্দেশ্য যখন আর পাঁচ জনকে বই পড়ানো, লেখানো নয় স্থতরাং সমালোচিতব্য বিষয়ের বাঙ্গলা-সাহিত্যে অভাব থাকলেও, সমালোচনার কোন অভাব নেই। এই সমালোচনা-বন্তার ভিতর থেকে একখানি- মাত্র বই উপরে ভেসে উঠেছে। সে হচ্ছে শ্রীযুক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “আলোচনা” তিনি যদি উক্ত নামের পরিবর্তে তার “সমালোচনা” নাম দিতেন, তা হ'লে আমার বিশ্বাস, বৃথা বাগাড়ম্বরে “আলোচনার, ক্ষুদ্র দেহ আয়তনে বৃদ্ধিপ্রার্ধ হয়ে এত গুরুভার হ+য়ে উঠত যে, উক্ত শ্রেণীর আর পাঁচখানা বইয়ের মত এখানিও বিস্বৃতির অতল জলে