আনন্দবদ্ধনাচাধ্য-প্রণীত

ধবন্যালোক

আচাধ্য অভিনবগুপ্তবিরচিত

লোচন

(মূল সটীক অনুবাদ )

11 এ. মুখাজী ত্যাণ্ড কোং প্রাঃ লিঃ

কলকাতা - বোন্ধে ' দিল্লী * হায়দ্রাবাদ

প্রকাশক : রাজীব নিয়োগী এ. মুখার্জী আগ কোং প্রাঃ লিঃ বঙ্কিম চ্যাটার্জী স্ত্রীট কলিকাতা ৭৩

দ্বিতীয় সংস্করণ : পৌষ ১৩৬৪

মুদ্রাকর : শ্রিশিবনাথ পাল প্রিণ্টেক

গণেন্দ্র মিত্র লেন কলিকাতা

ভূমিকা

আনন্দবদ্ধনের ধিবন্তালোক' তাহার অভিনবগুগ্র-বিরচিত “লোচন" টীকা সংস্কৃত অলঙ্কারশাস্ত্রের সবশ্রেন্ গ্রন্থ ব্যাঁকরণে যেমন 'পাঁণিনি পতঞ্জলির “মহাতাস্তু অলঙ্কারশাস্ত্রে তেমনি 'ধবন্যালোক' “লোচন?।

ধবন্ঠলোক' রচয়িতা আনন্ববদ্ধনাচার্য্য গ্রীষীয় নবম শতাব্দীতে কাশ্মীরে রাজা অবস্তিবন্মীর রাজত্বকালে (খ্রীঃ ৮৫৫-৮৮৪) প্রসিদ্ধি লাভ করিয়'ছিলেন | তদ্বিরচিত 'ধবন্তালোক" চারিটি উদ্দ্যোতে বিভক্ত প্রত্যেকটি উদ্ব্যোতেই কতকগুলি পদ্ধে লিখিত কারিক! আছে এই সংক্ষিপ্ত কারিকাগুলি গন্ে রচিত বৃত্তিতে ব্যাখ্যাত হইয়াছে আনন্বর্দনের প্রায় দেড়শত বৎসর পরে গ্রীষ্ীয় দশম শতাব্দীর শেষ ভাগে এবং একাদশ শতাব্দীর প্রারস্তে কাশ্মীরদেশীয় পণ্ডিত অভিনবগুপ্ত প্রসিদ্ধি লাভ করেন। তিনি নানাবিধ গ্রন্থ প্রণয়ন করেন; বিশেষ করিয়া কাশ্মীরীয়. শৈবদর্শন সম্বন্ধে তীহার রচন। প্রামাণ্য ধলিয়! স্বীকৃত হয়। পরবর্তী লেখকের! তাহাকে “অভিনবগুপ্ত তাতপাদীঁচার্য্য বলিয়া উল্লেখ করেন তিনি “লোচন'-টীকা লিখিয়া ধ্বনিবাদকে সম্পূর্ণত৷ দীন করেন

প্রথমেই সন্দেহ জাঁগে, ধবন্তালোক"গ্রন্থের যে দুই অংশ আছে--কারিকা

বৃত্তি তাহারা একই লোকের রচনা কিনা। কেহ কেহ মনে করেন যে কারিকা-অংশ আনন্দবদ্ধনের পূর্ববস্তী কৌন লেখকের কীন্তি; আনন্দবদ্ধন বৃত্তি যৌজন৷ করিয়া ইহাকে প্রচ্গরিত করিয়াছেন অভিনবগুপ্ত স্বীয় টাকার নাম দিয়াছেন “সহৃদয়ীলোঁক লোচন” | ইহা হইতে মনে হয় যে মূল গ্রন্থের আর এক নাম ছিল 'সহৃদয়ালোক' এবং এইরূপ অনুমান করা হইয়াছে যে কারিকা অংশের লেখকের নাম “সহদয়* অভিনব কোন কোন জায়গায় কারিকা-কাঁর বা মূল গ্রস্থকারের সঙ্গে বৃত্তিকারের বিভিন্নতার প্রতি ইঙ্গিত করিয়াছেন বলিয়া কেহ কেহ মনে করেন কিন্তু অভিনব লিখিয়াছেন আনন্দবর্ধনের প্রায় দেড়শত বৎসর পরে। নেখক হিসাবে তাহার শ্রেষ্ঠত্ব যত অবিসংবাঁদিতই হউক না কেন, অনেকে মনে করেন যে আনন্দবদ্ধন কতটুকু নিজে লিখিয়াছিলেন ব1 না৷ লিখিয়াছিলেন সেই বিষয়ে তাহার মত প্রামীণ্য হইতে পারে না। অপর কেহ কেহ মনে করেন যে তিনি আনন্দবর্ধনকেই কারিকা'র রচগ্মিতা বলিয়া নির্দেশ করিয়াছেন তাহাদের মতে

[১০].

অভিনবের রচনণর মধ্যেই এই যুক্তির সমর্থন পাওয়া যাইবে তবে “লোচন-টাকার কোন কোন স্থলে কারিকা-কার বৃত্তিকার যে পৃথকভাবে উল্লিখিত হইয়াছেন তাহার কারণ এই যে অভিনব কারিকা বৃত্তিনিহিত যুক্তির ক্রম দেখাইতে চাঁহেন। এই মতানুসারে, বাস্তবিক পক্ষে পার্থক্য করা হইয়াছে কারিকা বৃত্তির মধ্যে, কারিকা-কারও বৃত্তিকারের মধ্যে নহে

এঁতিহাসিক তত্ব অন্বেষণ বর্তমান প্রবন্ধের উদ্দেশ্য নহে। সুতরাং এই প্রশ্নের উল্লেখ করিয়াই এই প্রপন্গের সমাপ্তি করিলাম। তবে একটি কথ মনে হয়। অভিনবগ্ুপ্ত বহু গ্রন্থকীরের নাঁমোল্লেখ করিয়াছেন। আনন্দবর্দন ছাড়া যূল গ্রন্থের যদি কোন লেখকের কথা তাহার জানা থাকিত তবে তাহার কথা তিনি আরও স্পষ্টভাবে বলিবেন না ইহা বিশ্বাসযোগ্য বলিয়। মনে হয় না ধাহারা এই বিষয়ে অন্ুসন্ধিৎস্থ তাঁহার মহামহৌপাধ্যয় পি. ভি. কানে ড্র শ্রীযুক্ত স্থশীল কুমার দে'র রচনা আলোচন। করিয়া দেখিবেন। ধ্বনি-তত্বের অতিশয় তীক্ষ আধুনিক রুচিসম্মত ব্যাখ্য। দিয়াছেন শ্রীযুক্ত অতুলচন্দ্র গুপ্ত “কাব্য-জিজ্ভাসা? গ্রন্থে ; তীহার রচনা পড়িয়াই আমি এই পথে আকৃষ্ট হই। বর্তমান ভূমিকার শেষ পর্য্যন্ত পড়িলেই পাঠক দেখিতে পাঁইবেন যে শ্রীযুক্ত অতুলবাবুর মত ব্যাখ্যা এবং আমার মত ব্যাখ্যার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য আছে। কিন্ত “কাব্যজিজ্ঞাপা'র গ্রন্থকারের কাছে আমার কৃতজ্ঞতা সর্বাধিক |

মহাঁমহোপাধ্যায় পণ্ডিত শ্রীযুক্ত রমেশচন্দ্র তর্কতীর্ঘ মহাঁশয়ের নিকট আমি 'ধবন্তালৌক" অধ্যয়ন করি আর এই গ্রন্থরচন!র অ-ভযানে প্রতি পদক্ষেপে সতীর্ঘ শ্রীগোপীনাথ ভট্টাচার্যের নিকট হইতে সাহাধ্য পাইয়াছি। এই স্থযোগে তাহাদের কাছে আমার খণ স্বীকার করিতেছি

(১) কাব্য সাহিত্য শব্দ অর্থের সৃষ্টি “সাহিত্য'-কথার অর্থ এই যে তাহার মধ্যে শব্দ অর্থের সংযোগ হইয়াছে কাব্য সাহিত্য যে সৌন্দর্য্যের সৃষ্টি করে তাহাঁরও বৈশিষ্ট্য এখানেই পাওয়া যাইতে পারে। নিসর্গসৌন্দ্য্য মানুষের সৃষ্টি নয়; তাহ! সাহিত্য সকল প্রকার শিল্পকলার সৌন্দর্য্য হইতে পৃথক সঙ্গীত শব্ময়, কিন্তু সঙ্গীতের শব্দে অর্থ থাকিবার প্রয়োজন নাই, অধিকাংশ সময় অর্থ থাকেও না। চিত্রকলা, স্থপতি-শিল্প প্রভৃতিতে শব্দের প্রয়োগ হয় ন] এবং

| ১১]

তাহাদের যদি কোন অর্থ থাকে তাহ৷ শব্দার্থ নহে। স্ৃতরাং সাহিত্যের যে সৌন্দর্য্য, শব্দ অর্থের পথেই তাহার হুত্রের সন্ধান করিতে হইবে

আমর। শব্গুলি যে পর পর পাঁজাইয়। যাই তাহ" মধ্যে সৌন্দর্য্যের তারতম্য থাকে কোথাও সঙ্জ। খুব জমকালো রকমের হয়, “কবাও হাল্কা রকমের হয় এই সঙ্জার উপায় হইতেছে বর্ণ পদের সংঘটনা | কিন্তু বর্ণ পদের এই যে সঙ্জা- ইহার লক্ষ্য হইতেছে মাধুর্য, দীপ্তি বা ওজস্বিতা প্রভৃতি গুণলাঁভ। এই গুণগুলির মধ্যে কোন কোন গুণ কৌন কোন দেশের রচনারীতিতে অধিক পরিমাণে লক্ষিত হয় বলিয়া সেই সেই দেশের নামানুসারে রচনার রীতির সংজ্ঞা দেওয়া হইয়াছে কোন রীতিকে বলা হয় বৈদর্তী! কোন রীতিকে বল। হয় গৌড়ী, কোন রীতিকে বলা হয় পাঁঞ্চালী ; রচনার কৌশলের প্রতি লক্ষ্য রাখিয়া অপর যে সংজ্ঞা দেওয়া হইয়াছে তাঁহার নাঁম বৃত্তি উপনাগরিকা, গ্রাম্যা, পরুষা _ এই সকল নাম হইতেই ইহাদের বৈশিষ্ট্যের পরিচয় পাওয়া যাইবে বৃত্তি রীতি কাব্যশোভার বৈশিষ্ট্যের নীম মাত্র, সেই শোভার রহস্যের সন্ধান তাহারা দিতে পারে না।

শুধু গুণের ব্যাখ্যা করিলেও কাব্যজিজ্ঞাঁসা পরিতৃপ্ত হইবে না। গুণীর ধর্ম হইতেছে গুণ, গুণীকে না জাঁনিলে গুণের পরিচয় পাঁওয়া যাইবে না। শুরের গুণ শৌর্য্য, দীন্তিমানের গুণ দীপ্তি কোন বিশিষ্ট অর্থকে যদি কাব্যের আত্ম বলিয়া ধরিয়।৷ লওয়া হয় তাহা হইলে মাধ্ধ্যাদি গুণ তাঁহাকে আশ্রয় করিয়। বর্তমান থাকে এইরূপ বল৷ যাইতে পারে গুণ শুধু নামকরণ নহে, তাহা কাব্যের বৈশিষ্ট্যের আংশিক পরিচয়ও বটে। কিন্ত কাঁধ্যশোভার রহস্য প্রকাশ করিতে হইলে সেই আত্মার সন্ধান করিতে হইবে গুণসমূহ যাহাঁকে আশ্রয় করিয়! থাকে

কাব্য পৌন্দর্য্য সৃষ্টি করে ইহা অন্ুভবসিদ্ধ সুতরাঁং রমণীর দেহ যেমন কটক- কেমুরাদি অলঙ্কারের দ্বারা শোভাঁসমন্বিত হয়, তেমনি শব্ধ অর্থের কৌশলময় প্রয়োগের দ্বারা কাঁব্য সৌন্দর্য লাভ করে, এইরূপ অনুমান করা যাইতে পারে কোন সৌন্দর্ধ্যশালী বাঁক্যের বা সন্দর্তের বিশ্লেষণ করিলেই কতকগুলি সাধারণ স্থত্রের সন্ধান পীওয়া যাইতে পারে এই সামান্য ধর্মগুলির সংজ্ঞা দেওয়া হইয়াছে। কতকগুলিকে বল] হয় শব্ধালঙ্কার, যেমন অনুপ্রাপাদ্দিঃ কতকগুলিকে বলা হয় অর্থালঙ্কার, যেমন উপমা-রূপকাদি একথা অবশ্যন্থীকার্য্য যে অনুপ্রাস-উপমাদি কাব্যের শোভা ব্ধন করে এবং বোধহয় এইজন্যই আমাদের দেশে সাহিত্য

| ১২]

তবকে অলঙ্কারশাস্ত্রের অন্তর্গত বলিয়৷ নির্দেশ করা হয়। কিন্তু তবু এই মত সম্পূর্ণ বলয়! গ্রাহ্ হইতে পারে না। প্রথমতঃ, অলঙ্কার বলিলে অলক্কীর্য্য থাকিবে কেহ নিজে নিজের অলঙ্কার হইতে পারে না। সুতরাং গুণের অন্তরালে যেমন গুণীকে খুঁজিতে হয় তেমনি অলঙ্কারের অন্তরালে অলঙ্ার্য্যকে পাইতে হইবে তারপর অলঙ্কারের ধর্মই এই যে তাহা অবসর মত গ্রহণ ত্যাগ করা যায়। আবার এমন অনেক রূপসী আছেন যাঁহাঁদের রূপ নিরাতরণ- তার মধ্য দিয়াই সমধিক পরিস্ফুট হইয়া উঠে। তেমনি এমন কাব্যও আছে যাহার মধ্যে কোন পরিচিত অলঙ্কার না থাকিলেও তাহার কাঁব্যসৌন্দর্য্যের অণু- মাত্র হানি হয় না। আচাধ্য মম্মটভট এই প্রসঙ্গে নিয়লিখিত শ্লোকটির উল্লেখ, করিয়াছেন

যঃ কৌমারহরঃ এব হি বরস্তা এব চৈত্রক্ষপা-

স্তে চোন্নীলিতমালতীস্থরভয়ঃ প্রৌঢ় কদম্বানিলাঃ |

সা চৈবাম্মি তথাপি তত্র স্থরতব্যাপারলীলাবিধো

রেবারোধসি বেতসীতরুতলে চেতঃ সমুৎকতে যে নায়ক আমার কৌমার্য্য হরণ করিয়াছিল সে তেমনি আছে; সেই চৈত্র- রজনীও আছে, উন্মেষিত মালতীকুম্থমের সৌরভাঁকুল কদগ্ববনের প্রগল্ভ বাঁয়ু পূর্বের মতই আছে ; আমিও তেমনি আছে। তবু রেবাঁতীরস্থ বেতস-বৃক্ষের তলে স্রতলীলাঁর জন্য আমার চিত্ত উৎকন্ঠিত হয়

এই কবিতাটির সৌন্দধ্য অপরূপ, অথচ ইহার মধ্যে কোন অলঙ্কার নাই। ইহার সৌন্দর্য্যকে আশ্রয় করিয়া একট? নূতন অলঙ্কারের উদ্ভাবন কর! যাইতে পারে বটে, কিন্তু এইভাবে অগ্রসর হইলে অলঙ্কার অসংখ্য হইয়া! পড়িবে, এবং তাহার দ্বারা কাব্যসৌন্দর্যের কোন স্থসর্গত ব্যাখ্যা পাওয়া যাইবে না রমণীদেহের তুলনাঁটি স্মরণ রাখিলে আর একটি যুক্তির অবতারণা করিয়া

অলঙ্কারবাদের অসম্পূর্ণতা প্রমাণ করা যাইতে পাঁরে। অলঙ্কার বাহিরের, বস্ত, কিন্তু রূপসীর অলঙ্কারের অপেক্ষা অধিক মনোহারী হইতেছে তাহার লাবণ্য এই লাবণ্য অবয়বসংস্থানের দ্বারা আক্ষিপ্ত হইয়া থাকে, কিন্ত ইহা অবয়বসংস্থান হইতে পৃথকরূপেই পরিগণিত হইর়। থাকে অলঙ্কার এই পসৌন্দর্ধ্যকে বাঁড়াইয়া দেয়, কিন্ত তাহা এই সৌন্দর্য্যের প্রাণ হইতে পারে না। রমণীদেহ অনেক সময় অলঙ্কারের বাঁহুল্যের দ্বারা ভারাক্রান্ত হয়; তখন সৌন্দর্য উপচিত না হইয়া

| ১৩

'বরং ক্ষুণ্নই হ্য়। কিন্তু কেহ বলিবে না কোন রমণী লাবণ্যবাহুল্যের দ্বার] ভারাক্রান্ত হইয়াছে তেমনি অনেক কান্যও অলঙ্কারের আতিশয্যে পীড়িত হয়। অথচ কোন শ্রেষ্ঠ কাব্যেই সৌন্দর্য্যের বাছল্য হইতে পারে ল!।

(২) এখন বিচার করিয়৷ দেখিতে হইবে শব্দার্থের কোন্‌ শক্তির বলে কাব্যের

'সৌন্দর্ষ্ের হৃষ্টি হয়। একটি দৃষ্টান্ত লওয়া যাঁক্‌ :

কৃতে বরকথালীপে কুমার্যঃ পুলকোঁদগিমৈঃ |

স্চয়ন্তি স্পৃহা মন্তর্লজ্জয়াবনতাননাঃ ভাবী বরের বিষয় আলোচিত হইলে কুমারীরা লঙ্জীয় অবনতমুখী হইয়া পুলক উদগমের দ্বারা অন্তঃস্থিত স্পৃহা স্ুচিত করে। এখানে বক্তব্য কথা সহজ, সাধীরণভাঁবে কথিত হইয়ীছে। এই অর্থই কাঁলিদীস “কুমীরসম্তব'-কীব্যে এই ভাবে প্রকাশ করিয়াছেন :

এবংবাদিনি দেবর্ষো পার্থে পিতুরধোমুখী

লীলাকমলপত্রাণি গণয়ামাঁস পার্বতী 'দেবষি নারদ পার্বতীর শিবের সঙ্গে বিবাহের কথা বলিলে পার্বতী পিতার পাঁশে অবনতমুখে বসিয়া লীলাঁপদ্মের দল গণিতে লাগিলেন

পূর্ব্বোদ্ধত শ্লোকটিকে কেহ শ্রেষ্ঠ কাব্য বলিবেন না, উহাকে কাব্য বলিয়।

স্বীকার করিতেই অধিকাংশ পাঠক আপত্তি করিবেন। দ্বিতীয়টি যে সুন্দর কাব্য ইহ সর্বববাঁদিসম্মত। ইহার কাব্যত্ব কোথায়? খানিকট। কাব্যত্ব আহত হইয়াছে পার্ববতীর পূর্বব ইতিহাস হইতে যাহারা পার্বতীর তপশ্চ্য্যা প্রভৃতির কথা জানেন তাহার! তীহার ব্যবহারের তাৎপর্য্য বিশেষভাবে হৃদয়ঙ্গম করিবেন কিন্তু সেই পূর্ব ইতিহাসের সঙ্গে “কৃতে বরকথালাপে" পণ্চটি যোগ করিয়া দিলে বিশেষ চারুত্বলাভ হইত না। কালিদাসের শ্লোকটি আলোচন! করিলে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে প্রকট হইয়া! পড়ে। ইহার মধ্যে লজ্জা বা স্পৃহার কথা সৌজাস্থজি- ভাবে বলা হয় নাই শুধু যে লজ্জা, পুলক, স্পৃহা প্রভৃতি শব্বই ব্যবহৃত হয় নাই তাঁহা নহে; যে সকল শব্দ ব্যবহৃত হইয়াছে তাহাদের আক্ষরিক অর্থ করিলেও সপুলক লজ্জা পাওয়া যাইবে না। অপর যে কেহ অনন্তকাল ধরিয়া লীলাপদ্ন ' গণনা করিতে পারে, পার্বতীও অন্ত সময়ে লীলাপন্ন গণনা করিতে পারেন। কেহ

| ১৪ ]

বলিবে না যে তাহা লজ্জা ব৷ স্পৃহা বুঝাঁইবে। কিন্তু এখানে অধোমুখীনতা৷ লীলাঁকমলের গণনার নিজন্ব, সহজবোধ্য অর্থ গৌণ হইয়। গিয়াছে এবং সলজ্জ প্রেমাতুরতাই প্রাধান্য পাইয়াছে। এই প্রধানীভূত দ্বিতীয় অর্থের নাম ব্যঞ্জন! বা ধ্বনি এবং আ'নন্দবদ্ধন-অভিনবপ্তপ্তের মতে ইহাই কাব্যের প্রাণ!

স্থতরাঁং দেখা যাইতেছে যে, কাব্যে শব্দের ছুইটি অর্থ পাওয়া যাইতে পারে একটি শব্দের সহজ, সাধারণ অর্থ শবের সৃষ্টি কেমন করিয়া হয় সেই রহস্তে প্রবেশ না করিয়াই বল যাইতে পারে যে প্রত্যেক শব্দই একটি বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে। মনে হয় ইহাই তাহার হৃষ্টির প্রয়োজন প্রথমে অর্থ ন। প্রথমে শব্দ, সেই তর্ক এখাঁনে অবান্তর ইহা মানিতেই হইবে যে প্রত্যেক শব্ধের সঙ্গেই একটি অর্থ গাঁথা! থাকে; ইহাঁকে বলা যাইতে পারে সঙ্কেত। এই সঙ্কেতিত অর্থের নাম বাচ্যার্থ। ইহার অপর নাম অভিধা শব্দ সাক্ষাতভাবে এই অর্থ জানাইয়। দেয় | এই অর্থ শব্দের মধ্যে কোন ব্যবধান নাই

অনেক সময় অভিধা গ্রহণ করিলে কোন সঙ্গত অর্থ পাঁওয়! যাঁয় না। পুরুষসিংহ বলিলে নরসিংহ অবতার বুঝায় না অথচ পুরুষ তো আর সিংহ নয়। আজকাল একটা কথা প্রায়ই শোনা যাঁয়_কাঁলে৷ বাজার। আক্ষরিক অর্থ করিলে ইহীর দ্বারা মসীকৃষ্ণ বিপণিশ্রেণী বোঝা যাইবে, কিন্তু সেই অর্থ অর্থহীন | 'কালোশব্দবের 'সিংহ-শব্দের মুখ্য অভিহিত অর্থ এখানে বাধিত হইয়াছে 'পুরুষসিংহ' বলিলে তেজস্বিত। বুঝিব আর “কাঁলো৷ বাঁজার' বলিলে কি বুঝিব তাহার ব্যাখ্যা নিশ্রয়োজন এই জাতীয় অর্থকে বলে লাক্ষণিক বা গৌণ অর্থ কিন্ত এই অর্থও বাচ্য অর্থের অঙ্গই। কারণ “কালে বাজার বা 'পুরুষপিংহ' বলিলে প্রথমে কষ্কত্ব বা সিংহত্ব বুঝাইয়া পরে দুর্নীতি তেজখ্িতা বুঝায় না। প্রাথমিক অর্থ বাধিত হওয়ায় অভিপ্রেত অর্থ সৌজাস্থজিভাবে লক্ষিত হয় ; এই সোঁজান্থজিভাবে পাওয়। লক্ষিত অর্থের পরেও আর একটি অর্থ গোণতিত হইতে পাঁরে, কিন্তু নাও হইতে পারে আবার “এবংবাদিনি'-_ প্রভৃতিতে এই জাতীয় লাক্ষণিক অর্থ একেবারেই নাই, অথচ প্রথম অর্থের সঙ্গে সম্বন্ধযুক্ত দ্বিতীয় অর্থ প্রকাশিত হয়। লক্ষ্য করিতে হইবে যে এখানে প্রাথমিক অর্থ বাধিত হয় নাই; বরং নিজেকে সম্পূর্ণ করিয়া দ্বিতীয় অর্থ আক্ষিপ্ত করিতেছে ।. ফল কথা এই যে, লাক্ষণিক অর্থ এমন প্রসিদ্ধি লাভ করিয়াছে যে তাহ। সোজাস্থজিভাবেই প্রকাশিত হয়, প্রাথমিক অর্থ লাক্ষণিক অর্থের মধ্যে কোন ক্রম থাকে না, কারণ

| ১৫]

অভিধাষুলক প্রাথমিক অর্থ উদ্বোধিতই হয় না। স্থৃতরাং লাঁক্ষণিক অর্থ বাঁচ্য অর্থেরই অন্তর্গত | “এবংবাঁদিনি দেবর্ষে” _পছ্যবন্ধটি খাঁটি ব্যগ্রনার নিদর্শন ইহার বিশ্লেষণ করিলে বাচ্য অর্থ ব্যঙ্গ্য অর্থের পার্থক্য এবং ব্যঞ্জনার বৈশিষ্ট্য প্রতিপন্ন হইবে। বাচ্য অর্থ সাক্ষাৎভাঁবে শব্দের দ্বারা উক্ত হইয়৷ থাকে; ইহা শব্দের সঙ্গে সম্বদ্ধ। ব্্গ্য অর্থ শব্বশক্তিযূলক অর্থশক্তিমূলক - উভয়ই হইতে পাঁরে। কিন্তু কোথাও ইহা সাক্ষাৎভাবে শব্দের সঙ্গে যুক্ত নহে। শব্দের সঙ্গে সন্বদ্ধ যে বাচ্যার্থ ইহা তাহীর সঙ্গে সন্বদ্ধ স্থতরাঁং শব্দের বাচ্য অর্থ ব্যঙ্গ্য অর্থের মধ্যে খানিকটা দূরত্ব থাকে এই ক্রম সব সময় লক্ষিত হয় না এবং অধিকাঁংশ সময় বাঁচ্য অর্থ ব্যঙ্গ্য অর্থ পৃথক্‌ হইয়া! প্রতীতও হয় না কিন্তু তবু এই দূরত্ব বা ক্রম অবশ্থস্তাবী অধোমুখীনতা৷ পদ্মদলগণনাঁর সহজ অর্থের উপলব্ধির পর ব্যঙ্গ্য লজ্জা স্পৃহা গ্যোঁতিত হয় কয়েকটি দৃষ্টান্তের আলোঁচন। করিলে বাচ্য অর্থ ব্যদ্গ্য অর্থের পার্থক্য আরও স্পষ্ট হইবে নিম্নলিখিত গ্লোঁকটি প্রথমে বিচার কর। যাক : যেন ধ্বস্তমনোৌভবেন বলিজিংকায়ঃ পুরাস্ত্রীকূতে। যশ্চোদ,স্ততুজঙ্গহারবলয়ে। গঞ্ধাং যোখধারয়ৎ। যন্যাছুঃ শশিমচ্ছিরো হর ইতি স্তত্যং নামাঁপরাঃ পায়াৎ স্বয়ং অন্ধকক্ষয়করস্ত্রীং সর্বদৌমাধবঃ | ( অন্ুবাদ-_-পৃ. ১৩৪-৩৫ ) এই শ্লোক বিষণ অথবা শিবের স্তব হিসাবে পড়া যাইতে পাঁরে। কিন্তু একটি অর্থ হইতে আর একটি অর্থে উপনীত হইতে হয় না। শব্গুলিই ছুইটি অর্থ সাক্ষীতভাঁবে প্রকাশ করে যেমন “সর্বদৌমাধবহঃ শব্দের দ্বারা 'সর্বদাত। মাধব, অথবা 'সর্ধবদা উমাধব” উভয়ই বুঝাইতে পারে এইভাবে প্রসঙ্গাহুসারে প্রত্যেক শবের ব্যাখ্যা করিতে হইবে একটি অর্থ আর একচি অর্থ আক্ষিপ্ত করিতেছে না। ইহার সঙ্গে তুলন। কর] যাঁক্‌ : রম্য ইতি প্রীপ্তবতীঃ পতাঁকাঃ রাঁগং বিবিক্তা ইতি ব্দয়ন্তীঃ | যস্যামসেবন্ত নমদ্বলীকাঃ সমং বধূতিরবলভীবুবাঁনঃ ( অন্বাঁদ--পৃ. ১৬৩ ) যুবার। বধুদিগের সহিত বলভীদিগকে সেবা করিত, ইহাই এখানে বাচ্য অর্থ।

[ ১৬ ]

কিন্ত এই বাচ্য অর্থের বোধের পর আর একটি প্রতীতি ধ্বনিত হয়। তাহ হইতেছে এই যে বলভীগুলি বধূদের মতই “বলীকা” প্রভৃতি শবের মধ্যে যে ছুইটি অর্থ আছে তাহাই এই তুল্যরূপতার মূল। স্থতরাঁং মূলক অর্থ এখানে ব্যঞ্নার সাহায্যে পাওয়া যাইতেছে এবং বাচ্য ব্যঙ্গ্য অর্থের মধ্যে খানিকট। দুরত্ব আছে। এই দূরত্ব আরও স্পষ্ট হইবে নিঙ্ঈলিখিত দৃষ্টান্তে :

অত্রান্তরে কুস্থমসময়যুগমুপসংহরন্নজ-স্তত গ্রীত্মাভিধানঃ ফুল্পমল্লিকাধবলাটউহাসে। মহাকালঃ। ( অন্ুবাদ্‌--পৃ. ১৪০)

এখানে প্রসঙ্গ হইল গ্রীম্মধতুর অভ্যাঁগম। কিন্তু শব্দগুলি এমনভাবে নির্বাচিত সন্নিবেশিত হইয়াছে যে গ্রীস্মের বর্ণনার অন্তরালে মহীকাঁলাখ্য শিবের মহিমাই প্রতিভাত হইয়াছে ইহা! প্রসঙ্গ-বহির্ভূত এবং বাচ্য অর্থের সঙ্গে অসন্বদ্ধ, কারণ কালের সঙ্গে শিবের সম্বন্ধ সাক্ষাতভাঁবে প্রতীত হয় নাই। সেইজন্য বাচ্য অর্থ ব্যঙ্গ্য অর্থের মধ্যে ব্যবধান সুস্পষ্ট অথচ যুগের সংহরণ করিয়। অস্টহীসের সহিত যিনি নিজেকে বিজংস্তিত করিলেন তিনি কালের অধীশ্বর মহাঁদেব ছাড়া আর কে হইবেন ?

বাচ্য অর্থ ব্যঙ্গ্য অর্থের পার্থক্য অন্তভাবেও বিচার কর! যাইতে পারে? বাচ্য অর্থ প্রসিদ্ধ ; তাহা শব্দের সঙ্গে প্রসক্ত হইয়৷ থাকে যে মুহূর্তে কোন পদ উচ্চারিত হইবে তখনই একটি অর্থের বোধ হইবে ইহাকে বল। যাইতে পারে শব্দের সঙ্গে অর্থের নিয়ত সম্বন্ধ | কিন্তু বক্তার অভিপ্রীয়ান্ষসাঁরে কোন কোন স্থানে এই নিয়তসম্বন্ষবিশিষ্ট অর্থকে অতিক্রম করিয়া আর একটি অর্থ আক্ষিপ্ত হইতে পাঁরে। এই আরোপিত, উপাধিক, অনিয়ত সথ্বন্ধকে ব্যগঁনা বল৷ যাঁইতে পারে চন্দ্রের শীতল কিরণ সন্তাপ দূর করে, সন্তাঁপের সৃষ্টি করিতে পারে না। শীতল কিরণের ইহাই অর্থ। কিন্তু কোন বিরহী চন্দ্রকিরণ দেখিয়া সমধিক সম্তপ্ত হইতে পারে। তাহার পক্ষে শীতল কিরণ শীতলত্ব পরিত্যাগ করিয়া চিত্তদাহ্‌ সৃষ্টি করিবে চন্দ্রকিরণের সন্তাপক তীক্ষতার কথা যর্দি কেহ বলে, তবে সেই অর্থ কোন বিশেষ বক্তার অভিপ্রাব্র-প্রণোদিত হইয়াই প্রতিভাত হইবে এবং বিশেষ অধিকারী বোদ্ধাই তাহা উপলব্ধি করিবে এই বিশেষ বক্তা শ্রোতাঁকে বল! হয় সহৃদয়; ইহারা একে অপরের কথা বুঝিতে পারে বিশেষ-অভিপ্রায়- প্রণোদিত অর্থ ইহাদের সম্পদ; বাচ্য অর্থ সহৃদয়-অসন্ৃদয় সকলের সম্পত্তি।

শব্দ অর্থের দ্বারা মানুষ যে সকল শাস্ত্র রচনা করিয়াছে তাহাদিগকে

[ ১৭]

মোটামুটি দুইভাগে ভাগ করা যাইতে পারে কতকগুলিকে বল। যাইতে পারে প্রমাণমূলক ইতিহাস বিজ্ঞানশীস্্র এই শ্রেণীতে পড়ে। ইহা এইরূপ হ্ইয়া- ছিল, ইহা এইরূপ হয়, ইহা এইরূপ হইবে _-এই জ্ঞান অবান্দিচারী, সকলের সম্পর্কে ইহ প্রযৌজ্য, বক্তার অভিপ্রায় এখানে অকিঞ্িংকর, প্রত্যেক প্রতিজ্ঞা প্রত্যক্ষাদি- প্রযাঁণসাপেক্ষ। এই জাতীয় শাস্ত্রে শব্দের বাচ্য অর্থই একমাত্র অবলম্বন শ্বীতল'-শব্দে শীতলত্ব ছাড়া অন্য কিছু বুঝাইতে গেলে এই শাস্ত্র সর্ববথা বাধিত হইবে। ধুম শুধু যে আগুনের অস্তিত্বই সুচিত করে তাহা নহে, তাহার অন্য খু ধর্ম আছে। কিন্তু অগ্রিজ্ঞাপকত্ব ধূমের একটি অব্যভিচারী ধর্ম অর্থাৎ ধুম থাকিলে যে আগুন থাঁকিবে ইহার কখনও ব্যত্যয় হইতে পারে না। ধুম” শব্দের এই নিয়ত অর্থই প্রমাঁণ-শান্ত্র গ্রহণ করে কোন বক্তা যদি মনে করেন ধূমের এমন অর্থ গ্রহণ করিবেন যাহার মধ্যে অগ্রিজ্ঞাৌপকতা৷ নাই বরং তাহার বিরোধিতা আছে তাহা হইলে তাহা ইতিহাঁস-বিজ্ঞানের ধিষয় হইতে পারে না। এক শ্রেণীর প্রমাণ আছে যেখানে প্রথমতঃ মনে হয় যে শুপু ঝাচ্য অর্থই যথেষ্ট নহে। দেবদত্ত দিনে ভোজন করে না অথচ সে স্থলকায় ইহা হইতে স্পষ্টই বোঝা যায় যে দেবদত্ত রাত্রিতে ভোজন করে। লক্ষ্য করিয়। দেখিতে হইবে এই অর্থ বক্তার ইচ্ছাঁধীন নহে ইহাঁও প্রাথমিক বাচ্য অর্থেরই অন্তর্গত; এই অর্থ বুঝাইয়াই বাচ্য অর্থ পরিসমীপ্তি লাভ করিতেছে

আর এক শ্রেণীর শান্তর আছে যাহাঁকে বল। যাঁয়-_-ধর্মশাত্ত্র বা নীতিশান্ত্র। এখানে বক্তা কোন কাজে অপর সকলকে নিযুক্ত করিতেছেন। এই শাস্ত্র প্রচারকের উদ্দশ্তেনিষ্ঠ বলিয়। সাধারণতঃ ইহা! ইতিহীস-বিজ্ঞানের মত প্রামাণ্য হইতে পারে ন]। কিন্ত প্রচারের সাফল্যের উদ্দেশ্তেই প্রচারক নিজের অভিপ্রায়কে গৌণ করিয়া বলিতে চেষ্টা করেন যে তাহার বক্তব্য সর্বসাধারণপ্রযৌজ্য ; তিনি এই নীতির প্রচারক হইলেও তাহার ব্যক্তিগত ইচ্ছা ইহার নিয়ামক নহে ধাঁহীরা ঈশ্বরে বা ধর্মশাস্তে বিশ্বাস করেন তাহারা নিজেদের ধর্গ্রন্থকে অপৌরুষের বলিয়। মনে করেন ; স্থতরাং ধর্মশাস্ত্র সর্বজনপ্রচারিত, ব্যক্তির ইচ্ছাঁনিরপেক্ষ অর্থ গ্রহণ করে যদি সেই অর্থ ছাড়া অপর অর্থ আরোপ করার চেষ্টা কর! হয় তাহা হইলে ইহার সার্বজনীনতা৷ নষ্ট হইয়া] যাইবে ইতিহাস, বিজ্ঞান ধর্মশান্ত্রের বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাঁখিলেই তথায় বাচ্য অর্থের উপযোগিতা স্পষ্ট হইবে যদি বক্তার ব। সহৃদয়ের ইচ্ছানুসারে শব্দের অর্থ করা যাইত তাহ। হইলে প্রমাণ-প্রয়োগ

ড়

[১৮]...

উঠিয়া যাইত, সর্ববাঁদিসম্মত, ন্যাঁয়শাস্ত্রের অনুমোদিত কোন তত্‌ প্রচার করা হইত ন!| | বক্তার অভিপ্রায়কে প্রাধান্য দিলে শব্দ অর্থের প্রতিপাগ্ভবিষয়েরও রূপান্তর ঘটে, তাহাঁদের মধ্যে দিয় নৃতন স্থর ধ্বনিত হয়। ছুইজনে মিলিয়া কথা বলিতেছি। আমার ইচ্ছা নয় যে শ্রোতা কোন একটি জায়গায় যায়। আমি সেই স্থানের উল্লেখ করিয়া বলিলাম, যাইয়াই দেখ সেখানে যে প্রসঙ্গ লইয়া আলাপ করিতেছি সেই প্রসঙ্গ স্মরণ করিয়া এবং আমার বলিবাঁর ভঙ্গী হইতে শ্রোতা বুঝিতে পারিল যে তাহার যাওয়া আমার অভিপ্রেত নহে এখানে “যাও” কথার বাচ্যার্থ “যাওয়া কিন্তু ব্যঙ্গ্যার্থ হইল, “যাইও না”। এইখানে ব্যপ্রনা সুচিত হইয়াছে, কিন্তু কেহ বলিবে না ইহা কাব্য স্থতরাৎ ব্যপ্জনা থাঁকিলেই যে কাব্যত্ব থাকিবে তাহা বলা যায় না। ইহার সঙ্গে তুলনা করি : ভ্রম ধান্মিক বিন: শুনকৌোহগয মারিতস্তেন | গোঁদীবরীনদীকৃললতাগহনবাঁসিন। দৃপ্তসিংহেন ( অনুবাঁদ-পৃ- ২১) ভয়ত্র বণচ্য অর্থে রহিয়'ছে বিধি এবং ব্যাঙ্গ্যে রহিয়াছে নিষেধ ধ্বনিত ব্যন্থ্য বস্ত দ্বিতীয় উদাহরণে কাব্যকথায় পরিণত হইয়াছে এই বৈশিষ্ট্যের কারণ কি? পূর্বে প্রম্যা ইতি প্রীপ্তবতীঃ পতাকাঃ”--ইত্যাদি যে পঞ্ভাংশ উদ্ধত হইয়াছে তাহার মধ্যে শ্রেষ অলঙ্কার ব্যঞ্রিত হইয়াছে এবং যুবাঁদের রতিভাব প্রকাশিত হইয়ীছে। ইহা! প্রধাঁনতঃ অলঙ্কার-ধ্বনির উদাহরণ, কারণ এখানে “বলীকা”-প্রভৃতি শব্দের দ্বর্থবোধকত্বের উপর এতটা জৌর দেওয়া হইয়াছে যে রতিভাব অপেক্ষা অলঙ্কারের কাঁরুকার্ধ্য প্রাধান্ত পাইয়াছে। ইহার সঙ্গে তুলন| করি : বীরাণাং রমতে ধুস্ণাঁরুণে ন্‌ তথা প্রিয়াস্তনোৎসঙ্গে দৃষ্টী রিপুগজকুস্তস্থলে যথা বহলঘিন্দুরে €(অন্ুবাদ-পৃ. ১৫৮ ) এখানে বলা হইতেছে যে বীরের] শক্রর গজকুস্ত বিমর্দন করিতে যতটা আনন্দ পাইয়। থাকেন প্রিয়ার স্তনে ততটা পান না| এখানে ব্যতিরেক অলঙ্কারের অন্তরালে প্রিয়ার স্তন গজকুস্তের সাদৃশ্ঠযুূলক উপমা ধ্বনিত হইতেছে এই দুইটি শ্লোক পৃর্বেবোদীহৃত রম্য ইতি” প্রভৃতি অপেক্ষা কাব্য হিসাবে শ্রেষ্ঠ তাহার কারণ কি? উপরের দৃষ্টান্তগুলি আলোচনা করিলে দেখা যাঁয় যে সেই সব পদ্যবন্ধই কাব্যত্

[১৯]

'লাভ করে যেখানে হৃদয়স্থিত ভাঁব প্রকাশিত হইয়। রসত্ব প্রাপ্ত হয় যেরমণী ধানিককে ভ্রমণ করিতে নিষেধ করিয়াছিল দে গোঁদাবরীকৃললতাগহনে প্রণয়ীর সঙ্গে মিলিত হইতে চাঁহিত। তাঁহার নিষেধের মধ্য ঘিঃ। তাহার প্রণয়কাজ্জাই প্রকাশিত হইয়াছে গজকুস্তের সঙ্গে রমণীর কুচের তুলনা! উপমাঁগর্ত অতিশয়োক্তি- মীত্র, কিন্তু উল্লিখিত প্লোকে এই উপমার মধ্য দিয়া বীরের উৎসাহ প্রণয়ীর রতি চিত্রিত হইয়াছে এবং ইহাই কাব্যত্বের প্রবাঁন উৎস। কাব্য রসাত্সক বাঁক্য এবং এই কবিতায় শৃঙ্গাররস বীররস প্রকাঁশিত হইয়াছে, সেই জঙ্যই ইহ চাঁরুত্ব লাভ করিয়াছে উপম। এই চাঁরুত্ব লাভের উপায় মাত্র

(8)

রস কি বস্ত? তাহার জন্ত ব্যপগ্রনাঁর প্রয়োজন উপযোগিতা কি? মানবের হৃদয়ে কতকগুলি প্রবৃত্তি বা ভাব নিহিত আছে--যেমন রতি, শোঁক, উৎসাহ, ক্রোধ প্রভৃতি। অলৌকিক জীবনে ইহারা প্রকাঁশিত হয় লৌকিক কর্মের মধ্য দিয়া বুদ্ধি ইহাঁদিগকে নিয়ন্ত্রিত করে এবং ইহাদের দার! নিয়ন্ত্রিত হয় এবং যখন লৌকিক জীধনে ইহারা নিক্কিয় থাকে তখনও পূর্ববসংস্কীর অভিজ্ঞতার ফলে ইহার! বাঁপনারূপে নিহিত থাকে লৌকিক জীবনে প্রত্যেক ব্যক্তিই নিজের ভাবের দ্বারা উদ্বোধিত হইয়। কাঁজে নিযুক্ত হয় এবং যাঁহ। নিতান্ত পরগত অর্থাৎ যে ভাঁবের দ্বারা সেস্পু্ট হয় না সেই সম্পর্কে ঘে উদাপীন থাঁকে। এই সমস্ত ভাব যদি ভাষায় প্রকাঁশ করিতে হয় তাঁহ৷ হইলে বাঁচ্য অর্থ সমধিক উপযোগী, কারণ বাচ্য অর্থের দ্বারাই ইহীর1 সাক্ষাৎভাবে প্রকাশিত হইবে কিন্তু এই প্রকাশের প্রয়োজন লৌকিক জগতে ইষ্সিদ্ধি এবং এই প্রয়োজনের জগতে একে অপরের তাঁবের সম্পর্কে উদাসীন থাকিবে, যদি না সেই ভাব তাহাকে স্পর্শ করে

এখন প্রশ্ন এই, এমন একট জগৎ কি রচনা করা সম্ভব যেখানে ভাবগুলি ব্যক্তিগত গণ্ডি অতিক্রম করিয়া যাইবে, যেখানে পরগত অনুভব সম্পর্কে আমরা উদাসীন হইব না, যেখানে লৌকিক জগতের ইষ্টসিদ্ধির অভিপ্রায়ে ইহাদিগকে সঙ্কুচিত করিতে হইবে না, যেখানে কর্মের মরুবালুতে ইহাদের আোত বাঁধা পাইবে না? এই জগৎই রসের কাব্যের জগৎ, যেহেতু ইহা লৌকিক জগৎ হইতে অনেকাংশে বিভিন্ন তাই রপকে বল! হয় অলৌকিক তাঁবকে রসরূপতা৷ পাইতে 'হুইলে তাহাঁকে ব্যক্তিগত গণ্ডি অতিক্রম করিয়৷ অন্য আধার খুঁজিতে হইবে মুনি

[ ২০]

বান্সীকি ক্রৌঞ্চমিথুনের একটির মৃত্যুতে শৌকাচ্ছন্ন হইয়াছিলেন ; সেই শোক তীহার নিজস্ব ভাব, ইহা লৌকিক জগতে কোন না কোন ভাবে প্রতিফলিত হইয়া থাকিবে কিন্তু কবি বাঁল্সীকি যখন কাব্য রচন। করিলেন, তখন ইহা! আর তাহার, নিজের ব্যক্তিগত শোঁক হইয়া রহিল না। ইহা নিখিল মানবের আনন্দনিধান করুণরসে রূপান্তরিত হইল চিত্তবৃত্তি সাধারণতঃ উচ্ছলনশীল ; পূর্ণকুস্ত হইতে যেমন জুল উচ্ছলিত হইয়া পড়ে তেমনিভাবে বাল্নীকির পরিপূর্ণ শোক হইতে যে অংশ উছলিয়া পড়িল, তাহা ব্যক্তিবিশেষের শোঁকমাত্র নহে, তাহা সকলের উপভোগ্য বস্ত হইয়া! পড়িল। এই পরিবর্তনে ক্রৌঞ্চেরও কোন বান্তবরূপ রহিল না, সে হইল করুণরসের আলম্বনবিভাব অর্থাৎ তাহাকে আশ্রয় করিয়৷ করুণরস আস্বাদিত হইল। লৌকিক জগতে যাঁহাকে বলা যায় কারণ অলৌকিক জগতে তাহাঁকে বলা হয় বিভাব। আঁর একটি দৃষ্টান্ত গ্রহণ করা যাঁক। রাজা দুস্তত্তকে দেখিয়া আশ্রম-মগ যে

পলায়নতৎপর হইয়াছিল তাহার বর্ণনা কাঁলিদীস দিয়াছেন এইভাবে :

গ্রীবাভঙ্গাঁভিরা মং মুহুরন্ষপততি স্যান্দনে দত্তৃষ্টিঃ

পশ্চার্দেন প্রবিষ্টঃ শরপতনভয়াদ্‌ ভূয়সা পূর্ববকায়মূ্‌।

দর্ভৈরদ্ীবিলীটে শ্রমবিবৃতমুখভ্রংশিভিঃ কীর্ণবত্ণ

পশ্টোদগ্রপ্নুতত্বাদ্‌ বিয়তি বহুতরং স্তোকমুর্বযাং প্রযাতি

এই যে তয় ইহা কাহার ভয়? যদি বলি ইহা মৃগশিশুর ভয় তাহা হইলে ঠিক

বলা হয় না। কারণ সে তো ভয়ে পলাইতেছে, অভিরাঁম গ্রীবাঁভঙ্গী দেখিবার অবকাশ তাঁহার নাই। যদি বলা যায় যে তাহার ভয়ই বণিত হইতেছে তাহ! হইলে এই জাতীয় বর্ণন। বাকৃবাহুল্য বলিয়া বঞ্জিত হইবে ; তাহা। হইলে শুধু এই কথা বলিলেই চলিত, মৃগশিশু ভয়ে পলাইতেছে, এবং তৎসম্পর্কে আমরা উদাসীন থাকিতাম। যদ্দি বলি ইহা কবি বা পাঠকের ভয় তাহাঁও ঠিক হইবে না, কারণ তাহা হইলে কবি পাঠক মুগশিশুর মত ভয়ে পলাইতেন। তৎপরিবর্তে আমরা মুগশিশুর কার্য্যকলাঁপ কল্পনানেত্রে দেখিয়া ভয়ানক রস উপলব্ধি করি। “ভয় শব্ধ প্রযুক্ত হইলেও তাহ। রসস্থষ্টির উপায় নহে, রসস্থষ্টির উপায় হইতেছে মৃগশিশ যাহা করিতেছে, তাঁহার অঙ্গভঙ্গী প্রভৃতি অলৌকিক রসজগতে ইহার নাম অন্ভাঁব ; যূল ভয়ের সঙ্গে আনুষক্ষিক যে শ্রান্তির কথা লিখিত হইয়াছে তাহা হইল স্থায়ীর সহযোগী সঞ্চারী.ভাব

[ ২১]

পুর্বেব বল! হইয়াছে যে, রসে যে ভাবের প্রকাশ হয় তাহা স্বগতও নয় পরগতও 'নয়। এই রস অলৌকিক বস্তু; বিভাঁব, অনুভাব ব্যভিচারী ভাবের সংযোগে ইহা নিষ্পন্ন হয়--এইরূপ মত ভরতমুনি প্রকাঁশ করিয়াছেন উল্লিখিতস্যত্রে তিনি স্থায়ী ভাবের নাম করেন নাই, অথচ আমরা সচরাঁচর বলিয়! থাকি যে ভাঁবই রসে পরিণত হয়। অন্ততঃ রসের মূল উপাদান যে ভীব সেই সম্পর্কে কোন সন্দেহ নাই। কথাটা আর একটু পরিষ্কার করিয়া দেওয়! প্রয়জন। ভাব কৰি বা সহৃদয়ের শ্বীয় চিত্তবৃত্তিতে থাকে এবং সেইখাঁনেই ইহার উপলবি হয়। কিন্ত পূর্বেই বল! হইয়াছে ঘে কবি-সহৃদয়ের নিজস্ব বস্তমীত্র হইলে ইহা, লৌকিক অনু- ভবের পর্য্যায়েই পড়িত। ইহা উদ্বোধিত হয় অপরের দ্বারা এবং অপরের মধ্যে ভাব যে সমস্ত সঞ্চারী ভাব-সমন্বিত হইয়া অনুভাঁবে পর্য্যবসিত হয় তাহাই কবি- সহৃদয়ের ভাঁবকে রসরূপতা৷ দান করে কবির শোক রহিল কবির হৃদয়ে, ক্রৌঞ্চের শোক রহিল ক্রোঞ্চের হৃদয়ে। কিন্তু ক্রৌঞ্চের কাতরতা ক্রন্দন প্রভৃতির সংযোগে কবির শোকের যে অংশ হৃদয় হইতে উদ্বেলিত হইয়া বাহিরে আসিয় পড়িল তাহাই করুণ রপের সৃষ্টি করিল। এখানে ত্রৌঞ্চ বিভাবমাত্র, অর্থাৎ সে রসসঞ্চারের কারণ। ইহার অতিরিক্ত মূল্য তাহার নাই। কবি-সহদয়ও কি ক্রৌঞ্চের সজাতীয়? আর রস যদি মুনির শোকও না হয়, ক্রৌঞ্চের শোঁকও না হয়, তবে তাহার আধার কোঁথাঁয়? সেই আধার হইল কবি-সহদয়ের প্রতীতি; ইহাই বিভাব হইতে কবি-সহৃদয়ের পার্থক্য শুপু আস্বাগমানতাই রসের প্রাণ এবং ইহাই 'রস"নামের সার্থকত। | প্রতীতি-বতিরিক্ত ইহার অন্ত কোন আধার নাই বলিয়াই ইহা অলৌকিক এবং এই জন্যই এই প্রতীতির অভিব্যক্তির জন্য ব্যপ্রনা অপরিহার্য যে বাচ্য অর্থ লৌকিক জগতের কার্ষ্য প্রয়োজন প্রকাশ করে, যাহা প্রমাঁণসাঁপেক্ষ ইতিহাস, বিজ্ঞান, দর্শন প্রভৃতির বাঁহন তাঁহা কেমন করিয়া ইহ! প্রকাশ করিবে? কেহ কেহ বলিয়াছেন যে কাব্যের প্রাণ হইতেছে বক্রোক্তি, যূলকথাকে গোঁপন করিয়া তাহাকে বক্রোক্তির সাহায্যে প্রকাশ করাই কাব্যের ধর্ম কাব্যে বন্রোক্তি থাকিলেও বক্রোক্তিই কাব্যের প্রাণ নহে কোন কেন স্থলে বক্রোক্তি ব্যতিরেকেই কাব্যত্ব লাভ হইতে পারে যেমন, সঙ্কেতকালমনসং বিটং জ্ঞাত্ব৷ বিদগ্ধ্যা | হসমেত্রাপিতাকুতং লীলাপদ্বং নিমীলিতম্‌ (অন্থবাঁদ পৃ. ১৪৭)

1 ২২]

এখানে লীলাকমল নিমীলনের ব্যঞ্জকত্ব সোজাস্থজিভাবে অ-বক্র উক্তির দ্বারাই: কথিত হইয়াছে সন্ধ্যার অভ্যাগম সম্পর্কে যেটুকু বক্রোক্তি আছে তাহা অকিঞ্চিংকর বাস্তবিক পক্ষে যেখানে আপাততঃ বক্রোঁক্তি প্রযুক্ত হইয়াছে বলিয়া মনে হয় সেইখাঁনেও প্রকৃতপক্ষে কোন বক্রোক্তি নাই যাহা আমাদের কাছে বক্রোক্তি বলিয়া মনে হয় রসসথষ্টির পক্ষে তাহাই একমাত্র উপায়, যেহেতু রস অলৌকিক এবং লৌকিক জগতে ব্যবহার্য্য ভাষ৷ সেইখানে প্রযুক্ত হইলে তাহ অলৌকিকের স্পর্শ পাইবে এবং এই স্পর্শ হইতেই ব্যঙ্গ্য অর্থ বক্রতা লাভ করে। এইজন্যই বলা যাইতে পারে যে কাব্যের ভাষা বক্র-স্বভাবে?ক্তি; লৌকিক জগতে যাহা বক্রোক্তি কাব্যের পক্ষে তাহাই স্বতাবৌক্তি। রস ব্যগরনার দ্বারাই লভ্য। কিন্তু ব্যগ্রনীর প্রাধান্য ন৷ হইলে রস সম্পূর্ণতা লাভ করিতে পারে না। কাব্যে ছুইটি অর্থ থাকিলেই ধ্বনি-কাব্যের স্থষ্টি হয় না; রসাভিমুখী অর্থকে মুখ্য হইয়া প্রতিভাত হইতে হইবে | বাঁচ্য যে অর্থ তাহার চারুত্ব থাকিতে পারে ; অর্থাৎ তাঁহাকে এমন ভাবে সাজান যাইতে পারে যে তাহা অপর কোন অর্থের প্রতি লক্ষ্য না রাখিলেও সুন্দর হইতে পারে। যেমন 'বীরাণাঁং রমতে' __ প্রভৃতিতে নাঁয়িকাঁর কুচযুগের সঙ্গে গজকুস্তের যে তুলন। করা হইয়াছে তাহার অল্গাধিক সৌন্দর্য্য আছে, কিন্ত সেই সৌন্দর্য্য তখনই শ্রেষ্ঠ কাব্য হইবে যখন আমরা তাহাকে রসের অঙ্গ বলিয়া মনে করিব। ইহাঁই অলঙ্কারের উপযোগিতা | অলঙ্কার বাঁচ্য অর্থ সম্পর্কেই প্রযোজ্য ; তাহা কাব্যের দেহের ভূষণ অলঙ্কীরবর্গ তখনই শ্রেষ্ঠ কাব্যের লক্ষণ হইয়া থাকে যখন তাহারা প্রতীয়মান রসকে আক্ষিপ্ত করে। যেখানে ব্যঙ্গ্যের স্পর্শ থাকিলেও ব্যঙ্গের প্রাধান্ত থাকে না সেই রচন] কাব্য হইলেও ধ্বনির উদাহরণ হইবে না। একটি দৃষ্টান্ত লওয়। যাঁক্‌ : উপৌঢরাগেণ বিলোলতারকং তথা গৃহীতং শশিন৷ নিশামুখম্‌। যথা সমস্তং তিমিরাংশুকং তয়] প্ুরোৎপি রাগাদগলিতং লক্ষিতম্‌ ( অনুবাদ _পৃ* ৫২ )' এখানে ৃর্ধ্যান্তের পর সন্ধ্যার অভ্যাঁগম বণিত হইয়াছে : ইহাই প্রাথমিক অর্থ, ইহাই বাচ্য এবং প্রধান ইহা বুঝাইবার জন্য নিশা শশীকে নায়িকা নায়করূপে কল্পনা কর। হইয়ীছে। এই যে শৃঙ্গীররসের আরোপ হইয়াছে ইহ! প্রধান নহে, ইহা রাত্রির অভ্যাগমের বর্ণনার অঙ্গ অর্থাৎ যাহ] বাচ্য ইহ!

[২৩]

তাহাকেই এশ্বধ্যবান করিতেছে ইহা সমাসোক্তি অলঙ্কারের নিদর্শন ইহার সঙ্গে যদি “অত্রান্তরে কুস্মপময়যুগমুপসংহরম্লজ-স্তত” _- প্রভৃতির তুলন1 করি তাহা! হইলে বাচ্য ব্যক্দের পার্থক্য বুঝিতে পারি। এই শেষোক্ত বর্ণনায় মহাকাঁল শিবের মহিমা ব্যঙ্গ্য এবং ইহ! বাঁচ্য নিসর্গবর্ণন1 অপেক্ষা খুব;ত৪ | আর একটি দৃষ্টান্তের অবতারণ। করিলে বিষয়টি ক্ফষুটতর হইবে : কিং হাস্তেন মে প্রযাস্তসি পুনঃ প্রাপ্তশ্চিগাদর্শনং কেয়ং নিফরুণ প্রবাসরুচিতা কেনাসি দুরীকৃতঃ | ্বপ্রীন্তেঘষিতি তে বদন্‌ প্রিয়তমব্যাসক্তকণ্ঠগ্রহো বুদ্ধা রোদিতি রিক্তবছবলয়স্তারং রিপুস্ত্রীজনঃ ( অন্ুবাদ--পৃ. ১০৪) এখাঁনে কোন চাকার বলিতেছেন, “তুমি শক্র নিধন করিতেছ।” এই নিরলঙ্কার বাক্যে কোন সৌন্দর্য্য নাই। ইহাকে চাঁরুত্ব দান করার জন্য কৰি শত্রললনাদের দুর্দশার কথা বলিতেছেন ইহা করুণরস এবং করুণরস এখানে ধাচ্য | বীরের প্রভাবাতিশয্য এখানে ব্যঙ্গ্য, সেই ব্যঙ্ক্য অর্থকে অলম্কৃত করিতেছে করুণরস। কাজেই ইহাও অলঙ্কীরেরই উদীহরণ-_ধ্বনির নহে। আনন্দবর্ধন ইহার নাম দিয়াছেন রসবদ্‌ অলঙ্কার | নাম যাহাই হউক, ধ্বনিবাদীদের যূল যুক্তি এই থে, বাচ্য অর্থ ব্যঙ্গ্য অর্থ ছুইটি পৃথক বস্ত। একটি অপরটিকে আক্ষিপ্ত করে। যেখানে ব্যঙ্গ্য প্রাধান্য লাভ করিয়াছে তাহাই ধ্বনির বিষম বস্ত, অলঙ্কার রস- এই তিনই ধ্বনিত হইতে পারে তন্মধ্যে বস্তববনি অলঙ্কার- ধ্বনি রসধবনিতে পর্য্যবসিত হইলে তাহার! শ্রেষ্ঠ কাব্যত্ব লাভ করে। যেখানে বাচ্য প্রাধান্য লাভ করে তাহা ধ্বনি নহে। অলঙ্কীরবর্গ বাঁচ্যেরই অন্তর্গত ; এমন কি রসাদিও যদি ব্যঙ্গ্য বস্তর উপকরণ হয় তাহা হইলে তাহা অলঙ্কারের পধ্যায়েই পড়ে।

(৫) এখন প্রশ্ন এই : বাচ্য ব্যঙ্গ, লৌকিক অলৌকিক, কাব্য দর্শনবিজ্ঞান প্রভৃতির মধ্যে সম্পর্ক কোথায়? রস কি শুধু আস্বাদন্বরূপ? যদি তাহাই হয়, তবে তাহার পক্ষে লৌকিক ভীব বা ইতিহীসাদির প্রয়োজন হয় কেন? আ'নন্দবদ্ধন বাচ্যকে রসহৃষ্টি হইতে একেবারে বাদ দেন নাই তিনি বাচ্য অর্থকে ব্যঞ্জনার

[ ২৪ ]

ভূমি বলিয়। নির্দেশ করিয়াছেন অন্থাত্র তিনি বলিয়াছেন যে আলোকার্থ যেমন দীপশিখায় যত্বুবাঁন্‌ হয়েন, ব্য্ধ্যার্থ প্রয়াপীও তেমনি বাচ্যের প্রতি অভিনিবেশ করিবেন। তিনি আরও বলিয়াছেন যে, যেমন পদের অর্থের সাহায্যে বাক্যার্থকে জানা যাঁয় তেমনি বাঁচ্যার্থের সাহায্যে ব্যঙ্গ্কে জীনা যায়। যদিও বাঁক্যার্থের উপলব্িতে পদের অর্থ পৃথকভাবে প্রতিভাঁত হয় না, তবুও বাঁকোর অর্থ প্রকাঁশিত হইলেও পদের অর্থ দূরীভূত হয় না আলো! প্রকাশ করিয়াই প্রদীপশিখা নিবৃত্ত হয় না, সে নিজের অস্তিত্বও জানাইয়। দেয় | বণচ্য ইতিবৃত্তাঁদি বর্ণনা করে এবং সেই ইতিবৃত্ত কাব্যের শরীর ব্যঙ্গ্য অর্থ শরীরের অন্তরস্থিত আত্মা। আবার তিনি ইহাঁও বলিয়াছেন যে ব্যঙ্গ্য হইতেছে অবয়বসংস্থানাতিরিক্ত দেহলাবণ্য। অন্য উপমার সাহায্যে তিনি বলিয়াছেন যে বাচ্য হইতেছে নিমিত্ত এবং ব্যঙ্গ হইতেছে নৈমিত্তিক | বিভাঁবাঁদি বাচ্যকে নিমিত্ত করিয়াই নৈমিত্তিক ব্যঙ্গ্য রস প্রতীত হয়

এই সমস্ত তুলনা হইতে ইহা প্রতীয়মান হয় যে বাচ্য ব্যঙ্গের সম্বন্ধ খুব ঘনিষ্ঠ কিন্তু এই ঘনিষ্ঠ স্বন্ধের স্বরূপ স্পষ্ট হয় নাই। টীকাকার অভিনবগুপ্ত রসের আস্বাদময়ত্ব প্রমাণ করিতে যাইয়া বাচ্যার্কে একটু ছোট করিয়। দেখিয়াছেন। তিনি বাচ্যার্থের নিব্বিবাদসিদ্ধত্ব স্বীকার করিয়। ব্য্গ্যার্থের বিবরণ দিয়াছেন ; তাঁহার আলোচনা হইতে কেহ কেহ মনে করিয়াছেন আস্বাদস্বরূপ প্রতীতি বাঁচ্যনিরপেক্ষ। কিন্তু এই মত সম্পূর্ণরূপে গ্রহণ করা যায় কিনা তাহা প্রণিধান করিয়া দেখিতে হইবে বিভাবাঁদি যদি বাঁচ্য হয় এবং তাহা যদি ব্যঙ্গ্য অর্থের নিমিত্ত হয় তাহা হইলে রস কি বিভাবাঁদির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হইবে না? নৈমিত্তিক কি নিমিত্ব-মিরপেক্ষ হইতে পারে? শাস্ত্-ইতিহাঁসাদি বাঁচ্য এবং বাচ্য হিসাবে তাহা রসব্যপ্রনার কাঁরণস্বরূপ ; যদি তাই হয় তাহা হইলে বৈজ্ঞানিক- দার্শনিক যাহা প্রমাণ করেন, আজ্ঞাশান্ত্র যাহা প্রচার করিতে চীহে রসপ্রতীতিতে তাহার স্থান কোথায় ? যখন আমরা রসে তন্ময় হইয়া থাকি তখন বাচ্যপ্রতীতি কি দূরে থাকে? যখন বাক্যের অর্থের বোধ হয় তখন পদের অর্থের বোৌধ কি লুপ্ত হইয়। যায়, না তাহ। নিমগ্ন থাকিয়া বাঁক্যার্থকে নিয়ন্ত্রিত করে? আর যদি বাঁচ্য অর্থ পৃথকভাবে প্রতীত না হয়, তাহা হইলে তাহা তো রসপ্রতীতিরও অঙ্গ 7398465 19 গু") ইহা মানিয়া লইতে হয়ত ততট! বাধা নাই, কিন্ত যদি বলি 7901 15 739209, তাঁহা হইলে ইহা স্বীকার করিতে হইবে যে সত্য সুন্দরের নিয়ামক

[২৫]

অভিনবগুপ্ত বলিয়াছেন যে রসের আস্বাদ পাঁনকরসের আস্বাদের অনুরূপ, কিন্তু পাঁনকরসের আস্বাদ তো মিশ্র আম্বাদ ; তাহা গুড়মরিচাঁদির আস্বাদের দ্বারা সৃষ্ট আলোক দীপশিখার সৃষ্টি; দীপের শক্তি অনুসারে দি আলোকের তারতম্য হইবে না?

এই প্রসঙ্গে ভট্টনায়কের একটি উক্তি উদ্ধারযোগ্য। তিনি বলিয়াছেন, রসের অভিব্যক্তিও হইতে পাঁরে না কারণ সহদয়ের অন্ভবস্থলে তাহার হৃদয়ে পূর্ব হইতে সুম্মরূপে যে শূঙ্গারাঁদি থাকে তাহারাঁই অভিব্যক্ত হয় ইহা স্বীকার করিতে হয়। তাহা হইলে যে সকল বিষয় এই অভিব্যক্তির উপাঁয় তাহাঁদের অর্জন বা সম্পাদন ব্যাপারে সাঁমীজিকের প্রবৃত্তির তারতম্য লক্ষিত হইত তাহা কিন্ত হয় না।” অভিব্যক্তিমাত্রেরই তারতম্য হইয়া থাকে এই তারতম্য অভিব্যক্তির উপায়ের তারতম্যের উপর নির্ভর করিবে, কিন্তু তাহা হইলে, কোন সামাজিক অধিক মাত্রায় রসান্দভব কামনা করিলে, তাহাকে অধিক পরিমাণে বিভাবাদি অনুভব করিবার চেষ্টা করিতে হইবে তাহা কিন্তু করিতে হয় না। স্থৃতরাং ভট্টনায়ক অভিব্যক্তিবাদ স্বীকার করিতে পারেন নাই অভিনবগ্তপ্ত এই যুক্তির উত্তর দেন নাঁই। ভাঁব যদি চিত্তবৃত্তিতে বাসনারূপে নিহিত থাকে এবং তাহা যদি বিভাবাঁদির দ্বারা উদ্রিস্ত হুইয়৷ রসপ্রতীতি বা রসাঁভিব্যক্তি আনয়ন করে এবং ইহাই যদি লৌকিক অলৌকিকের মধ্যে এক মাত্র সংযোগ-স্থত্র হয় তাহা হইলে লৌকিক জীবনে যে যত ভাবের চর্চা করিবে তাহার বা বাঁসনাসংস্কার তত প্রবল হইবে এবং সে তত বেশী পরিমাণে সহদয়ত্ব লাভ করিবে অর্থাৎ যে যত বেশী ক্রোধী হইবে সে তত রৌদ্ররস আশ্বাদন করিতে পারিবে যোগী শূঙ্গাররস উপলব্ধি করিতে পারিবেন না এবং লম্পট সামাঁজিকত্ব লাভ করিবে

আর একটি দিক হইতেও এই প্রশ্ন উত্থাপিত হইতে পারে ভাব কি শুধু অন্থভবযূলক প্রবৃত্তি (6100961%0 ৫1909310011 ) না তাহার মধ্যে বুদ্ধি আছে? . শাস্ত্রকারেরা বলিয়াছেন, কাব্যও চতুর্বর্গ আনয়ন করে; কাব্যের সঙ্গে শান্ত্াদির পার্থক্য এই যে আজ্ঞাশান্ত্র প্রভুসদৃশ বাঁক্য রচনা করে, ইতিহাসাঁদির বাক্য মিত্র- সদৃশ এবং কাব্যবাক্য কান্তীসম্মিত। এখানে বাঁক্যের অর্থের কথা বলা হয় নাই। কাব্যবাক্যের মনোহারিত্ব কি অলঙ্কীরের মত বহিরঙ্গ না তাহা কাব্যের প্রাণেরও অন্গ? যদি তাঁই হয় তাহা হইলে এই মনোহারিত্বের বৈশিষ্ট্য এবং শাস্ত্র-ইতিহীসা- দির সঙ্গে তাহার সাঁদৃশ্ত আরও স্পষ্ট করিতে হইবে ভাবের মধ্যে যদি বুদ্ধিগ্রাহ্

[ ২৬]

মতও অনুপ্রবিষ্ট হয় তাহা হইলে কাব্যের আশ্বাদ এবং ইতিহাসের ব্যুৎপত্ভি ও. শাস্ত্রের আজ্ঞা পরস্পরসম্পক্ত হইয়া! পড়ে। প্রাচীনের1 নয়টি স্থায়ী ভাবের উল্লেখ করিয়াছেন : রতি, হাস, শোক, উৎসাহ, বিস্ময়, ক্রোধ, ভয়, ভুগুপ্লা নির্বেবদ। অন্যান্য প্রবৃত্তিগুলিকে যদি ব। বিচার-নিরপেক্ষ বলিয়া মনে করা যাইতে পারে, সংসারের প্রতি বৈরাগ্যকে প্রবৃতিমাত্র মনে করা কঠিন। জানি না এই জন্যই কিন! প্রাচীনদের মধ্যে কেহ কেহ নির্ব্েবদকে স্থায়ী ভাব বলিয়া স্বীকার করিতে কুঠিত হইয়াছিলেন।

এই যুক্তি অন্ঠান্ত ভাঁব সম্পর্কেও প্রযোজ্য একটি দৃষ্টান্ত দেওয়া যাঁকৃ। ভুগুগ্া হইতে বীভৎসরসের প্রতীতি হয়। পতিতাবৃত্তি অনেকের হৃদয়ে ভুগুগ্মা জাগ্রত করে। কেহ ইহাঁকে দেখিবেন নীতির দিক দিয়া আর কেহ দেখিবেন অর্থনীতির দিক দিয়।। ইহাদের যে প্রতীতি হইবে তাহা৷ কি বিশ্তদ্ধ বীভৎস রস, ন! ইহাঁদের রসপ্রতীতি নৈতিক অর্থনৈতিক মতবাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হইয়া বৈশিষ্ট্য পার্থক্য লাভ করিবে? আবাঁর কোন কোন কবি পতিতার জীবনের ছুঃখময় দিকৃট! দেখিবেন, কেহ হয়ত তাহার মধ্যে হাশ্যকর বস্তু পাইবেন। ইহাদের যে রসানুভৃতি হইবে তাহার মধ্যে হয়ত করুণ- রস হাশ্য্রস থাকিবে ইহাঁদের বৈশিষ্ট্য বিচার করিব কোন্‌ মাপকাঠি দিয়া ? শেক্সপীয়রের 79০11 1[58151859, ভছুডের 029 7016 [01007057866 এবং এবং বার্ার্ড শ'য়ের 115 211০9, রবীন্দ্রনাথের পতিতা--লৌকিক জীবনে ইহারা সমগোত্রীয়া। রসলোঁকে ইহাদের যে বৈষম্য--তাহা কি শুধু ব্যভিচারী ভাব অন্ুভাঁবের সংযৌগের পার্থক্য, না ইহাঁদের মধ্যে রষ্টার নৈতিক অর্থ- নৈতিক মত স্জনী প্রতিভাকে উদ্বোধিত করিয়৷ স্বীয় ওঁচিত্যের দ্বার বিভাঁব, অন্ভাঁব সঞ্চারী ভাবকে নিয়ন্ত্রিত করিয়াছে? এই সকল প্রশ্নের মীমাংসা না হইলে রসের তাৎপর্য বোঝা যাইবে না।

(৬) এই প্রসঙ্গের ব্যাখ্যা করিতে হইলে বাচ্য অর্থের স্বরূপ ভাল করিয়া বুঝিতে হইবে এবং তছ্দ্ধেশ্টে পুর্বে যে বিবরণ দেওয়৷ হইয়াছে তাহার সংক্ষগুসার দিয় আলোচনা সুরু করিতে হইবে পুনরুক্তি মার্জনীয় বাচ্য অর্থ হইতেছে শব্দের সেই অর্থ যাহা শব্দ উচ্চারণ করিলে সহজেই:

| ২৭ ]

আমাদের কাছে প্রতিভাসিত হয় ; ইহা শব্দের অবিচলিত, অনৌপাধিক আত্মা বাক্যস্থিত পদগুলির সহজভাবে অর্থ করিলে এই অর্থ পাওয়া যায়; কাহারও অভিপ্রায়ের উপর ইহ নির্ভর করিবে না। “নীল” বলিলে সকলের কাছেই নীল বস্তর নীলত্ব বুঝাইবে, কাহারও কাছে পীতত্ব বুঝাইবে না। বলা বাহুল্য সাধারণ লৌকিক ব্যাপারে শব্দের এই অর্থ গ্রহণ করিতে হইবে তাহা না হইলে লৌকিক জীবনযাত্রা অসম্ভব হইবে,-_ গরু" বলিলে, কখনও কখনও ঘোড়া বুঝাইবে, কেহ গরম জল চাহিলে ঠাণ্ডা জল পাইবে ইতিহাসাদি বস্তু ঘটনার যথাযথ বর্ণনা! দেয়; ঘটনার অন্তরালে যদি কোন ব্যক্তিগত অন্ভব থাকে তাহারও ব্যক্তিনিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ চিত্র আঁকিতে চেষ্টা করে। সেইজন্য ইতিহীসা- দিতেও শব্দের শব্দরচিত বাক্যের প্রাথমিক অর্থই গৃহীত হইয়া থাঁকে। গণিত, বিজ্ঞান ন্তায়শীস্ত্র এই বিষয়ে ইতিহাসের সমগোত্রীয়

দর্শন নীতিশীস্তর ইতিহাস-বিজ্ঞান হইতে পৃথক) তাঁহাদের সত্যের মাপকাঠিও ইতিহাঁস-বিজ্ঞীনের মাপকাঠি হইতে স্বতন্ত্র! কিন্তু তাহারাও ব্যক্তি- নিরপেক্ষ সার্বজনীন সত্যে উপনীত হইতে চেষ্টা করে এবং তাহারা যথাসম্ভব বৈজ্ঞানিক প্রমাণাদি গ্রহণ করে সেইজন্য একদিকে যেমন আধুনিক বিজ্ঞান দর্শনে মিশিয়া যাইতেছে তেমনি অন্তদিকে আধুনিক দর্শন বৈজ্ঞানিক রীতিতে লিখিত হইতেছে ইহা বল! নিশ্রয়োজন যে দর্শনও বাচ্য অর্থকেই আশ্রয় করে। প্লেটো, বেগর্স প্রভৃতি দার্শনিকের রচন] ব্যঞ্জনীসমৃদ্ধ ; তবু দর্শন হিপাবে বিচার করিবার সময় ব্যঙ্গ্য অর্থকে অগ্রাহ্য করিয়া বাঁচ্য অর্থকেই গ্রহণ করিতে হইবে। সকল সময় তাহা সম্ভব হয় নাঃ সেই কারণে বৈজ্ঞানিক দার্শনিকেরা ইহাঁদিগকে খাঁটি দার্শনিক বলিয়া গ্রহণ করিতে কুঠা বোধ করেন। ইহার। যে ব্যঙ্গ্য অর্থের বহুল সমাবেশ করিতে পারিয়াছেন তাহারও অন্যতম কারণ এই যে দর্শনের প্রুমাণ-প্রয়োগ বিজ্ঞান ন্যাঁয়শান্ত্রের প্রমাণ-প্রয়োগ অপেক্ষা অনেক শিথিল।

বাচ্য অর্থের আর একটি ক্ষেত্র হইতেছে বিভাবাদির বর্ণনায় অলঙ্কীরা দির প্রয়োগে রাম, রাবণ, দুস্বত্তাঁদির কাঁ্যকলাঁপ, তাহাদের লীলাদি অন্ুভাঁব ও. হর্ষাদি সঞ্চারী ভাবের বর্ণনীকে কেহ এঁতিহাসিক বর্ণনা বলিবে না। কেহ যদি বলে যে তাহার প্রিয়ার মুখ চন্দ্রসদূশ তাহা হইলে ইহা বৈজ্ঞানিক বা দার্শনিক সত্য বলিয় কেহ গ্রহণ করিবে না। কিন্তু এই সকল বর্ণনার অভ্যন্তরে

[২৮]

যে ভাঁব নিহিত রহিয়াছে তাহাকে বাদ দিয়া যদি শুধু এই বর্ণনাগুলিকেই প্রহ্ণ করা যায়, তাহা হইলে বর্ণনার বাচ্য অর্থ ছাঁড়া অন্ত অর্থ প্রকাশিত হয় না। এইভাবে বিচার করিলে অলঙ্কার প্রভৃতির উপযোগিতা স্পষ্ট হইবে। যদি তাহারা কাব্যের গুঢ় অর্থ প্রকাশ করিতে সাহাযা করে তাহা হইলে তাহার! কাব্যে যথাযৌগ্য স্থান পাইবে যদি তাহারাই প্রাধান্য লাভ করে তাহা হইলে কাব্যের শেষ্ঠত্ব নষ্ট হইবে এই বিষয়ে অলঙ্কারের সঙ্গে ছন্দের সাদৃশ্য আছে। ছন্দ কাব্যের বাহন, কিন্তু অর্থ অপেক্ষা ছন্দ প্রধান হইলে তাহা৷ কাব্যের গুণ বলিয়া গণা হইতে পারে না। অলঙ্কার কাব্যের সৌন্দর্য্য বর্ধন করে, কিন্ত অলঙ্কারই কাব্য নহে।

অলঙ্কার প্রভৃতি বাচ্য অর্থের দ্বারা প্রকাশিত হয়। দর্শন ইতিহাসেও বাচ্য অর্থই গ্রাহ্য হইয়া থাকে; কিন্তু ইহার] মূলতঃ পৃথকৃ। অলঙ্কারের সঙ্গে কাব্যের সম্বন্ধ কাব্যের পক্ষে মুখ্যবস্ত নহে। অলঙ্কার ছাড়াও কাব্য রচিত হইতে পারে এবং শ্রেষ্ঠ কাব্যের শ্রেষ্টত্ব নির্ভর করে অর্থের উপর, অলঙ্করণের উপর নহে। কিন্তু কবির জীবনবেদ বা জীবনদর্শন অর্থেরই অঙ্গ ; স্থতরাং কাব্যে তাহার স্থান নির্ণয় করিতে হইবে ইতিবৃত্তসম্পর্কেও সেই কথা খাটে ইতিবৃত্ত কাব্যের শরীরবিশেষ ; তাহা। অলঙ্করণ নহে ! সুতরাং ইতিবৃত্তও কাব্যের সঙ্গে অঙ্গীাঙ্গিভাবে জড়িত। বাচ্য অর্থ শব্দেরই ব্যাপার কিন্তু যেহেতু দর্শন ইতিহাঁসে বাচ্য অর্থই প্রধানতঃ গৃহীত হইয়া থাকে সেইজন্য উপচারবলে ইহাদিগকে বাচ্যের অন্তর্গত বলিয়। ধরিয়া লওয়া যাইতে পারে; বাচ্যের সঙ্গে ব্যঙ্গ্ের যে সম্পর্ক তাহা শান্ত্র-ইতিহাসাঁদির সঙ্গে কাব্যের সম্পর্কের প্রতিরূপ বলিয়। মনে করা যাইতে পারে এবং সেই ভাবেই এই আলোচনায় প্রবৃত্ত হইতে হইবে

একশ্রেণীর আধুনিক সমালোচকগণ মনে করেন যে কাব্য দর্শনের মধ্যে অর্থাৎ বাঁচ্য ব্যঙ্গ্যের মধ্যে কৌন সম্বন্ধ নাই। সাহিত্য সৃষ্টি করে একক, রূপ- বিশিষ্ট ছবি আর দর্শনে আমর] সর্ধবজনগ্রীহা, রূপহীন তথ্যে উপনীত হই। সেই কাঁরণে সত্যাসত্য বা প্রামাণ£অপ্রামাণ্য সম্পর্কে বুদ্ধি যে তর্কবিচার করে তাহা সাহিত্যের পক্ষে গৌণ। সাহিত্যে তর্কবিচার থাকিতে পারে, কিন্তু তাহ ছবির অন্তর্গত। এই মত সর্বাপেক্ষা সম্পূর্ণ অভিব্যক্তি পাইয়াছে ইতালীয় দার্শনিক ক্রোচেব্র রচনায় ইউরোপীয় কবিদের মধ্যে দান্তে দার্শনিকতার জন্ত বিখ্যাত; সবাই তাঁহাকে দার্শনিক কবি বলিয়া! থাকেন। কিন্তু ক্রোচে বলিয়াছেন ষে

[ ২৯ ]

দান্তের কাব্যে দর্শন বা ধর্মুতত্ব থাকিতে পারে ; তবে তাহার সঙ্গে কাব্যের কাব্যত্বের কোন সম্পর্ক নাই। কবির রচনার দার্শনিক মতবাদ লইয়া আলোচন। করা অযৌক্তিক নহে, কবির কাব্যত্ব লইয়া আলোচন৷ কর৷ অবশ্যই যুক্তিসঙ্গত | কিন্ত এই দুইটি আলোঁচন। মিশ্রিত করিবার অধিকার কাহারও নাই

অনেকে আনন্দবর্দন অভিনবগুপ্রের' রচনায় এই মতের সমর্থন পান। শ্রীযুক্ত অতুলচন্দ্র গুপ্ত ধ্বনি-তব্বের ব্যাখ্যায় এই মতের অতি বিশদ বিবরণ দিয়াছেন তাহার যুক্তি নিম্নে উদ্ধৃত করা গেল :

“আজকের দিনের মানুষের কাছে সমাঁজ-বন্ধন সমাঁজ-ব্যবস্থা খুব বড় হয়ে উঠেছে এত বড়, যেন মনে হয়, মানুষের সমস্ত চেষ্টা সব সির হচ্ছে চরম লক্ষ্য যে ট্রি বন্ধন ব্যবস্থার প্রত্যক্ষে বা পরোক্ষে কোনও কাজে লাগে না, তার যে কোনও মূল্য আছে, সে কথা ভাব! অনেকের পক্ষে কঠিন হয়েছে মনোভাব খুব প্রাচীন নয়। গত শ-দেড়েক বছর হ'ল পশ্চিম-ইউরোপের লোকের কতকগুলি কলকৌশলকে আয়ত্ত ক'রে মানুষের নিত্য ঘরকম্না সমীজ- ব্যবস্থার যে দ্রত পরিবর্তন ঘটিয়েছে-তাতেই এই মনোভাবের জন্ম ।'..লোকের ভরস৷ হয়েছে, এই পরিবর্তনশীল সমীজ-ব্যবস্থা একদিন, এবং সে দিন খুব দূর নয়, সমস্ত মানুষকে ছুঃখলেশহীন সকল রকম স্থুখ-সৌভাগ্যের অধিকারী করে দেবে এবং সংসার সমাজ থেকে মানুষের প্রাণির আশা যত বেড়েছে, মানুষের “তন্‌ মন ধন'এর উপরে এদের দাঁবীও তত বেড়েছে ।...কবির রসস্থষ্টির শক্তি এই সংসার সমাজের মঙ্গলে নিজেকে ব্যয় করে সার্থক হয়, একথা আর অসঙ্গত মনে হয় না

“প্রীচীন আলঙ্কীরিকদের সামনে আশীর এই মরীচিকা ছিল না। তখনকার জ্ঞানী লৌকেরা জন্মজরা মৃত্যুগ্রস্ত সংসারকে মোটের উপর ছুঃখময় বলেই জানতেন ।--. আজ যদি আমর] সংসারকে ছুঃখময় বলতে মনে ছুঃখ পাই, তবুও কথা কি ক'রে অস্বীকার করা যায় যে, গাছের ফলের কাজ তার মূলকে পরিপুষ্ট করা নয়। কাব্য মানুষের যে সভ্যতাবৃক্ষের ফল, তার মূল মাটি থেকে রস টানে বলেই ও-গাঁছ অবশ্ত বেঁচে থাকে এবং যূল যদি রস টান। বন্ধ করে, তবে ফল ধরাও নিশ্চয় বন্ধ হবে। কিন্তু নিতান্ত বুদ্ধি-বিপর্ষ্যয় না৷ ঘটলে মূলের কাজে ফলের কতট] সহায়তা, তা দিয়ে তার দাম যাচাইয়ের কথা কেউ মনে ভাবে না। সেই ফলই কেবল গাছের পুষ্টিসাঁধন করে য। মুকুলেই ঝ'রে যায়।

[ ৩০ ]

“লৌকিক জীবনের উপর যে কাব্যরসের ফল নেই, তা নয়। কিন্তসে ফল এঁ জীবনের পুঠিতে নয়, তা থেকে মানুষের মুক্তিতে লৌকিক জীবনের লৌকিকত্বকে কাব্যরসের অলৌকিক ধারায় অভিসিঞ্চিত ক'রে ।*-"

“-**কৃবি কীট্‌স্‌ সত্য সুন্দরের যে অদ্বৈতবাঁদ প্রতিষ্টা করেছেন, সে এই বৈজ্ঞানিক যুগের কবিপ্রতিনিধি হিসাবে নইলে শুদ্ধ কবির চোখ থেকে সত্য কিছুতেই গোপন থাকে না যে, সত্য কাব্যের লক্ষ্য নয়, কাব্যের উপীর্দান। বস্ত-নিরপেক্ষ রস নেই, এবং বস্তুকে সত্য দৃষ্টিতে দেখার উপর রসের সৃষ্টি অনেকট! নির্ভর করে। রস সত্যের সত্য-সম্ন্ধে লোকের দৃষ্টি- বিভ্রম ঘটে, বৈজ্ঞানিক মায়ায়। কবি রসের ছলে উপদেশ দেন একথা যেমন অযথার্থ, কাব্য রসের সাঁজে সত্যকে প্রকাশ করে, এও তেমনি অসত্য শিল্পী তার মৃত্তির মধ্য দিয়ে পাথরকে প্রকাশ করে, কথা৷ কেউ বলে ন। ।”

প্রসঙ্গান্তরে তিনি বলিয়াছেন :

“কাব্য লোককে কৃত্যে প্রবৃত্তি অকৃত্যে নিবৃত্তি দেয়। কাব্য পাঠককে উপদেশ করে, 'রামাদিবৎ প্রবস্তিতব্যং রীবশীদিখং,-** তবে উপদেশ নীরস শান্ত- বাক্যের উপদেশ নয়---কান্তার উপদেশের মত সরস, অর্থাৎ অম্-মধুর উপদেশ

“কাব্য-রসের এই ফলশ্রুতি আলঙ্কারিকদের মনের কথা নয়, সমাঁজ সামাজিক লোকের সঙ্গে মুখের আপোসের কথা, তার প্রমাণ, সব কথা তাদের ্রন্থারস্তেই আছে, গ্রন্থের আলোচনার মধ্যে তাঁদের লেশমাত্রেরও খোঁজ পাওয়া যায় না।”

(৭)

উল্লিখিত মতের বিচারের প্রীরস্তেই বলা দরকার যে এই কথা সত্য নহে যে প্রাচীন আলঙ্কারিকের! শুধু আপোসে গ্রন্থীরস্তে চতুর্বর্গফলপ্রাপ্তির উল্লেখ করিয়াছেন। কাব্যকে অলৌকিক বলিয়] স্বীকার করিলেও এবং কান্তাসম্মিত কাব্যের সঙ্গে প্রভূলম্মিত শাস্ত্র মিত্রসদৃশ ইতিহাসাদির পার্থক্য মানিয়া লইলেও কাব্য মনন-নিরপেক্ষ অথবা লৌকিক জীবনে তাহার ফল নাই এই কথা তাহারা বিশ্বাস করিতেন না। তাহারা একাধিকবার বলিয়াছেন, কাব্য গ্রীতিপূর্ব্বক ব্যুৎপত্তি আনয়ন করে, ব্নঙ্গ্যপ্রতীতিকালে বাচ্যপ্রতীতি বিনষ্ট হয় না স্থতরাঁং যে দীর্শনিক মৃত বাচ্যের অন্তর্গত তাহাও ব্যঙ্গ্প্রতীতির মধ্যে ক্রিয়াশীল থাকে

[ ৩১

তাঁহারা ভাবের ব্সীকরণের কথ বলিয়াছেন ; কিন্তু আমরা যেমন ভীবকে নিছক ইমোশন্‌ বা অনুভব বলিয়। গ্রহণ করিতে চেষ্টা করি, তাহারা সেইরূপ মনে করিতেন বলিয়া বোঁধ হয় না। বরং মনে হয় তাঁহাদের কাছে ভাব ছিল ইমৌশন্‌ ও.আইডিয়া, অনুভব চিন্তনের সম্মি্র পদার্থ তীভাঁন্; যে ভাবে গুচিত্যের বিচার করিয়াছেন তাহা হইতে স্পষ্টই প্রতীত হয় যে তাহারা ভাব বলিতে যাহা বুঝিতেন তাহা নিছক অনুভব মাত্র নহে, সত্যাসত্য, নীতি-দুনীতি সম্পর্কে তাহাদের মতামত রসের ওুঁচিত্যকে নিয়ন্ত্রিত করিয়াছে তাহা না হইলে তাহার! বিশেষ গুণসম্পন্ন নায়ক সৃষ্টি করার নির্দেশ দিতেন কি না সন্দেহ। শুধু তাহাই নহে। ধিবন্যালোক'-্রন্থের চতুর্থ উদ্দ্যোতে আনন্দবদ্ধন মহাঁভারত-কাব্যের বিচার করিতে যাইয়া বলিয়াছেন যে ইহীর মধ্যে বৈরাগ্যজনন-তাঁৎপর্য্যরূপ শাস্ত- কথাই বিবৃত হইয়াছে; ইহার বর্ণনীয় বিষয় হইল মোক্ষলক্ষণ পুরুষার্থ শান্তরস। টীকায় অভিনব স্পষ্ট করিয়া বলিয়াছেন, যাহা শান্ত্নয়ে মোক্ষ' নামক পুরুষার্থ তাহাই চমৎকারযুক্ত হইয়া! কাব্যে শান্তরস বলিয়া কথিত হয়। “কাব্য রসের সাজে সত্যকে প্রকাশ করে”--শ্রীযুক্ত অতুলচন্দ্র গুপ্ত এই মতকে অগ্রাহ করিয়া উড়াইয়। দিয়াছেন। কিন্ত ইহা কি আনন্দবদ্ধন-অভিনবগুঞ্ধের মত হইতে খুব 'বেশী দূরবস্তী?

এই প্রসঙ্গে ইহাও স্মরণ রাখিতে হইবে যে, দর্শন কাব্যের এবং লৌকিক অলৌকিকের সমন্বয়ের যে চেষ্টার কথ! শ্রীযুক্ত অতুলচন্দ্র গুপ্ত বলিম্বাছেন তাহা মোটেই আধুনিক নহে। দান্তের কাব্যের কথা পূর্বেই উল্লিখিত হইয়াছে। ধর্মোৎসবের অঙ্গ হিসাবেই শ্রীদদেশে নাটকের উদ্ভব হয় এবং মধ্য যুগেও গীর্জার অন্গনেই নাটক জন্মলাভ করে বরং রেনেসীসের প্রটেষ্টাণ্ট ধর্মস্থাপনের পর ব্যক্তিস্বাতন্ত্রের যে সোত ইউরোপে প্রবাহিত হয় তাহার ফলেই ক্রমে কাঁব্যকে সর্বজনগ্রাহা সত্য হইতে বিচ্ছিন্ন করিয়া ব্যক্তির অনুভবের প্রকাশমাত্র বলিয়৷ প্রচার করা হয় সমালোচকর। যাহাই বলুন, সাহিত্য কিন্ত কবিমনের সমগ্রতারই পরিচয় দেয়। শেক্সপীয়রের কথাই ধরা যাকৃ। শ্রীযুক্ত অতুলচন্দ্র গুপ্ত বলিয়াছেন যে রস-সৃষ্টির যেখানে চরম অভিব্যক্তি, সেখানে কবির সামাজিকতা