শীচারুচন্্র দত্ত

ৰরেজ্ লাইব্রেরী পুস্তক বিক্রেতা প্রকাশক ২৯৪, কর্ণওয়ালিশ ধ্রীট রুলিকাতা

এক

গ্রকীশক-বরেন্রনাথ ঘোষ ২০৪ কর্ণওয়ালিস স্রাট- কলিকাতা

পার শট পাটি পান সস হানি টা সার গস তে শসা

পপ তি পপি পি লাতপপপজপাতাশক২০৮০৮4০

দাম দেড়টীকা

১৩৪১ জ্যষ্ঠ

তিনটার বরেজনাথ খোষ আইডিয়াল প্রেস ». ১২1১ হেসেক্্র সেন ট্রাট, কলিকাত।

মালতী

সমঘ বুঝে ঢুচারটে স্পট কথাও কইত। আর সেইটে বাড়িয়ে বলে লোকের ক।ছে খাতির জমাত) “তোমাদের মত মোসাহেবী করা আমার

ধাতে নেই। আমার মনেও যা, মুখেও তা 1” রাজাবাবুও মোটের উপর শায়েবের প্রতি তুষ্ট। কিন্ত হরিচরণের এতে তুষ্টি নেই।7 সে চার ধীরে ধীরে বাবুকে মুঠোর ভেতর পুরতে। ভার চিন্তার ধারা কতকট।| এই রকম--

“বড়লোকের ছেলে কলকাতার মত সৌখীন জায়গায় সাত বছর কার্টয়েছ। কোথাও £না কোথাও গলদ থাকতেই হবে। ষেমদ খায় নাঃ আমি বিশ্বান করি না। লুকিয়ে লুকিয়ে নিশ্চয় খায়। নইলেঃ মোগলাই পোলাও কোপ্তার সঙ্গে শুধু জল খেলে সন্দীগরমী হয়ে এতপিন মরে যেত। চালাক ছেলে কি নাঃ ডুবে ডুবে জল খায়) গরীব ছুঃখীর উপর এত দরদ, সেও একটা ফন্দী বই আর কি! মাগ্যি গঞ্জার দিন, প্রজা ব্যাটার! খুশী থাকলে আদায় পত্র সহজে হবে। কিন্তু আসল কথা, জমীদারে প্রজায় এতট! মাখামাখি থাকা কিছু নয়। ওতে আমাদের সর্বনাশ তার উপর আবার রোজ তিন চার ঘণ্টা স্বয়ং কাছারীতে বস| ! এ, বাবা, মহা জুনুম |

এই সব পাচ রকম ভেবে চিন্তে হরিচরণ বৃন্দাবনে গিয়ে বুড়ো মহারাজ মহারাণীমার হাতে পায়ে ধ'রে তাদিকে দেশে নিয়ে এসেছিল। এনে, কুমারের একটী ডাগর দেখে কনের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু এতেও ফল হল না কিছু যেই বাপ মা বৃন্দারন ফিরে গেলেন, অমরেন্দ্রও বৌরাণীকে বাপে, বাড়ী পাঠিয়ে দিলে!

৪. দেবার বললে, “ছেলে মান্ুষঃ আর একটু বড় হয়ে নিজের ঘরকন্না বুঝে- নেবে। এখন পড়া-শুনো করুক।” হরিচরণ বসে পড়ল। দেওয়ানজী মহাশয়কে বললে “মশায়। কি যে আঙ্জ-কালকার ছেত্লদের বুদ্ধি! তের বছরের বৌঃ তাকেও বলে কিনা ছেলে মানুষ !” মনে মনে ভাবলেঃ “এর মধ্যে আর কেউ আছে নাকি? খবরটা ভাল ক'রে নিতে হবে।” কিন্তু নানা রকম গোয়েন্দাগিরি করেও সমনিবের কোন সখীর সন্ধান পেলে না। রর আর সত্যি বলতে কিঃ রাজাবাবুর নিত্যজীবনে রহশ্ত কিছুই ছিল না সবটাই খোলা, পরিষ্কার | খুব ভোরে উঠে পালোয়ানদের সঙ্গে কসরত ভারপর ঘোড়ায় চড়ে অনেক বেলা অবধি জমীদারী পর্যবেক্ষণ, আবার থাওয়া-দাওয়ার পর তিন চার ঘণ্টা সেরেস্তায় বনা। এই তিন চার ঘণ্টা অবারিত দ্বার। প্রজার! এতেলা না দিয়ে একেবারে হুজুরের কামরায় চলে যেত। মাঝে মাঝে আবার সদর ছেড়ে দূর জমীদারীতে ডেরা গেড়ে থাকতেন, প্রজাদের ছুঃখ কষ্ট স্বচক্ষে দেখে আসতেন তাবুতেও দৈনিক জীবন ছিল একই রকমের আহমদ সাহেব ওস্তাদের কথা আগেই বলেছি। কলেজে লেখা-পড়া শেষ ক'রে রাঞ্জাবাবু যখন দেশভ্রমণে বের হন, তখন গোয়ালিয়র হতে এই বৃদ্ধ কলাবস্তকে সঙ্গে এনেছিলেন সেই থেকে রোজ সন্ধ্যাবেলা দই এক ঘণ্ট। সঙ্গীতের জলসা হত। কখন ওস্তাদজী গাইতেন রাজাবাবু *নঙ্গত করতেন, কখনও রাজাবাবু 'গাইতেন ওস্তাদজী এসর:জ ধরতেন গুরুশিষ্যের মধ্যে ছুবছরে একটা আস্তরিক বন্ধুভাব জন্মেছিল। রাজাবাবুর ভাই*্ভ্মী বন্ধু-বান্ধব কেউ,ছিলন1। জ্ঞাতিরা ছোট তরফের জমীদার।

মালতী ...€ তাদের সঙ্গে এদের আদায় কীচকলাগ্ সম্পর্ব। কলেজেও অমরেন্ত্ বন্ধু ছেটাতে পারে নেই। বড়লোকের ছেলে বলে মোসাহে পদপ্রার্থী অনেক জুটেছিল। [িকন্কু আমল না পেয়ে তারা আস্তে মান্তে +রে পড়ল। রায়নগরে রাজাবারু খোসামুদে কাউকে কাছে ঘেসতে নিন ন]। ওপ্তাদজী ফকীর প্রন্কতির মানুষ ছিলেন। কখনও সাকরেদের সাংসারিক ব্যাপার সম্বন্ধ জিদ্রাধাবাদ করতেন না। রাজাবাবু কিন্ত | বিষয়ে তার সঙ্গে কথাবার্তা কইতেন, আপন হয়ে স্া-পরামর্শ করতেন। একদিন এক দূর গ্রামে তাবুর সামনে ঝসে ছুজনের আলাপ হচ্ছে। রাজাবাবু জজ্াসা করলেন, “ওল্তাদজী, রায়নগরে আপনার বড় একলা একল!] লাগে, নাছ” | আহমদ সাহেব বললেন, “না রাজাবাবু, আমি বেশ আছি। সারাদিন নিজের পড়াগুনো সঙ্গীতচর্চা নিবে ব্যস্ত থাকি। কখন কখন দেওয়ানগীর কাছে যাই। তিনি সুফী কবিদের বায়েখ ভকতদের গান গুনতে বড় ভালবাঁমেন। তার সঙ্গে ছুনিয়াদারী সম্বব্ধেও অনেক আলোচনা হয়, তর্ক বিতর্ক হয়। সময় বেশ কেটে ষায়। এক এক দিন হরিচরণবাবু নায়েব গল্প করতে আমেন। তিনি জনাব মহারাজ বাহাছ্বরের কত পুরাঁনো কথা৷ বলেন” রর “হরিচরণকে কি আপনার ভাল লাগে? লোকট। বড়ক্থুর্ত আর গভীর মতলবী| বাবাকে যেন যাদু করেছিল। এখনও বাব! ওর সব কথা বিশ্বাম করেশ।।”

দেবার

“ত] যদি হর) আমাকে নাবধান হতে হবে উনি কত কথাই জিজ্ঞাসা করেন হছ্ছুরের সম্বন্ধে। একদিন ছুঃখ করছিলেন-_ওস্তাদ্‌ সৃহ্বঃ স্তন মনিব তআর আমাকে কখনও ডাকলেন না। সংসার ত্যাগ ক'রে এইবার বৃন্দাবন চ'লে যাব,”

«কোথাও যাবে না হরিচরণ। আপনার ভয় নেই, ওস্তাদজী আর) ওর কাছেই বা সাবধান হওয়ার কি দরকার আমাদের আছে বলুন। আমার কি এমন গু কথা আছে যে লুকষে, রাখতে হবে!”

“জনাব, একদিন নায়েববাবু জিদ্ঞাস। করছিলেন যে আপনি নাচ পছন্দ করন কিন. কলকাতায় ওঁর জানা থুব সুন্দরী কসবীন আছেঃ উনি পুজার সময় আনাতে চান

না) ওল্তানজী। আপনি জানেন ষে আমার ব৷ইনাচের কোন সখ নেই। তা ছাড়া, আমার জরী পেশোয়াজ পরা, চোখে সুরম। অপাকা, মুখে রঙ্গষমাখা, জাতীর জীলোক দেখলেই রাগ ওয় ফেবল ভাবি, যে পুরুষ যদি জানোয়ার না হত, ওরাও থাকত ন| ছুনিয়াতে | আমার মতে নাচ উঠে যাক তাও সই? তবু যেন সমাজ এই সব কদর্ধ্য কৃত্রিম জ্লীলোকদের প্রশ্রয় ন| দেয়”

“হুজুর আপনি কেবল এক দিক দেখছেন ! সঙ্গ/তের মত নৃত্যও একটা কলা ষ'দ সঙ্গীতের চচ্ঠায় দোৰ না থাকে: নৃত্যের চ্চাতেই বাকেন থাকবে? ষেগায়ঃ বাযে শাচেত্ার চরিত্রের সঙ্গে আপনার কি সম্পর্ক, জনাব? ছুনিষার মধ্যে ধারা শ্রেষ্ঠ ভকতঃ শ্রেষ্ঠ দরবেশ, তারাও কি ভাবেল্মার্জেয়ার! হয়ে নাচেন নেই ?”

মালতী

“আচ্ছা, সাহেব মেনে নিলাম আমি কথ! কিস্তআমি ভাড়াটে নাঁচ-ওয়ালীর সাজ পোষাক, তাদের কৃত্রিম হাব-ভাঁবঃ কিছুতেই বরদাস্ত করতে পারি না। বড় কদর্য লাগে। ্্শীলোকের সৌন্দর্য্য একট| ভগত্ধান-দন্ত স্বাভাবিক জিনিস। দেখুন না? বাগদীদের টা মেয়ে জল আনতে যাচ্ছে। কি স্থন্দর ওদের গড়নঃ কি সহজ ওদের অঙ্গভঙ্গীঃ কি নরূল ওদের দৃষ্টি! ওদিকে পেশোয়াজ পারয়ে চোখে স্থুরমা টেনে দিলে কি ওদের রূপ. বেশী ফুটবে ?”

“রাজাবাবু, এমন কথা বলবেন না। বনের ফুল স্ুনার ব'লে কি বাগানের ফুলকে কুৎসিত বল। যায়? ছুই বিধাতার চমতকার সৃষ্টি !”

“ওস্তানজী, আপনার মত উদ্ধার মন আমার নয়। যে ষার্থ গুণী লোক, যেই জগতের সব জিমে পৌন্দর্য্য দেখে আসুন, সঙ্গীত চচ্চা করা ধাক। সঙ্গাতে সব ভেদ ঘুচিয়ে দেয়।”

যখ। সময় রাঁজাবাবু সদরে ফিরে গেলে, আহমদ সাহেৰ হরিচরণকে বললেন ষে বাবু গুায় বাহনাচ দেখেন না। হরিচরণ গালে হাত দিযে বললে;

“অবাক করলেন, ও্তাদজী জমীদারের ছেলে এই কীচ। বয়স গান-বাঁজনার এত সখ» অথচ বাইনাচের প্রতি এমন বিরূপ! মশায়? আপনার মাকরেদের প্রাণে রম নেই

“তা ঠিক নয, নাখেববাবু। প্রাণে রসের অভাব নেই। তবে ক- বাশের শিনগার) তার কুটিল দৃষ্টি, রাঞাবাবুর মত লৌকের মন ভেজাতে পারে না। উনি দিপদরিয়া মানব বাগানের চেয়ে বন ওর থেশী

দেবার

ভাল লাগে দেদিন বলছিলেন যে পাড়াগেঁয়ে কুরমী দোসাদের মেয়ের! কত খুবস্ুরতঃ যেন বনের হরিণী, তার কাছে কি লাগে সহরের সাঞ্কর| রূপনী 1” |

্ছরিচরণ একবার ওগ্তাদের মুখের পানে চেয়ে দেখলে যে তাকে বোকা বানাচ্ছে কি না। তারপর আন্তে আস্তে বললে;

“হ্যা ওস্তাদজী, কথাট! ঠিক। এক একট! বাগদী ছুলের মেয়ে হয় বটে ভারী চমতকার! কালে। রগ, কিন্তু ঠিক যেন কষ্টিপাথরে কুঁদে গড়া মুত্তি।” যাবার সধয় আপন মনে বিড়বিড় করতে করতে গেল, “বাগদী ছু'ড়ী চাই ! আচ্ছ!) তারই বা অভাব কি 1?”

অমরেন্্র কলকাতায় পড়বার সময় খুব ব্রাঙ্গসমা্জে যাওয়া আসা করত। দীক্ষা সে নেয় নেই, নেওয়ার কখন ইচ্ছাও ছিল না কেন না, পৈতা। ছড়ার বা মুক্তি ভাঙ্গার একটা উদ্দাম উৎসাহ তার মনে কখনও আসে নেই। তবে তার নৈতিক আদর্শ, তার দরিদ্র সেবার শিক্ষা, সে ত্রাঙ্গদমাজ থেকেই পেয়েছিল আর সেই শিক্ষা আদর্শ অন্যায়ী কাজ করবে স্থির করেই সে পৈত্রিক জমীদারী হাতে নিয়েছিল। রায়নগরের আবহাওয়া সব্ধ রকমে প্রতিকূল হলেও নে মোটাঘুটি ভোগের চেয়ে ত্যাগের পন্থাকেই শ্রেষ্ঠ ব'লে বুঝেছিল। তবে ভাবপ্রধণ ছেলে কি নাঃ তাই তার ত্যাগের আদর্শ শু নীরস হতে পায় নেই বরং দরিদ্রের স্থুখ দুঃখ, দরিদ্রের আশা ভরসা; তার চোথে একটা বড় সনদর 7000210০€এর সৃষ্টি

'করেছিল।

কত সময় সে সৃত্ধ্যায়ঞ্গ।খনে হাওয়ায় ছাদে বসে চোখ মুদে স্বপন

মালতী মত

দেখত? যেন সে চাষার ছেলে, সারাদিন ক্ষেতে খেটে বাড়ী ফিরে এসেছে, ঝকঝকে পরিষ্কার উঠানে খেজুর পাতার চেটাই বিছিয়ে শুয়ে আছে, আর তার চাষানী পাসে ব'সে পায়ে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। উঠ্নানে সিউলী গাছে অজ- ফুল ফুটেছে, টাদের আলোয় চকোর মনের আনন্দে ঘুরে ঘুরে উড়ছে। রাজবাড়ীতে এর বাড়া আর কি স্মুখ পাবে।

কিন্তু এই যে শ্বপনের চাষাবৌ) নবজলধরন্ঠামা। এর সঙ্গে তপ্ত কাঁঞ্চন-বর্ণাভা বৌরাণীর কোন সাদৃশ্ঘই নেই। আমাদের তের

বছরের আদরিণী বৌরাণীটী দুরে বাপের বাড়ীতে বড় হচ্ছেন। একে!

_ দুই

রাজবাড়ী থেকে মাইল দেড়েক দূরে, গ্রামের বাহিরে, রাজাবাবুদের খামার-বাড়ী। সদর নায়েব সেইখানে থাকেন। কাছাকাছি কয়েকখানা ক্ষেত প্রজাবিলি হয় নেই, আজ একশ বছর থেকে খাসে আছে। সেই ক্ষেতগুলোতে রাজপরিবারের নিত্য সেবার নানা রকম সৌখীন সুগন্ধ ধানের চাষ হত। চিড়ের জন্য কামিনী, ভাতের জন্য বাদশ|ভোগ জিরেশাল হলুদণ্ড'ড়ঃ। পায়সের জন্য শ্যামা, এই সবই ইত। অনতিদূরে এক আমবাগান ছিল। সেখানে দেশ বিদেশ থেকে আমদানী বাছা বাছা! নানা রকমের কলম লাগান হয়েছিল রায়নগরে বসেই বাবুরা নিজের বাগানের আলফন্সো বাদশা-পসন্দ “হতে আরন্ত ক'রে পেয়ারাফুণী পর্যন্ত সব রকম আম খেতে পেতেন। এই ক্ষেত আমবাগানের তত্বাবধান " হ্রিচরণের একট! প্রধান কর্তব্য ছিল। বুড়ো মহারাজ ভোজন বিলাসী ছিলেন। তার জামলে কাজের একটুও এদিক ওদিক হওয়ার জো! ছিল না। আর, নান! প্রকার ভোগের দখ্যর ব্যবস্থা করেই হরিবাবু তার প্রিয়পাত্র হয়েছিল। কিন্কু এই ছোকর। রাজাবাবুর ভোগের দিকে নজর কম হয়েই সব গুলিয়ে গেছে। এত বড় রাজার ছেলে, মে কি না ছুপুরবেলা কেরাণীর মত কলম পেষে! খাওয়ার সখও কি বিদকুটে ! মামুলী খোরাক শুকনো পাউরুটী, তার সঙ্কে কদাচ কখন পালোয়ানদের একথানা যেটা রুটা,

+185:4৫ ০482

মালতী ১১

নয়ত ওন্তাদজীর কাবাব পরেঠ।। একি বাবুলোকের যোগ্য খাওয়া ! এমন জমীপারকে নিষে কর! যায় কি? তবে ওস্তাদজী যদি সত্য কথা কয়ে থাকে একট! উপায় দেখছি |

হরিচরণ ঘরের দাওয়ায় বসে গালে হাত দিয়ে একমনে এই সব কথ! ভাবছে। বারোটা বেজে গেছে, ম্বানাহারের খেয়াল নেই। গিন্নী রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে একটু ঝাঁঝাল স্থরে জিজ্ঞাস! করলেন। পু

“হ্যাগ!? তোমার হয়েছেকি? অমন করে বসে রয়েছ কেন? আজ খাঁবে দাবে না?”

হরিচরণ হতাঁশভাবে উত্তর দিলেঃ “আর খাওয়া দাওয়। ! এখানে অন্ন উঠল? গিন্নী। মনে করছি কর্তার কাছে বৃন্দাবন চলে যাই পুজার পরেই 1৮

“বৃন্দাবন চ'লে যাবে এখানকার ঘরকম্পার কি হবে? বাবুদের এত সখের বাগান ক্ষেত খামার কে দেখবে ?”

“সখই যদি বাবুর থাকবে, ছুঃখ কি বল। ছোকরার কিও সবের দিকে লক্ষ্য আছে? বসে বসে ছোটলোক ব্যাটাদের নাই দিয়ে মাথায় চড়াচ্ছে। প্রজার মঙ্গল দেখছেন, না, আমার মুড চড়চড়ি করছেন ।” |

গিন্নী মুখ ভার ক'রে একটু দীড়িয়ে রইলেন। তারপর আস্তে আস্তে বললেনঃ “চুলোয় যাক ক্ষেত খামার নিজের শরীরটা রাখতে হবে | তুমি ওঠ, সান ক'রে চারটী ভাত খাও। সারা সকাল রোদে ঘুরে ঘুরে মুখে কালী পড়ে গেছে

১২ দেবার

«একট। উপায় আছে গিনী। ন1:) তোমায় এখন বলা হবে ন|। যদি কাজ হাসিল করতে পারি বলব ।” গিন্নী মুখ বেঁকিয়ে বললেন, “দরকার কি আমার জেনে ? নাই বা বললে, গো! আমি কি জমীদারের নায়েবগিরি করি না কি? বন্দাবন যাও আমার ভালই হবে। শেষ জীবনট| দেবসেবা করে নিজের একটা হিল্লে লাগাব।” কুয়োতলার দিকে ফিরে ডাকলেন, “মালতী মালতী, বাবুর স্নানের উদ্যোগ ক'রে দে দিকিন চট্ট কারে) 7. ডাক শুনে একটী পনের ষোল বছরের কালো মেয়ে বেরিয়ে এল জিজ্ঞাসা করলে, “কোথায় দেব, মা? কুয়োতলায়, না ঘরে 1” মেয়েটীর বয়স বছর যোল হবে। রঙ্গ নিথুৎ চিকন কালো যে কালোর কাছে কীাচ। সোনাও হার মানে। পরিপুণ নিটোল দেহ কিন্তু মুখখানি একেবারে কচি যেন দশ বছরের মেয়ে। চোখের চাহনিতে বিজলীর চমক আজও আসে নাই। হরিণীর মত চকিত দৃষ্টি। পরনে মোটা খাটো এক লালপেড়ে সাড়ী, অচল কোমরে জড়ান। হরিচরণের নজর সে দিকে যাওয়া মাত্র চমকে উঠল; “এই হাতের কাছেই অস্ত্র! আশ্চর্য্য এর কথ। আগে ভাবি নেই। গিনী কিন্ত আমার মুখ দেখবে না কাজ করলে। তা হো$ গে। চুলোয় যাক। অত ন্যাকামি করলে সংসারে থাকা চলে পা। ভারী এক ছুলের মেয়েঃ তার জন্যে এত দরদ 1” টেচিষে' বললে, “মালতীঃ এদ্রিকে আয় ত, বাছা তোর ম| কেমন আছে আজ? জর ছেড়েছে?”

মালতী *আত,

“তাল নেই) বাঁবা। উঠতে পারে না। জর লেগেই রয়েছে। কাঁীটাও কমে নেই 1” “আচ্ছা, আমি বেলা উষধ দিয়ে আসব এখন। তুই ভাবিস্‌ না। কুয়োহলাতেই আমার চৌকী। তেল, গামছা রেখে তুই. যা তোর মারকাছে। |

“মেয়েটাকে এখন থেকে তোয়াজ করতে হবেঃ ঝলে হরিচরণ উঠল।

একটু বল| দরকার, এই মালতী মেয়েটা কে। এর জন্ম হয়েছিল . এই খামার বাড়ীতেই। বাপ মা অনেক বছর আগে ছুভিক্ষের সময় কোন দূর গ্রাম হতে পালিয়ে আমে। হরিচরণ তাদিকে খামারে মজুরী দিয়ে রেখেছিল! মালতীর জন্মের বছর খানেক বাদে তার বাপ মারা গেল। নায়েববাবু মা মানদাকে গোয়ালের কাজে লাগিয়ে দিলেন। সে গোয়াল ঘর পরিষ্কার করত আর মেয়ে নিয়ে নেই ঘরেরই এক কোণে পড়ে থাকত তা ছাড়াঃ রোজ ছুবেল! ছু্জনে হরিচরণের বাড়ীর মোটা কাজ কম্ু করে দিয়ে আনত গিন্ী মা-বেটীকে খেতে দিতেন মালভী দশ বছরের হলে? নায়েব বাঁবুর বাড়ীর কাঙ্জ দেই ক'রে দিতঃ আর তার ম] গোয়াল নিষে থাকত। মেয়েটী ধীর, শান্ত, অথচ কাঁজে খুব চটপটে ব'লে গিগী তাকে বড় ভাল বাসতেন। সব্বদা কাছে পিঠে রাখতেন মানদার মালতীর কোন কষ্টই ছিল না। ক্রমশঃ বয়সের সঙ্গে যালঠীর রূপ যখন ফুটে উঠলঃ তখন রাজবাড়ীর দরোয়ানঃ বরকন্দাজ, সরকার, যুহুরীঃ সকলেরই খামারে ঘন ঘন আসার দরকার হতে লাগল। কিন্তুগিন্নী মেয়েটাকে বাধিনীর

£

১৪ দেবার

মত আগলে থাকতেন। তার উপর আবার হরিচরণ রাশভারী লোক বুড়ো রাজার বিশ্বস্ত কর্মচারী, তার আশ্রিত মেয়ের সঙ্গে গ্রকান্ত রদিকত। করতে পর্য্যন্ত কারও সাহস হয় নেই। ইরিচরণেরও আজ পর্য্যক খেয়াল হয় নেই যে সেই মালতী এখন বড় হয়েছে, এমন রূপশী হয়েছে আজ যখন সে কথ! মনে হল) তখন মালতীর দিকে ভাল ক'রে চেয়ে দেখতে লাগল

গিশ্লী ফৌস্‌ ক'রে উঠলেন, “তোমার আবার বুড়ে! বয়সে ঘোড়ারোগ ধরল নাকি? ছুঁড়ীটার দিকে অমন ক'রে চেয়ে রয়েছ কেন? যবে থেকে মেয়েটা ডাগর হয়েছে। মিনসেগুলো বাড়ীর চারিদিকে মাছির মতন ভ্যান্‌ ভ্যান্‌ ক'রে ঘুরে বেড়াচ্ছে একদিন এমন ঝ'টা-পেটা করব যে মখাই বুঝবে

হরিচরণ নিজেই যেন হঠাৎ পিঠে সন্মার্জনীর স্পর্শ অনুভব করলে চমকে উঠে, পিঠে হাত বুলোতে বুলোতে কুয়োতলার দিকে চে গেল।

এডি

ঢু দিন বাদে মালতীর মা মরে গেল। হরিচরণের হোমিওপাথিক চিকিৎসায় কোন ফল হল না। গনী মালতী দিয়ে শশান-ৃত্য সব করালেন। মেয়েটা এমন দরল) ছেলেমানুষের মত। ষে তাঁর জন্য মকলেরই বড় দুঃখ হল 1

পরধিন সকালবেলা রাজাবাবু ঘোড়ায় খামার দেখতে এসে উপস্থিত হলেন হরিচরণ ভাড়াভাড়ি জাম| গায়ে দিয়ে বেরিয়ে এসে মনিবের অভার্থন| করলে কথা সে কথার পর রাজাবাবু বললেন,

“িরিচরণ বাবুঃ আপনাকে যে বলেছিলাম আমার জন্য আমবাগানে একটা মেটে ঘর তুলে দিতে, তার কি করলেন ?”

“আজ্জে। এখনও কিছু ব্যবস্থা করি নেই। হুর হুকুম দিলেই ক'রে ফেলব | কদিনই বা লাগবে .

“আপনাদের এই সব আমি বুঝতে পারি না। ক'বার হুকুম দেওয়ার দরকার? হুকুম দিয়েছি বলেই আমার বিশ্বাস

ইরিটরণ মনে মনে বললেঃ “এ রকম হট হট ক'রে কি আর জমীদারীর কাজ চলে?” কিন্তু জোড় হাত ক'রে মনিবের কাছে মাপ চাইলে, “হুজুর, বুড়ো হয়েছি সব কথ! মনে থাকে না। ত্পর!ধ নেবেন না। আমি আজই লোক লাগিয়ে দিচ্ছি কাজে ।”

হ্যা মশার, আজই লাগান* লোক। আম্মর অত্যন্ত দরকার ফাড়ী। পাকা দৌোতাণা মহলে বসে, রাজভোগ খেয়ে, আমি আমার

১৬ দেবার

প্রজাদের সুখ দুঃখের ঠিক ধারণ] করতে পারি না। আমার এই মেটে ঘর চাষার বাড়ী হবে। এখানে গরীব ছুঃখী অবাধে যাওয়া আগ। করবে সেপাই বরকন্দাজের দৌরাত্ম্য থাকবে ন| নায়েব মনে মনে হানলেঃ “তোমাকে বাবা, শেষ পর্য্যন্ত পাগণা গারদে ন! পাঠাতে হয়! এই রকম ক'রে তুমি সম্পত্তি রক্ষা করবে? গ্রকাশ্তে বললে, “ধর্্মাবতার, আপনার, দয়ার অন্ত নেই। প্রজাদের যথার্থ পিতা আপনি একটা বিষয়ে হুজুরের আদেশ প্রার্থনা করি। আমাদের গোয়াল ঘরের ঝি মানদা ছুলেনী মারা গেছে। তার কাজে তার মেয়ে মালতীকে বহাল করতে চাই। বড় দুঃখী লোক ওর|। ওদের কেউ নেই |”

“এ 1বষয়ে আমার হুকুমের প্রয়োজন নেই খামারের কি ঝিচাকর আপনার ষাকে ইচ্ছা রাখবেন। তবু নায়েববাবুঃ আমাকে বললেন ভালই হল। আমি জানতে পারলাম যে আপনি ভমীদারী সেরেস্তার আমলা হলেও একজন হৃদয়বান্‌ পুরুষ হৃদয় ব'লে একট বালাই আপনাদের বড় একটা দেখতে পাই না।৮

হরিচরণ মিনিট খানেক খুব বিনীত ভাবে মাথ। চুলকে জোড় হাত ক'রে বললেঃ “হুজুর? আর একটা প্রার্থনা আছে এপ মেয়েট। মায়ের শ্রাদ্ধ করতে চাষ; কিন্তু পয়নার অভাবে হয় তহবে :। ওরবাপ মা খামারের পুরানে। চাকর ছিল। যদি ধর্মাবতার কিছু দয় করেন ।”

“তা .অবশ্ করব, নায়েব বাবু আপনি ওকে ছুপুর বেলা খাজান্ধী বাবুর কাছে নিয়ে ষাবেন। আমার মেটে ঘরটার বিষয় কিন্তু ভুলবেন না। কাজ আজই স্বরু হওয়া চাই ।”

মালতী ১৭

রাজাবাবুর ঘোড়া খটুখট ক'রে বেরিয়ে গেল। হরিচরণ বাসায় ফিরলেন দাওয়ায় বসে ডাকলেন, “মালতী আছিম্‌ ?”

মাঁলভী বাপন মাজছিল। তাড়াতাড়ি হাত ধুয়ে দৌড়ে এল। জিজ্ঞাসা করলেঃ “আমায় ডাকছিলেঃ বাব। ? তামাক সেজে দেব ?”

“নাঃ তামাক এখন সাজতে হবে নাঁ। দুপুর বেলা নিজে সাঙ্গ গোজ ক'রে নিন্‌, দণ্তরখানায় খাজাঞ্ধী মহাশয়ের কাছে নিজে যাব। রাজ] তোর মার শ্রান্ধে কিছু সাহায্য করবেন বলেছেন ।”

কথা শুনে গিনী বেরিয়ে এলেন। “রাজা বাবুর সেই ছোট বেল! থেকেই মনট! বড় ভাল। আমি বরাবরই জানি। তোমাদের কি ষে স্বভাব অমন মনিবকে মনে ধরে না”

“হ্যা গিন্নীঃ আমি তোমাকে বলেছি যে মনে ধরে না! একটু সাবধানে কথা বার্তা কইও। কেউ শুনলে অনর্থ ঘটবে ।”

“আমার দায় পড়েছে সবধান হতে! নিজের যখন বৈঠকখানায় বসে প্রজারঞ্জন, প্রজাবৎসল, ব'লে টিপ্লনী কাট, তখন মনে হয় না ষে কেউ শুনতে পাবে ?”

“গিনীঃ প্রজাবৎসলে আর আপত্তি নেই। দিকগে ন| একখান! তালুক বিলিয়ে ব্যাটাদের। আমরা পাঁচজন আশ্রিত তাবেদারও আছি, গে।! বাপের মত আশ্রিতবৎসল হলেই আমরা খুশী আচ্ছা কুছ পরোয়া নেই, একটা কিছু ক'রে নিচ্ছি এইবার 1”

দুপুর বেলায় যখন হরিচরণ মালতীকে নিয়ে দপ্তরে উপস্থিত হল; তখন স্বয়ং রাজাবাবু খাজনা। খানায় ব'সে। দুজনকেই ভেতরে ডাকালেন। মালতী তার মোটা সাড়ীর উপর একটা বড়«চৌধুপী গামছা গায়ে দিয়ে

৬)

১৮ দেবার

এসেছিল মাথার চুল বৈষ্ণব চুড়ে। ক'রে বাধা, কপালে খয়েরের টিপ। গিন্লীমা নাজিয়ে দিয়েছিলেন বাবুকে গলবস্্ হয়ে প্রণাম ক'রে দাঁড়াতেই তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি মালতী ছুলেনী? তোমার আত্মীয় স্বজন কেউ নেই ?”

“কেউ নেই, বাবুঃ আমার বাপ অনেক দিন গেছে। মা ছিল, সেও গেল” ব'লে ফুঁপিয়ে কেদে উঠল।

হরিচরণ মেয়েটীর মাথায় হাত বুলিয়ে বললে, “কীদিন্‌ না মালী। রাঁজাবাবুর পায়ে ধর তোর কোন দুঃখ থাকবে না।

মালতী এগিয়ে গিয়ে অরেন্রের ছু পা জড়িয়ে ধ'রে বললেঃ “বাবু মশায় আমরা ভিন্‌ গায়ের লোক তোমার খামারে এতকাল মজুরী ক'রে খাচ্ছি আমাকে তাড়িয়ে দিও না। না খেতে পেয়ে ম'রে ষাব

মালতীর ছু ফোটা চোখের জল রাজাবাবুর পায়ের ্টপর পড়ল। তিনি শশব্যস্ত হয়ে ঠাড়িয়ে উঠলেন | গরীবের কানন! শুনলে তিনি বড় অস্থির হয়ে পড়তেন এত দুঃখ, এত কষ্ট, এই সংসারে ! কেন রকম হয়? মালতীকে দুই হাতে ধ'রে তুললেন।

“তুই কাদিন্‌ না মালতী নায়েব বাবু তোকে তোর মার চাকরী দেবেন। আর, তোর মার শ্রাদ্ধের জন্য এই দশ টাক নে। হরিচরণ বাবুঃ একটু দেখে শুনে বেচারীর কাজটা করিয়ে দেবেন ।”

মালতীর যুখে কথা সরল না। আবার বাবুর পায়ের ধূলে। নিয়ে কাদতে কাদতে বাহিরে বেরিয়ে গেল। বাঁবুরও চোখও ছল ছল করছে। মেয়েটীর দিকে খানিকক্ষণ চেয়ে রইলেন। তারপর হরিবাবুকে বললেন, "

মালতা ১৯

“মেষেটী বড় ভাল। একেবারে অনাথ! হল। নায়েব বাবুঃ তোমরা একটু ষত্ব আত্তি কোরো ।” |

“হুজুরের দয়। থাকলে ওর আরকি ভাবন1/ ব'লে প্রণাম ক'রে, নায়েবও বেরিয়ে গেল।

বাবু অনেকক্ষণ চুপ ক'রে ঝসে রইলেন। তারপর খাজাক্ধী মশারকে বললেন, “আজ আর থাক। বড় শ্রান্ত বোধ হচ্ছে। বাকী হিনেব-পত্র কাল দেখব 1”

উপরে গিয়ে অমরেন্ত্র লম্বা আরাম কেদারাধ় শুয়ে পড়লেন বুকের ভেতরট| কিরকম যেন টিপ টিপ করছে আবার মনে মনে বগলেন। “এত দুঃখ, এত কষ্ট) এই সংসারে 1” কত কথাই ভাঁবতে লাগলেন। আমি ব্রাহ্মণ, ছুলে। আমি বড়লোকঃ গরীব মানগুষ। আমি অমীদার) মজুর। এভেদ কেন? এই ভেদের জন্যই যত অনর্থ। আমি সব জেনে বুঝেও আমার কর্তব্য করতে পারছি না। না, আর শ]। আমি আনার সর্বস্ব বিলিয়ে দেব ওদিকে দিয়ে আমি ওদের একজন হয়ে যাব

সেদন রাত্রে রাজাবাবুর ভাল ক'রে ঘুম হল না। আবার স্বপন দেখলেন তার সেই চাধার ঘর টাদনী রাতে উঠানে শুয়ে আছেন মাছুর বিছিয়ে। চাঁষাবৌ পাসে বসে গল্প করছে। হ্ঠাৎ দমকা হাওয়ায় তার ঘোমটা খুলে গেল। একি! কে এচাানী? এষে মালতীর যুখ ! হুড়মুঁড়িয়ে বিছানা থেকে উঠে পড়লেন। ছি, ছি! এই তার মনের কথা! অসহায় প্রজীর মেয়েকে শয্যাসঙ্গিনী করতে চান তিন। ত্বপনে ধর1 পড়ে গেছে তার যথার্থ চরিত্র!

দেবার

এদিকে মালতী কাছারী থেকে ফেরবার পথে নীরব | মারা গথ চো মুছতে মুছতে গেল। কেন কীদছিল কে জানে চাকরী বজায় রইল, মার শ্রান্ধের ব্যবস্থা হল, তবু কেন কান্না! খামারে ফিরে নায়েব গি্নীর কাছে দৌড়ে গিয়ে হাপাতে হাপাতে বসে গড়ল।

গিনী জিজ্ঞাসা করলেন, “কিলো মানী, রাজাবাবুর সঙ্গে দেখ! হল? কিছু পেলি টেলি?”

“কি না পেয়েছি, ম1? সব পেয়েছি। চাকরী রইল, মায়ের শ্রা্ধের ব্যবস্থা হল, আবার আমব!র সময় বাবাকে রাজাবাবু বলে দিলেন আমাকে যত্ব আত্তি করতে। এত রাজা নয়। মা। এযে দেবতা! তোমার দর়্ায় দর্শন পেলাম। তোমার পুণ্যির জোরে) মা, দেখতে পেলাম। নইলে। আমি কে?” ঝলে মালতী গিীকে ভূমিষ্ঠ হয়ে প্রণাম ফরলে।

পরদিন মকাল রাজাবাবু আবার খামারে এসে উপস্থিত হলেন উদ্দেন্ট নায়েব বাবুকে নিয়ে আমবাগানে মেটে ঘরের ভিত দেখতে ধাবেন। মালতী কি জানত যে আজও রাজাবাবু আনবেন ? কেন না,সে আজও গায়ে নেই রঙ্গীন গামছা জড়িয়েছে, চুল পরিপাটি ক'রে বেঁধে খোঁপায় একটী লাল টুকটুকে জবাফুল পরেছে। রাজা ঘোড়া থেকে নামেন নেই। হ্রিচরণের সঙ্গে কথা কইছেন আহ্ধ দিক ওদ্রিক চাইছেন। মালতী তখন গোয়ালের ভেতর দোয়ারের আড়াল থেকে এক দৃষ্টেকি যেন দেখছে। এত লুকোটুরী কেন এদের কেজানে! হরিচরণ হাক মারলে, “মালী, কোথায় গেলি? আঙ্গ বুঝি গোয়াল সাফ করতে হবে না?”

মালতী ঝট হাতে খুব ধীরি ধীরি পা ফেলে এগিয়ে এল। মাথা হেট ক'রে বললে “এই যে বাঁবা। ঝট দিচ্ছি” রাজাবাবু চোখ লাল ক'রে নায়েবের মুখের দিকে তাকালেন। মুখে কিছু বললেন না। . হরিচরণ মনে মনে মহা খুশী, সে এই চাঁযু। মালতীকে বললে, “যা। . মা। ঝট দিয়েনে শীগগীর। অনেক কাজ আছে। রাকজাবাবুকে _ দেখছিস্‌না? প্রণাম কর” মালতী দৌড়ে গিয়ে রাজাবাবুর জিনের . রেকাব দু হাতে ধ'রে মাথায় ঠেকালে। মুখটা একটু লাল। সেদিন ন্ধ্যাবেলা অমরেন্্র আহমদ সাহেবের কাছ থেকে গান . বাজনার ছুটী চাইলে। ওস্তাদ জিজ্ঞাসা করলেন, “কেন, রাজাবাবু? ; শরীর ভাল নেই

২৬ দেবার

“না ওন্তাদজী, শরীর ঠিক আছে। কিন্তু মন বড় উদ্বিগ্ন। আমার আমবাগানের কুটার দশ পনের দিনেই তৈয়ার হয়ে যাবে কিন্তু এখন মনে হচ্ছেঃ কুঁড়ে ঘরে থাকলেই আর চাষ! হওয়া যায় না। নিরিবিলি থাকতে ভাল লাগবে খুবঃ কিন্তু তাতে আমার কাজ কত দূর এগোবে ?”

“ছুর-আহল, মনটাই সব মন স্থির হলে কাজ আপনা থেকেই হবে। আপনি জন্মে আমীর হলেও আপনার দিল ফকীরী |”

“তাই এক সময় ভাণতাম, আহমদ সাহেব কিন্তু এখন বুঝতে পেরেছি যে ভুল করেছিলাম কাল একটী মেয়েঃ জাতে ছুলেনী, ছুঃখে পড়ে আমার কাছে এসেছিল তার কান! শুনে আমি খানিকক্ষণ আত্মহারা হয়ে গেলাম মনে হতে লাগল যেন আমার সমস্ত দরিজ্র প্রজার ছুঃখ কষ্ট মাথায় ক'রে এই মেয়েটা আমার কাছে এসেছে। তখনই স্থির করলাম? আর নয়, আরু রাজবাড়ীতে বাস করব না, এখনই চখলেযাব, চাষী হয়ে ওদের মাঝখানে থাকব কিন্ত সব মিথ্যা, ওস্তাদজী, সব মিথ্যা এখন বুঝছি আমার সত্যিকার আদর্শ ত্যাগ নয় ভোগ--কাজ নয়, কবিত্ব। রাত্রে স্বপনে মালতীটকে দেখলাম | চাধার বাড়ীর উঠানে আমার পাসে বসে আমার গায়ে হাত বুলোচ্ছে সব গেল, ওন্তাদজী। শেব করিদ্বের দোহাই দিয়ে, বাঁপদাদার মতন একট! যথেচ্ছাচারী লম্পটের জীবন কাটাব !”

বৃদ্ধ রাজার পিঠে হাত রেখে বললেন, “জনাব আলি আপনি অনর্থক নিজেকে কষ্ট দিচ্ছেন যাঁদই বা 'এই মালতীকে দেখবামাত্র আপনার গ্রাণ উতল| হয়ে থাকেঃ যদিই বা তাকে নিয়ে আপনি আপনার হৃদয়ের

মালতী ২৩

প্রেমকে নার্থক করতে চান, তাতে লজ্জিত হওয়ার কি আছে? আমি মুললমান। আমার চোখে হুজুর? বামুন ছুলেতে ভেদ নেই। আমি সুফী, আমার চোখে জমীদারে মজুরেও ভেদ নেই। এই পার্থিব প্রেম যাকে স্ুফীরা ইশক বলেন, এরই ভেতর দিয়ে জুফীর সাধনা |” |

অমরেক্্র গালে হাত দিয়ে বসেছিলেন মুখ তুলে বললেন, “সুফী সাহেবঃ মালতীকে কাছে পাওয়ার জন্য আমার যে ব্যাকুলতা হয়েছে তাঁর অত বড় নাম দেওয়া ষ'য় না। কিছুতেই না। আমার বিদ্যারঃ চরিত্রেরঃ আদর্শের» বড় দেমাক ছিল+ ওস্তাদজী | তাই আজ এত অপমান বোধ হচ্ছে”

ও্তাদজী একটু হেসে উত্তর দিলেনঃ “না হুজুর+ আপনি এখনও ভুল বুঝছেন। যদি আপনি হিন্দু না হতেন, মালতীর সঙ্গে মিলনের কোন বাধাই থাকত না আপনার এত ছুঃখ কিসের? আপনি কি কোন রকমে খোদার মরজীর বিরুদ্ধে যাচ্ছেন, না শুধু লোকমন্দকে ভয় করছেন? ছুটোয় অনেক তফাৎ এই মালতীর প্রেম হয়ত একদিন আপনাকে সত্যিই দরিদ্র প্রজার হৃদয়ের সন্ধান দেবে। একি হেলায় ফেলে দেওয়ার জিনিনঃ জনাব ?”

অমরেন্্র দেখলেন যে এই বৃদ্ধ সুধী একেবারে ভূলে গেছে যে তিনি বিবাহিত। অথচ দেই কথাটাই তাকে বেশী গীড়৷ দিচ্ছে। তার বংশে এটা কিছু তন ব্যাপার নয়! তবে তার শিক্ষা সংস্কারঃ অন্য রকমের। তিনি নিজেকে কিছুতেই ভোলাতে পারছিলেন না যাই হোক, ওস্তাদজীর সঙ্গে বৌরাণীর কথা আলোচনা করতে প্রবৃত্তি হল না।

দেবার

সন্ধ্যাবেলা ভাড়াতাড়ি খেয়ে শুতে গেলেন যদি মালতী আবার আসে! কিন্তু আজ ন্বপনও দেখলেন ভয়ানক পুলিস এসে তীকে হাঁতকড়ি লাগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সে অধীর হয়ে কাদছে। তিনি চলার বারান্দার উপর একজন চম্পকবরণা, সাভরণ! স্থন্দরীর পাসে 1 সেই দৃশ্ত দেখছেন সুন্দরীর মুখে হাসি।

আর ঘুম হল না। বসে বসে কুমার সারারাত কাটালেন। ভোর 1 উস্কে৷ খুস্কে। চুল, লাল ছোখঃ শিয়ে ছাদে গেলেন মাথা ঠাণ্ডা ত। মাথা ঠাণ্ডা হল না।

-গীঁচ-

পাচট| বাঁজতে না বাজন্তে বাবু নীচে গেলেন। শ্বহস্তে ঘোরার জিন কষে বেরিয়ে গড়লেন খামারের পথে | সেখানে পৌছে দেখলেন কারও, ' সাড়। শব নেই গোয়াল্পের কাছ বরাবর গিয়ে ডাক দিলেন “কে আছ, আমার ঘোড়া ধর ।”

মালতী দৌড়ে বেরিয়ে এসে॥ ঘোড়ার মুখ ধরলে রাজাবাবু বললেন। “মালতী, তুই এত মকাল সকাল কাজ আরস্ত করিন্‌?” |

“না, রাজাবাবু। এখনও কাজে লাগতে ঢের দেরী”

“ভাহলে এক কাজ কর না। আমাকে আমবাগানের পথটা] দেখিয়ে দিবি আয়। আমি ঠিক রান্তা জানি না।”

কথাট। মিথ্য। কিন্তু মালতী বুঝলে না। ছুজনে চলল আমবাগানের দিকে অমরেন্ত্র ঘোড়ায়, মালতী ছেঁটে মালতীর একটা হাত জিনের উপর। দুজনের কি কথ] হচ্ছিল? প্রেমের কথ। ? মোটেই নাঃ যদিচ অমরেন্দ্রের গ্রাণ হীপিয়ে উঠছিল মালতীকে বলবার জন্ত) “আমি তোকে বড় ভালবাসি) মালতী

কথ সেই নির্জন গ্রাম্যপথে, সেই ভোরের হাওয়ায়, বলবার বাধা কিছু ছিল কি? ছিল বইকি। একে রাজাবাবুর নিজের মনের দ্বন্দ তখনও কাটেনেই। ভার উপর মালতী এমন নিঃসঙ্কোচে হেমে হেসে ছোট্ট মেয়েটার মতন অনর্গল গল্প ক'রে যাচ্ছিল ষে তাকে বাধা দিতে রাজাবাবুর প্রাণ চাইলে না।

২৬ . দেবার:

আধ ঘণ্টা ঘুরে ফিরে যখন ছুজনে খামারে ফিরলেন, হরিচরণ জোড় হাত করে, এক গাল হেসে মনিবকে স্বাগত করলেন। মালতীর কপালে কিন্তু অন্য রকমের অতার্থনা ছিল। যেই উঠানে ঢুকেছে কি নায়েব-গিরী গর্জন ক'রে উঠলেন? «কোথায় গেছলি মরতে? কতবার না তোকে বারণ করেছি, না বলে খামারের চৌহদ্দীর বাইরে যাবি না!”

£রাজাবাবুকে আমবাগানের পথ দেখাতে গেছলাম। মা। তিনি যে ডেকে নিয়ে গেলেন !”

“তা বেশ করেছিলে কিন্তু রাজ! ষহারাজার বরকন্দাজী করতে হয়ঃ আমার বাড়ী ঢুকো না।”

“রাগ করছ কেন, মা? বাবু আমার জন্য এত করলেন, আর আমি তার এইটুকু কথা শুনব ন| !”

“আচ্ছা, আচ্ছঃ এখন নিজের কাজ কম্ন করগে যা।” ব'লে গজগজ করতে করতে গিরী রার! ঘরের পানে গেলেন।

ছুপুর্ল বেলা হরিচরণ বাড়ী আসতেই ভার স্ত্রী টেচিয়ে উঠলেন? “এর ভেতর তোমার কিকোন কারসপার্জী আছে না কি ? বুড়ো মহারাজকেও এই রকম করেছিলে ।”

হরিচরণ ন্যাক। সেজে বললেন; “কেন কি হয়েছে? ক" কথা বলছ? .

গিরী, হুঙ্কার দিয়ে উঠলেন, “ন্যাকা ! ভাজা মাছ্‌টী 'উলটে খেতে জান না! ছুলে ছুপ্ডীটাকে রোজ রোজ রাজাবাবুর লামনে নিয়ে যাচ্ছ কেন? বল ত।”

মালতী ২৭

“চুপ, টুপঃ গিন্নী | সব কথা বলোনা কাল মালীকে কাজ উপলক্ষ করে ষেই একটু ধমকাতে গেছি) মনিব অমনি ফেস ক'রে উঠেছেন। তাঃ তোরই ব| এত দরদ কেন? নিজের ইষ্ট অনিষ্ট আজও বুঝলি না ।”

“যুয়ে আগুন অমন ইঞ্টের। টুকু কচি মেয়ে অনাথ! হ্যাগ!ঃ তোমাদের কি কিছু বাধে ন1 !” |

“আচ্ছা) আচ্ছা, আমি নজর রাখব কোন বাড়াবাড়ি হতে দেব না।” বাহিরে যেতে যেতে আপন মনে বললে) “কি চোখ, বাবা! এরই মধ্যে ধ'রে ফেলেছে কাজ আবার পণ্ড ন৷ করে দেয়! সাবধান হতে হবে ।”

সন্ধ্যাবেলায় রাঁজাবাবু আবার খামারে এসে হাজির। কিন্ত, কি জানি কি মনে করেঃ ভেতরে ঢুকলেন, না। সহিস পাঠিয়ে নায়েববাবুকে ডাকালেন। মালতী ঘোড়ার ্‌ যর শব শুনে বেরিয়ে এসেছিল। বাবু এলেন না দেখে বেচার! নিরাশ হল। হা করে দাড়িয়ে ঘোড়ার দিকে চেয়ে রইলঃ যতক্ষণ দেখা! যায়। কাড়ীর ভেতর যেতেই গিন্নী মুখ বেঁকিয়ে জিজ্ঞাস। করলেন “কি হুল রে, রাজাবাবুর সঙ্গে গেলি না!”

"না মা, তিনি তকই ডাকলেন না। আমি ঘোড়ার আওয়াজ শুনেই বেরিয়ে গেছলাম ।”

নায়েব গিন্নী সোজা! মালীর চোখের দিকে তাকিয়ে বললেন, “আমার মু করেছিলে। তোমার মরণ ঘনিয়ে আসছে মেয়েট! কিন্তু কিছুই বুঝতে পারলে না, ফ্যাল ফ্যাল.ক'রে চেয়ে রইল।

দেবার

নে রাত্রি মালতী ভাল ক'রে ঘুমোতে পারলে না। ঘুরে ফিবৈ কেবল গিনীমার বকুনির কথা মনে হতে লাগল কেন এত রাগ করছেন উনি, সে জেনে বুঝে কোন অপরাধ করে নেই। কি হয়েছে ? বছরখানেক আগে একদিন বাপন ধুতে ধুতে দে একখানা গয়ার কালে! পাথরের থালা ভেঙ্গে ফেলেছিল ! নায়েববাবু তয়ানক্ক চটে তাকে মারতে এসেছিলেন কিন্তু গিরী তাকে আড়াল করে দাড়িয়ে বলেছিলেন, “ছি! ছেলেমান্নষঃ গরীবের মেয়ে, যদিই বা কিছু দোষ ক'রে থাকে? ওর গায়ে কি হাত তুলতে আছে ?” নেই গির্ীমা, আজ তাকে এত গালাগাল করছেন কেন? নিশ্চয় দে কিছু অপরাধ করেছে।

ভোরবেলা উঠে মালতী গোয়াল ঘর ঝশাট দিয়ে একটু খোলা হাওয়ায় ঘুরে বেড়াতে লাগল তার মনে তখনও এর এক চিন্তা, “কিছু দোষ করেছি কি আমি?” বেড়াতে বেড়াতে কখন খামার বাড়ীর বাহিরে রাস্তায় উঠে পড়েছে, আনমন1 হয়ে হঠাৎ পেছনে ঘোড়ার পায়ের শব্দ শুনতে পেলে। কত দুর এসে পড়েছে সে! ষে আমবাগানের পথ! নিশ্চয় রাজাবাবু আপছেন ঘোড়ায়। সকালবেলা! কাজের সময় এই রকম ক'রে হাওয়া থেয়ে বেডালে আর গিরীমা রাগ করবেন না! তিনি হাজার বার বারণ স্গুছন খামারের বাহিরে যেতে। কিন্তু সেভুলে যায় ষে! ঘাক্‌, রাজাবাবুর সঙ্গে দেখ। করা হবে না। [তিনি আবার টেনে নিষ্বে ষাবেন বাগান অবধি। এই রকম ভেবে মালভী লুকিয়ে পড়ল। রাস্তার ধারে নালার ছুপাসে বইচি ঝোপু ছিল। তার পেছনে বসে রইল।

মালতী ২৯ রাজাবাবু ঘোঁড়ার চেপে আন্তে আস্তে বাগানের দিকে চলে গেলেন মনে হল যেন কি ভাবছেন। আচ্ছা, ও'র। বড়লোক; কোন অভাবই নেই তবে ভাবন! চিন্তা কিসের ? একবার মালতী ভাবলে, বেরিয়ে প্রণাম করি। আবার বসে পড়ল ভয়েঃ কাজ কি বাবু, মিছেমিছি গিন্নীমাকে চটিয়ে ! ঘোড়া চলে যেতেই সে ছুটে খামারে ফিরে গেল। বাড়ীর ভেতর ঢুকে বাসন মাঙ্গতে বসে গেল। কেউ দেখতে পেলে না।

খানিক পরে আবার রাকজ্াবাবুর ঘোড়ার পায়ের আওয়াজ তার কানে এল। তাহলে এসেছেন তিনি খামারে! মালতী কিন্তু কাজ ছেড়ে উঠল না। শুধু কান পেতে রইল; যদি তার মুখের কথা ছুটী শুনতে পায়।

নায়েববাঁবু বাড়ীর ভেতর এসে স্ত্রীকে বললেন, “ওগো» একবার মালীকে নিয়ে যাচ্ছি বাহিরে | বাবু গুতন গোয়ালের কথা কি জিজ্ঞাস করবেন ওকে |”

গি্নী হুক্কার দিয়ে বললেন, “তুমি কি আমাকে নেকী পেয়েছ? ষে যা বলবে বিশ্বাম করব! মালী যাবে না এখনও অদ্ধেক পোড়! বাসন প'ড়ে রয়েছে কুয়োতিলায় 1”

স্বামী চুপি চুপি কি বললেন তাতে গনী আরও চটে গেলেন টেচিয়ে উঠলেন, “তোমার রাজাবাবুকে বল গিয়ে যে আমি ভদ্রলোক কায়তের মেয়েঃ তার দূতীগিরি করতে পারব না ।”

ইরিচরণ মাথা হেট ক'রে বেরিয়ে গেলেন। গিন্নী মালতীর কাছে গিয়ে তাকে টেনে দ্রীড় করিষে বললেন, “শোন্‌ পোড়ারমুখী

৩০ দেবার

তোর ইচ্ছে হয় তুই বাহিরে যা। কিন্তৃফের আসিন্‌ ন| আমার ঘরে। ছুলের মেয়ে ত;আর কত হবে 1”

মালতী কাদতে কাদতে বললেঃ “আমি কি করেছিঃ মা! আমাকে কাল থেকে এত বকছ কেন? রাজাবাবু আমাকে আর ডাকেন নেই। তোমার পায়ে পড়িঃ গিন্নীমাঃ আমার উপর রাগ কর না।” গি্নী আর কিছু বললেন না! রাগে গরগর করতে করতে সরে গেলেন

রাজাবাবু ভেতর বাড়ীর কথাবার্তা মবই শুনতে পেয়েছিলেন নায়েককে বলে গেলেন, “আচ্ছা হরি5রণ বাবুঃ নূতন গোয়ালের পরামর্শ পরে হবে। আপনি মালতীকে সব জিজ্ঞানা ক'রে রাখবেন |”

হরিবাবু স্ত্রীর উপর ভীষণ চটেছিলেন। “সব গুলিয়ে যাচ্ছে মাগীর জন্য একবার দেখে নেব ওকে এক হাত বলে বলতে অন্দরে গেলেন। গিশ্নীও ঘুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ছিলেন ' মালতীকে হুকুম দিলেন, “দেখে আয় তঃ গরুগুলো চরতে বেরিয়েছে কি ন1।” দিয়ে স্বামীর দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন? “দেখঃ তোমার রাজাবাবুকে তার চৌদ্দপুরুষের রোগে ধরেছে কিন্তু তাই ঝলে আমি গরীব ছু'ড়ীটার উপর অত্যাচার হতে দেব না। আমরাই ওকে যত্ব করে এত বড় করেছি, ওর ম। উপলক্ষ মাত্র এখন তুমি চাকরীর খাতিরে ওকে বেচছ! লঙ্জ! সরম দয়] মায়, তোমার কি এতটুকু নেই ?”

“গিন্নী, তুমি ভুলে যাও কেন ষে মালী ছোটলোকের মেয়ে ! যতই লাফাও তুমিঃ ওকে কতদিন ঠিক রাখতে পারবে ?

“সে, নিজে ইচ্ছ। ক'রে চুলোয় যায়ঃ তযাবে। কিন্তু তোমাকে

এই বুড়ো বয়সে আর আমি অধর্শা কুড়োতে দেব ন।।”

মালতী ৩১

হরিচরণের যাঁত্রীও গিন্লীকে এক হাত দেখে নেওয়া হল না চির- দিনের অভ্যাম মত মাথা চুলকোতে চুলকোতে প্রস্থান করলেন

"শর (টি (0 -০8 -লজস

ছয়

দিকে রাজাবাবু বাড়ী গিয়ে আহমদ সাহেবকে ডেকে পাঠালেন তিনি এলে পর বললেন, “ওস্তাদর্জী, আজই কয়েক দিনের জন্ঠ মফস্বল যাব) আপনি প্রস্তত হয়ে নিন 1”

“আমি মুসাফের মানুষ, সর্বদাই সফরের জন্য প্রস্তত আছি, জনাব কিন্তু আপনার হঠাৎ ইচ্ছা হল কেন? তবিয়ৎ ভাল নেই? চেহারা বড় শুকনো গশুকনে| দেখাচ্ছে ।”

*ওস্তাদজী, সে দিন মালতী ছুলেনীর কথা৷ বলেছিলাম, মনে আছে ?”

“আছে বই কি»হুজুর। তা কি হয়েছে? মন স্থির করতে পারছেন না, তাই মনে অশান্তি হয়েছে 1”

“ন।) ঠিক তা নয়, ওস্তাদভী। আমাকে অন্ত লোকে বাধা দিচ্ছে। আজ অনেক চেষ্টা করেও তাকে একবার দেখতে পেলাম না”

৩২ দেবার

“আপনাকে বাধা দিচ্ছে, জনাব? আপনার নিজের রাজ্যে? কে এমন শক্তিমান শ্রাছে ? মিলনের পথে যে বাধ! আছে, তা চূর্ণ ক'রে দিন, রাজ] সাহেব) সেই তমরদের কাজ। অনর্থক মনঃকষ্ট কেন ভোগ করছেন ?”

“দে শক্তি আমার নেইঃ সাহেব বাধা ধন্ের বেশে এসেছে তাকে আমি হঠাব কেমন করে! ঢদুনঃ তার চেয়ে পালাই যদি ভুলতে পারি” |

“আপনার যেমন মরজীঃ হুজুর! কিন্তু যথার্থ প্রেম কখনও বাধ? বিপত্তি মানে না

পরদিন ভোর বেপায় রাজাবাবু সফরে বেরিয়ে গিয়ে তিরিশ মাইল দুরে এক গ্রামে ডের! গাড়লেন। প্রতিজ্ঞ ক'রে বের হলেন ষে মালওীর ছবি যন থেকে ছি'ড়ে ফেলে তবে ফিরবেন 1 এই খানেই বলে রাখি যে তার সধুদ্দেগ্ত গল হল ন|। চঠুর্থ দিন ভোর চারটের সময় উঠে ঘোড়ায় চড়ে বসলেন, আর সোজ| রায়নগরের খামারবাড়ীতে সাতটার সমর গিয়ে নামলেন

মালতীর কথা বলি। গিনীর কাছে বকুনি খেনে দে সারা ছুপুর বনে ভাবতে লাগলঃ তার চারিদিকে হচ্ছে কি? বুকের ভেতব ক্রমাগত দুড় হুড় করছিলঃ কিন্ধ তবু বেচারা বুঝতে পারছিল ন'. সার হয়েছে কি। মনটাই বাতার কেমন কেমন করছে কেন? গিয়ীমাই বা তাকে যুখ করছেন কেন? নায়েব বাবুই বা অমন চেহারা ক'রে দুরে বেড়াচ্ছেন কেন? সন্ধ্যাবেল! শুনলেঃ রাজাবাবু এক মানের জন্য মফস্বল চলে গেছেন ! নায়েব বাবু নিজেই বললেন তাকে )

মালতী ৩৩

“মালী। ভোর আম্পর্থা দ্রিন দিন বেড়ে যাচ্ছে দেখছি সকাল বেলা ডাকতে গেলাম বাহিে এলি না ষে! রাজাবাবু তোকে কি কাজের কথ| জিজ্ঞেস করতে চেয়েছিলেন, তা হল ন11”

“তা, বাবাঃ আমার কি দোষ? গিন্নীমা রাগ করেন যে, আমি বাহিরে বেশী গেলে। তুঁমও তখন আর কিছু বললে না!”

“বেশ! তোর গিন্ীমীকেই নিয়ে থাক্‌ রাজাবাবুকে রায়নগর থেকে তাড়িয়ে ছাড়লি ত!”

“আমি তাড়ালাম, বাবা! তিনি কাজের জন্য প্রায়ই জমীদারীতে বেরিয়ে ষান |”

“এবার সে রকম যাওয়া নয়ঃ রে! এক মাস ফিরবেন ন| বলেছেন তাও ফিরলে হয়

“হ্যা বাব!) বাবু আমার উপর রাগ করেছেন ?”

“তোকে নিয়ে আমি পারব না। তুই কি এতই বোকা? না আমার সঙ্গে ন্যাকামি করছিস?” ব'লে হরিচরণ চলে গেল

সেই দিন গভীর রাত্রে বিছানায় পড়ে পড়ে মালতী চকিতের মত বুঝতে পারলে বুঝতে পারবা মাত্র ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল,

“এক মাস আসবে ন। আমার রাজা? সারা মাস একবার দেখতে পাব না? কেমন ক'রে বেচে থাকব ?”

রাত ভোর কাদলে। কিস্তৃকি মিষ্টি সেকানন। কেঁদে এত সুখ? কই, কখন্‌ সেজানত নী!

পরদিন ভোর বেলা যখন মালতী গোয়ালের বাহিরে এল, তখন সে নেশায় শ্রান্তিতে টলছে। সুখে দুঃখে তার বুকের ভেতরটা এমন

৩৪ দেবার

ভরে রয়েছে! ইচ্ছা করছে যে চোখ বুজে চুপ ক'রে শুয়ে থাকে, শুয়ে শুয়ে প্রাণ ভ'রে বুকের বেদনাট| উপভোগ করে ক'বারই বা সে রাজাবাবুকে দেখেছে, ক'ট! কথাই বা তার মুখের শুনেছে! য| সামান্ পু'জি ছিলঃ তাই মনের ভেতর বন্ধ ক'রে রেখে কাজ কর্ণ করতে লাগল। তাড়াতাড়ি শেষ ক'রে আবার ঘরে এসে শোবে, বুকের কপাট খুলে চুপি চুপি দেখবে দেখবে আর কীদবে, সাধ মিটিয়ে কীদবে। নায়েব বাবুর বাড়ী যেতেই গিন্নী বললেন) “ও কি রে, তোর জবর "এল নাকি? চোখ অমন লাল হয়েছে কেন? বস্‌ বস্ঃচুপ ক'রে বস্‌। ওগো? একবার দিকে এস ত, মালীর কপালে হাত দিয়ে দেখ ত. জ্বর- টর এসেছে কি না।”

হরিচরণ ঘর থেকে বেরিয়ে এসে মালতীকে দেখে শশবান্ত হয়ে উঠ মুস্কিল করলে! অন্নুখ বিসুখ করলে ঘনিব তাকে আন্ত রাখবেন না। একবার কপালে হাত দিয়েই বললেন, “হ্যা গো, খুব জ্বর। ওস্থির হয়ে শুয়ে থাক্‌ একটু” আমি ওঁষধ দিচ্ছি।” |

গিন্ী বললেন, “তাঃ যা যা। নিজের ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়। আমি

একটু সাগ্ড ক'রে দিয়ে আমব এখন ।” _.. গোয়াল ঘরে পৌছে মালতী হরিচরণকে বললেঃ “বাবা, আমার জর-্টর হয় নেই। কিন্ত সারা রাত ঘুমোতে পারি নেই, কেন স্বপন ' দেখেছি। একটু শুয়ে থাকলেই সেরে যাবে ।”

একটু থেমে জিজ্ঞাসা করলে+ “বাবা, রাজাবাবু কতদিনে আসবেন ?”

হরিচরণ হেসে উত্তর দিলে, “ডেকে পাঠাব রে ?”

মালতী ৬৫

মালতী লাফিয়ে উঠে তার পা জড়িয়ে ধ'রে বলে উঠলঃ “না, বাবা, না। তোমার দুটী পায়ে পড়িঃ তাকে ডেকো! না।” ঝলে এমনি ফুলে ফুলে কাদতে লাগল যে চির-পাষগড নায়েব বাবুরও চোখে জল এল।

“তুই চুপ ক'রে শুয়ে থাক্‌ মা” ব'লে চোখ মুছতে মুছতে তাড়া- তাড়ি পালিয়ে গেল।

গোয়ালের বাহিরে একথার দীড়িয়ে ভাবলে, “তাই ত। আমিকি কিছু সত্যি পাপ করছি নাকি! মনটা এমন করছে কেন?” আবার সামলে নিলে। “না না, পাপ কিসের? আমি কিছু না করলেই কি আর চিরদিন ছোট লোকের মেয়ে ঠিক থাকবে ! মাঝের থেকে শুধু আমারই কাজট। পণ্ড হবে”

ঘরে শুয়ে শুরে মালতীর অধীর প্রতি ঘণ্টায় বেড়ে যেতে লাগল। মে যে কত রকমের আহাম্মকী করেছে তার গুনতি নেই ! সেদিন আমবাগানের পথে কেন সে ঝোপের আড়ালে লুকিষে রইল? তার পর গিনীমার কথা অগ্রাহা ক'রে বাহিরে রাজাবাবুর কাছে কেন গেল না? তা হলেই আরও বার ছুই দেখা হত, তার সম্বল বেড়ে যেত। আচ্ছা, নায়েব বাবু যে বললেন, “রাজাবাবুকে রায়নগর থেকে তাড়িয়ে ছাড়লি” তার মানে কি? সেকি ক'রে তাড়ালে? নায়েব বাবু কি নব যা তা বলেন ! রাজাবাবুকে ডেকে পাঠাবেন ! ছি! ডাকলেই ব| তিনি আসবেন কেন? আমাদের জন্ত তার ঘুম হচ্ছে না!

দ্বিতীয় দিন থেকে মালতী কতকটা সামলে নিলে। অর্থাৎ বাহিরে একটা শান্ত ভাব আনতে পারলে ভেতরে কিন্তু সেই ঝড় তুফান! ' তা হলই বা ঝড়, ঝড় তার বেশ ভাল লাগছে

৩. দেবার

ফেরে নেই। সন্ধ্যার সময় ছাদে ব'সে হরিচরণকে ডেকে পাঠালেন মে এসে জোড় হাত ক'রে অন্ুযোগের সুরে বললে, “হুজুর “ভারবেলা খামারে গেলেন একবার অধীনকে দেখা দিলেন না। শ্রাওয়াজ পেয়ে আমি তাড়াতাড়ি বাড়ী থেকে বের হয়ে এলাম? ততক্ষণে হু্ুর ফিরে আসছেন ।”

“মালতী সেখানে ছিল ?”

“হ্যা ধন্মীবতার, সে দ্লাড়িয়েছিল সেইখানেই | আমাকে দেখে হাআনন্দে বললে-আমাদের রাজাবাবু ফিরে এসেছেন বাবা? কই তিনি আমার উপর রাগ করেন নেই আমি তাকে বললাম_-ওরে) তিনি কারও উপর রাগ করেন না?”

অমরেন্্র অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন “হরিবাবু, আমি ভাবছিলাম যে মালতীকে রাজবাড়ীতেই নীচেতলাধ একটা কিছু কাজ দিলে হয়। তম খামারে অন্ত একজন লোক দেখে রেখে নিও ।*

“ত| সহজেই হতে পারে, হুছুর। আমি ভশড়ারী ঠাকরুণকে বলে যাই কবে থেকে এখানে বহাল করে দেব ?”

“আঙ্গই খাওয়। দাওয়ার পর এখানে পাঠিয়ে দিও”

ইরিচরণ মাথা নত ক'রে জানালে যে মে নিজেই সঙ্গে ক'তে এনে দিয়ে যাবে। আর তাকে পায় কে ! কাজ হাসিল করেছে,

এক প্রহর রাত্রে খাওয়া দাওয়া ক'রে মালতী গোয়ালঘরে আগড় দিয়ে শুয়েছে। তার মনটা আঙজথুব হালকা; সে তার দেবতার দেখা পেয়েছে দেবতা তার উপর প্রসন্ন। আর তার চাই কি! ঘুমোবার উদ্যোগ করছে এমন সময় কার পায়ের শব্ধ শুনতে পেলে

মালতী ৩৯

বাহিরে। একটু পরেই নায়েব বাবু চাপ! গলায় ডাকলেন “মালতী, ঘুমিয়েছিস্‌ কি?

“কেন, বারা?” বলে উঠে সে দোর খুলে দিলে :

হরিচরণের মাথায় চাদর জড়ান। এক হাতে লাঠি। অন্ত হাতে লণ্ঠন সে খুব ব্যন্তভাবে বললে, “মালী, আমার সঙ্গে চলে আয়, রাজবাড়ীতে যেতে হবে ।?

ক্বাজবাড়ীতে, এত রাত্রে, কেন বাবা ?

“বাবু তোকে ডেকেছেন ।” ৃ্‌

মালতীর বুকের ভেতর যেন কে হাতুড়ী মারতে লাগল | সে বসে পড়ল। হাপাতে হাপাতে জিজ্ঞাসা করলে, “রাজাবাবু আমাকে এত রাত্রে যেতে বলেছেন ! তুমি ঠিক বলছ, বাব] ?”

“ঠ্যারে ঠিক বলছি মিথা কথা কেন বলব? শীগগীর নে? আর বসিয়ে রাখিস্‌ না রাজাবাবুকে 1”

মালতী উঠে ঈাড়াল। খুব দৃঢ়স্বরে বললে, “থাকুন ব'গে তোমার রাজা। আমি যাব না, নায়েব বাধু। তাঁকে বলগে+ মালতী ছুলেনী আবে না রাজবাড়ীতে 1” ঝ+লে এক ছুটে পালিষে গেল শিশ্ীমার কাছে ভেতর বাড়ীতে

হরিচরণের খুব রাগ হল প্রথমটা কিন্তু তার পর ভাবলে, “এতে বোধ হ্য় ভালই হবে বাঁধা পেলে রাজার ঝেোঁক আরও বেড়ে যাবে। তা*তে আমার সুবিধা বই অস্ত্বিধা নেই”

একবার ভেতরে উকী মেরে দেখলে যে আটচালার এক কোণে মালতী শুয়ে পড়েছে। ডাকাডাকি করতে গেলেই গিরীর ঘুম তেঙ্গে

৪০. দেবার

যাবে। তাহলেই তার কর্ম সারা! কি করে? রাজাবাবুকে খবরট। দিতে হবে ত! গেল রাজবাড়ীতে বাবু সেই বসে আছেন ছাদে আরাম কেদারাম্ম। হরিচরণের আওয়াজ পেয়ে উঠে এগিয়ে এলেন “এনেছ তাকে? নায়েব বাবু ?”

“হুজুর সে কিছুতেই এল না”

“এল না! আমি মারধর রাগারা'গ ক'র ন| বলে তোমরা ভাব) যে যা খুশী তাই করতে পার! কি রকমের নায়েব তুমি? যাও, এক্ষণই ধরে নিয়ে এস ।”

হরিচরণ মনে মনে ভক্তি ভরে একবার বললেঃ “জয় জগদদ্বা!” তার পরণজাড় হাত করে বাজাবাবুকে “ষে আজ্ঞা” বলে পিখড়র দিকে এগোল। যখন আধখানা দিশড়ি নেমেছে রাজাবাবু ঠেঁচির়ে বললেনঃ “না, ধরে আনবার দরকার নেই আজ। আপনি ঘুমোন গিয়ে? ,

হরিচরণ চলে গেল। অমরেন্দ্র খানিকক্ষণ চুপ করে বসে রইলেন ছার পর উঠে মুখ হাত ধুয়ে একটু ঠাণ্ডা হয়ে একজন দরওয়ান ডাকালেন এলে হুধুম দিলেন, “লগ্ন নিয়ে যাও। আহমদ সাহেব ফিরে এসে থাকেন, তাকে নিয়ে এস ।”

কয়েক মিনিটেই আহমদ সাহেব এসে হাজির হ-4। বাবুকে আরাম কেদারায় শুয়ে থাকতে দেখে জিজ্দেস৷ করলেন, “হুছ্ুরের কি তবিবুৎ খারাপ হয়েছে? এখনও শুতে যান নেই! আমাকে তলব করেছেন কেনঃ জনাব ?”

“ওস্তাদজী, আমায় কেন আসতে দিলেন মধঘ্বল থেকে ? স্বরট।

১১

প্রঃ

7. ] নি

মালতী ৪১

ছেলে মানুষের মত শোনাল আপলে, রাঙ্জাবাবু সেখান থেকে কাউ- কেই ব'লে আসেন নেই।

তবু আহমদ সাহেব বললেন, “তাতে দোষ কি হয়েছেঃ হুজুর? সেও আপনার রাঙ্গা, এও আপনার রাজ্য 1”

“ন1) ওন্তাদজী, ঠিক তা নয়। বেখানে আমার হুকুম অমান্ঠ করলেও চলে; সেখানে থাকলে আমার ইজ্জতের হানি হয় ।”

“আমি কিছু বুঝতে পারছি নাঃ রাজা সাহেবঃ মেহেরবানি করে বলুন কি