ন্যা্গি গু ভ্ডান্ডাল্ ওভিম্বেল

জাগুতত কতকগুলি বিশেষ বিশেধ রোগের ইতিহাস, নিদান প্রতিষেধ সন্গান্ষে বিভ্ৃত শালোচ্না।

সারার তত... .

ডাক্তার শ্রীুরেন্দ্রনাথ ভষ্টাচাখ্ সাহিতা- বিশারদ প্রণীত।

* স্পরহিীখা৮.

কলিকাতা, , ১০নং রাক্ত। ওক়ুদাস স্্রীট হইতে

বি. কে, ভুষ্রীচার্স্য কর্তৃক প্রকাশিত

১০৭৩ | ফুল) /* আট আনা খাজ +

১১৭১ বহবাজার স্্ট, কলি কাত কলেজ প্রেদে এহ, সি, চক্রবহণী ছার! যুদছিত।

উৎসর্গ

ধিনি এই রোগ-পলাথিত বজগদেশে উপযুক্ত চিকিৎসক পংখ)া বাড়াহবাঞঃ সন্ত অনন্য অধ্যবসায় ক্লান্ত শ্রম স্বীকাণ করিয়া গিয়াছেন--বর্ধনান “কারমাইকেল্‌ মেডিকেল কলেজ: বহার জীবনের অক্ষয় কীর্তি--সেই পুণ্যত ভাক্তার আর, জি, কর

এল, আর, সি, পি: এল, এম ( ঞডিন্‌ )

মহোদয়ের

পবিজ নামে

এই ক্ষুত্র গ্রন্থ উদ্সর্গীকৃত হইবা।

বিজ্ঞাপন

“ব্যাধি তাহার প্রতিষেধ" “আধ্যাবর্ত্ নামক মাসিক শপে ধারাবাহিককূপে প্রকাশিত হইয়াছিজ ; তখনত আমাল কয়েকজন বন্ধু ইভাকে পুস্তকাকারে বাঁভব করিসার জুন অনুরোধ করেন : কিন্তু সময় প্যোগ দজাবে এত পাল পটিয়া উঠে নাই

প্রথষে যে ভাবে সন্দভগুলি মাসিক পাত্র বাহির হইয়াছিল এবার তাহারে কোন একানে অংশ পতিতা হইল "বাল স্থানে স্নে আনেক শাবশ্যক বিষয়ঞ্ত নহষাক্তন কা গেল এখন "এ পুন্তক 1৮কিশুসাশ্াস্কানভিজ্ ব্যক্তিগণের কি উপকারে আসিলেই আমার পরি এম সঙ্চুল হ্হাবৰ।

উপসংহারে বন্তবা এই যু. আমারি পারুম পদ ডাক্তার আযুক্ত স্ারশচন্দ মর এল, এম, এস, কনিরাজ শ্রীযুক্ত কঙ্দেনাথ “ভষগাচানা মহাশর়ছয় এব" পলাদরপ্রাতিত শ্রীমান মন্মথনাথ অটটাচাষা এই পুস্তক প্রণরন কালে আমাকে অনেক প্রকারে সাহাযা করিয়াফ্রেল কজ্জন্য আমি তাহাদের নিকট বিশেষভাবে খণা | গোখরডাঙ্গ! | ১৪ পরুগণা শ্রীশ্বরেন্দরনণথ ভষ্টাচাধ্য।

€ষ। ১৯২৯% |

বিষয় পা রোগ- বীজাণু দ্ালেবিয়া স্বর ১" - টাইফয়েড কলেরা রঃ ২১ প্লেগ বা মছামারী রড মক্ষন! *-. ?২ ডিপ্থিরিশ্ব -* ৬৭ কালোতঙ্ক রর পম্ষ্টঙ্থায মি হাম বনস্ত রা ৯৯

স্পিকার আতা 5

ন্যান্সি ও৩ ভাহ্হাল্ ওাভিস্বে 1

জিপঠে 222 ১0

রোগ-_ বীজাণু।

এই “বাঁধি-মল্দির” মানব-দেভে প্রতিদিন কঙ্ি শঙ্গ হোগ-বীজ কত ভাপে প্রবেশ করিতেছে, ভাতা ভাপিলে জ্ঞানহার

ভইতে ভয়" বক্ষ গুগাদির বীজ যেমন আমাদেস সাসভবনকে আজঙর করিয়! অস্কুবিত ভয় এব কালক্রোমে শাখা-প্রশীঙা। বিজু রিপুবপক সভাকে পাতিত করে, বাপি-বীজ * মনই দে5-গেহে নানাভানে প্রবিষ্ট তইয়া বংশবুদ্ধি করত উভাকে বিনষ্ট করিতে চেষ্টা পায়। পাশ্চাতা বীক্ততন্তুজ্ঞ পঞ্চিতগণ স্থির করিয়াছেন বে ম্যালেরিয়া, কলেরা, নন্মনা প্রভৃতি সকল রোগেবই বীজাণু আছে এমন কি, তোমার যদি সদ্দি হয়, তাভা হইলেও বুঝিতে তইবে সদ্দির বীক্জাণু তোমার দেকতে পবিষ্ট হইয়া তোমাকে পীড়িত করিয়াছে এত কাল ফে শরাকে আমরা বয়োধন্ধমা বলিয়া জানিতাম, এখন তাহাও

ব্যাধি তাহার প্রতিষেধ।

বীজাণুঘটিত রোগ বলিয়া স্থিরীকৃত হইয়াছে আমাদের অন্ত মধ্যে নানা জীবের বসতি আছে। বয়োবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এঁ সকল জীবাণু দলপুষ্ট হয়। তখন তাহাদের গাত্র নিঃস্ত রস সমস্ত মানবদেহে ব্যাপ্ত হইয়া বাদ্ধক্য আনয়ন করে। একবার পারিসের পাস্তুর চিকিৎসালয়ের অধ্যক্ষ মহাত্মা মেচ্নিকফ্‌ বিষময় রস সুক্গমাগ্র পিচকারি দ্বারা এক বাঁদরের শরীরে প্রবিষ্ট করান। দেখিতে দেখিতে জরার তাড়নায় কপিরাজের পৃষ্ঠ ভগ্ন, কটি মগ্ দেহ রুগ্ন হইয়া পড়িল! তাহার লোমরাজিও শুভ্রবর্ণ ধারণ করিতে বিলম্ব করে নাই

জীব উদ্ভিদ ভেদে বীজাণু দুই প্রকার। ডাক্তার! জীবাণুকে 119102098. এবং উদ্ভিজ্জাণুকে 138016718 নামে অভিহিত করেন। উত্ভিড্জীণুর মধ্যে যাহারা ঈষত দীর্ঘাকার তাহার! 13201111 এবং যাহারা গোলাকার তাহারা ০9০০1 সংজ্ঞা প্রাপ্ত হয়। ফল কথা, কি প্রাণিজাতীয় কি উদ্ভিদ্‌জাতীয় সকল বীজাণুরই জীবনীশক্তি আছে। এজন্য উহাদিগকে এক কথায় “জীবাণু” মাখ্যা দেওয়া হইয়া! থাকে।

বীগাণু সর্বব্যাপী ; জলে, স্থলে» অনিলে ইহারা আত্মগোপন করিতে পারে আমাদের বাড়ীর স্ত্রীলোকরা যখন সম্মার্জনীর দ্বারা ঘর-দ্বার পরিষ্কত করেন, তখন সেই ধুলি-মলের মধ্যেও অসংখ্য বীজাণু বিদ্যমান থাকে জল, বায়ু খাদ্যাদি সংযোগে এই বীজাণু আমাদের দেহাভ্যন্তরে চলিয়া যায়। কোন কোন বীজীণু মশা, মাছি, ইন্দুর প্রভৃতির দ্বারাও মানব-দেহে

রোগ-_বীজাণু।

ংক্রামিত হয়। ভুয়োদর্শন দ্বারা স্থিরীকৃত হইয়াছে যে, একটি মক্ষিকা তাহার পক্ষ পদের সাহায্যে ২৫০ দুই শত পঞ্চাশ হইতে ৬৬০০০০০ ছয়ষট্টি লক্ষ রোগ-বীজাণু বহন করিতে পারে। বীজাণুগণ অণুদেহী। ইহাদের আকার এত সুম্ষম যে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহাষ্য ব্যতীত আমরা চন্ধ চক্ষুতে উহাদিগক্ডে দেখিতে পাই না। কোন কোন রোগের বীজাণু অণুবীক্ষণেও মামাদের নয়নগোচর হয় না। বীজাণুর শারীরিক গঠনেরও বিলক্ষণ পার্থক্য আছে। কোন কোনটি বর্ভলাকার ; কোন (কোনটি অনতিদীর্ঘ সরল রেখাকার। আবার কাহারও কাহারও দেহ জয়ঢাক বাজাইবার যষ্টির অনুরূপ ইহার! অত্যন্ত ক্লেশ- সহনশীল ; বরফের মধ্যে রাখিয়া! দিলেও এক একটি দীর্ঘকাল সজীব থাকে প্রখর রবিতাপে ফুটন্ত জলে সকল বীজাণুই গতারুঃ হয়। অণুদেহী হইলেও বীজাণুর শক্তি অসীম একটি বিশাল- কায় বলিষ্ঠ জীবকে ইহারা অল্পকালের মধ্যেই অবসন্ন করিয়া ফেলিতে পারে! ভারতের প্রপ্দ্ধ পলোয়ান্‌ গোলামের যখন ওলাউঠা হয়, তখন কয়েকবার মাত্র ভেদের পর তিনি এতাদৃশ দুর্বল হইয়া পড়েন যে হস্তোত্তলন করিয়া পুত্রকে আলিজন করিতে পারেন নাই। তৎুকালে সেই মুমূর্ষু বীরবর ক্ষোভে কম্পিতক্টে বলিয়াছিলেন “হায় ! রোগের কি অনীম শক্তি একদিন যে হস্ত দ্বারা আমি অবলীলাক্রমে উপলখগ্ড

ব্যাধি তাহার প্রতিষেধ।

সকল চুর্ণ করিয়াছি, আজ এই মহাপ্রয়াণ দিনে দেই হস্ত এতদূর হীনবল হইয়াছে যে আমার প্রাণপ্রতিম পুন্রকে সে একবার শেষ আলিঙ্গন করিতে পারিল না এড়িয়াদহ নিবাসী, কাশী প্রবাসী মদ্ীয় জনৈক বন্ধু মুষ্ট্যাঘাতে ঝুন' নারিকেল ভগ্ন করিতে পারিতেন। তীহার স্তায় দৈহিক বল বাঙ্গালীর মধ্যে অল্প লোকেরই দেখিয়াছি একদা বন্ধুবর জ্ররাতিসারে আক্রান্ত হইলে আমি চিকিস! করিতে গিয়াচিলাম | মিত্রালয়ে উপস্থিত হইয়া দেখিলাম দুই দ্রিনের ভ্বরেই তিনি উত্থানশক্তি রহিত হইয়া শষ্যায় পড়িয়। মুত্রপুরীষাদি পরিতাগ করিতেছেন। তীহাকে তদবস্থ দেখিয়া আমি সবিস্ময়ে বলিয়াছিলাম “কি হে' দুই দিনের অহ্থখে এত কাতর হইয়াছ ?” তত্রস্তরে ক্ষীণকঞ্ে বন্ধু বলিলেন “ভায়া, এক ুষ্ঠ্যাঘাতে অমুক পলোয়ানের উরু ভগ্ন করিয়াছিলাম কিন্ত দুরন্ত রোগ আমার মেরুদণ্ড ভগ্ন করিয়াছে 1৮

তাই বলিতেছিলাম রোগ-বীজাণুর শক্তি অসীম। ভাবিয়' দেখিলে বোধ হয় ইহারা মন্ত মাতঙ্গ অপেক্ষাও অধিক বলশালী ; সভ্যতালোকদীপ্ত স্থানের লোকেরা অধুনা এই বীজাণুর ভয়ে এতাদৃশ ভীত যে তাহাদের মধ্যে “বীজাণু-বাযু” নামে এক প্রকার অভিনব ব্যাধি দেখা দিয়াছে কিছুদিন পূর্বের সংবাদ পত্রে পড়িয়াছিলাম ফরাসীদেশের রাজধানী পারিস সহরে এক বীজাণু-বায়ুগ্রন্তা বিদুষীবালা প্রাণভয়ে অস্থির হইয়া একটি স্বৃহত্ বাসভবন নিন্মাণ করাইয়াছেন। ভবনে তিনি বসতি

রোগ- বীজাণু

করেন। বিবিধ প্রক্রিয়া দ্বারা যে বায়ু বীজাণুশুন্ত কর! হইয়াছে তাহাই গৃহে প্রবেশ করিতে পারে। খাদ্যপানীয়াদিও সম্যক বীজাণুশুন্য না করিয়া রমণী গ্রহণ করেন না। তিনি যে স্থানে বিচরণ করেন, তৎস্থানও বীজাণুরহিত। বোধ হয়, এই সভ্য! শ্বেতাঙ্গী আমাদের “হনুমান-_-বিভীষণের” হ্যায় অমরত্ব লাভ করিতে ইচ্ছা করিয়াছেন

রোগ-বীজাণু দেহ-প্রবিষ্ট হইয়া যে ভাবে বংশবৃদ্ধি করে তাহা শুনিলে আশ্চর্যযান্বিত হইতে হয়। প্রথমে একটি বীজাণু দ্বিধা বিভক্ত হইয়া দুইটি হয়। দুইটি হইতে আবার চারিটি হইয়া থাকে। এই রূপে অল্পকাল মধ্যে একটি জীবাণু হইতে বহুসংখ্যক জীবের সৃষ্টি হয়। সকল জীবাণু বাঁ উদ্ভিড্জাণুর গীত্র নিঃস্থত রসই আমাদের শরীরে নানাপ্রকার সাংঘাতিক রোগ আনয়ন করে গীড়িত ব্যক্তির মল, মুত্র বমিত পদার্থাদির লহিত রোগ-বীজাণুগণ আবার নির্গত হইয়া জলে-স্থলে ব! ব্যোমপথে ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত হয়।

যেকোন রোগের বীজাণু মানব-দেহে অনুপ্রবিষ্ট হইয়াই যে সকল সময় রোগানয়ন করিতে পারে, একথা বলা যায় না। আমরা একটু জলপান করিলাম, অমনই জলটুকুর সহিত অসংখ্য বারি-সহায় বীজাণু আমাদের জঠর মধ্যে চলিয়া গেল। প্রতি শ্বাসগ্রহণে কত কোটি কোটি বীজাণু বায়ুর স্কন্ধে চড়িয়া আমাদের ফুস্ফুদ মধ্যে উপস্থিত হইতেছে। কিন্তু কৈ, আমরা সকল সময় পীড়িত হই না পরম

শু ব্যাধি তাহার প্রতিষেধ।

কারুণিক পরমেশ্বর আমাদের ছুরবস্থা বিবেচনা করিয়াই প্রাগুক্ত মহাশক্রর উপদ্রব হইতে আমাদিগকে রক্ষা করিবার এক শ্ুন্দর ব্যবস্থা করিয়াছেন। বিধি আমাদের শরীরে এমন একটি ব্যাধি প্রতিষেধক শক্তি দিয়াছেন, যাহার সহিত সংগ্রাম করিয়া রোগ-বীজাণুগণ প্রায়শঃ পঞ্চত্ব পায়। আমাদের রক্তস্ছ শ্বেত কণিকাই আমাদের রক্ষক এবং উহাঁরাই সকল রোগ- বীজাণুর ভক্ষক।

মনুষ্য-রক্ত মোটামুটি ভ্রিবিধ সামগ্রীর সমবায়ে প্রস্তুত রক্তের তরল পদার্থকে রক্তরস বা “সিরাম্” বলে। রক্তরসের মধ্যে শ্বেত লোহিত ছুই প্রকারের কণিকা আছে। কণিকাগুলি এতাদৃশ সুন্মম যে চন্ম চক্ষুতে উহাদিগকে দেখিতে পাওয়া যায় নাক্। চক্ষুর চক্ষু অণুবীক্ষণের দ্বারা আমরা উহা্দিগকে দেখিতে পাই। সুস্থ রক্তে শেত কণিক অপেক্ষা লোহিত কণিকার সংখ্যা ৩৭০ গুণ অধিক। এক সুচ্যগ্রবিন্দু মনুষ্যরক্তে ৫০ লক্ষ লোহিত কণিকা প্রায় ১৫ সহজ শ্বেত কণিকা থাকিতে পারে

রোগ-বীজাণু রক্তে প্রবেশ করিলেই চতুদ্দিক হইতে পঙ্গপালের ন্যায় শবেতকণিকাদল আসিয়া উহাদিগকে সমরশায়ী করে এবং একে একে সকলকে ভক্ষণ করিয়া ফেলে।

* খেত কণিকার ব্যান (10121006661 ) তত ইর্চি এবং লোহিত কণিকার ব্যাস ছল্ত ইঞ্চি

রোগ-_বীজাণু। রণ

আমাদের শরীরে রোগ-বীজাণুর সহিত শ্বেত কণিকার এই গ্রাম অবিরাম চলিতেছে

জনাকীর্ণ স্থানে বাঁস, দুশ্চিন্তা, কদাহার, অত্যন্ত পরিশ্রম, শীতাতপ সেবন প্রভৃতি যে কোন কারণে রক্তের শ্বেত কণিকাগুলির অরুচি রোগ জন্মিলে আমাদের আর রক্ষা নাই। তখন রোগ-বীজাণুসকল নির্বিবিত্ে বংশবুদ্ধ করিয়া আমাদিগকে পাড়িত করিয়া ফেলে যতক্ষণ আমাদের রক্তে শ্বেত কণিকা সতেজ থাকে, ততক্ষণ আমরা নিরাপদ থাকিতে পারি তখন, রোগ-বীজাণু দেহ-প্রবিষ্ট হইলেও রোগানয়ন করিতে পারে না।

আমাদের পাকস্থলীর অজ্সরসে (08501010105 ) পড়িয়াও অনেক সময় অনেক বীজাণু প্রাণ হারায়। রসের প্রভাব উহারা সহ করিতে পারে না।

ইংরাজীতে একটি কথা! আছে--'€ 705৮5771107 15 1961661 11720 00076 ৮--অর্থাৎ রোগ হইলে তাহার শাস্তি করা অপেক্ষা যাহাতে রোগ না হয় সেই চেষ্টা করাই সমীচীন। কতকগুলি প্রধান প্রধান রোগের বীজাণু কি উপায়ে মানব-দেহে সংক্রামিত হয় এবং কেমন করিয়াই বা আমরা তাহাদের আক্রমণ হইতে আত্মরক্ষা করিতে পারি তাহা একে একে বলা যাইতেছে

ম্যালেরিয়া জর

মুদলমান এঁতিহাসিকগণ একদিন এই ফল-ফুল-শালিনী শস্যাভর। বঙ্গভূমিকে « [97280756 08 68107 অর্থাৎ ভূম্ব্গ বলিয়া বর্ণনা করিয়া গিয়াছেন। ইংরাজী ১৮০৭ ত্ব্দে তাঁকালিক গভর্ণর জেনারেল জর্ভ মিণ্টো মহোদয় বাঙ্গালীর দৈহিক গঠন দেখিয়া আনন্দে লিখিয়াছিলেন,__ তর 009৮৪ 92৮ 50177810050706 21:90. 11769) 215 17001 90119210107 10 119.0725 150110), জা1095০ 1077)8 1 701071160 2150. 10110956816 910100017, 11955 2712 1211, [2019001121) 2117191010 7506১ [02115007 91721990 270 ৮10) 0172 10651 13095911019 085 01 ০0001800172)06 ৪100. 16900165- 101)552 (68001705816 ০01 015 10951

013551091] £0101392 17)090015 111) 2091 ৮2016 2 076 58106 0000-৮

এখন আর সে বাঙ্গালা বাঙ্গালী নাই। “ভুন্বর্গ* এখন ম্যালেরিয়াগ্রস্ত তাহার পল্লীগুলি বুঝি নিশ্রদীপ হইতে বদিল। ম্যালেরিয়া-জীর্ণ পল্লীবাসীর দেহ এখন ব্যাধির সামান্য তাড়নায় পরাভূত হুইধ1 জীবনবৃন্ত হইতে বিচ্যুত হইতেছে

পূর্ববকালে আমাদের দেশে এই জনপদধ্বংসকারী ব্যাধি এরূপ প্রবলভাবে স্থায়ীরূপে ছিল না বলিয়াই বোধ হয়।

ম্যালেরিয়া জবর

দক্ষিণ আমেরিকার আমেজান আফ্রিকার অরেঞ্জ নদীর উভয় কুলবর্তী ভূখণ্ডে এবং ইটালির কাম্পানা নামক জলাভূমিতে অনেক দিন হইতে ম্যালেরিয়ার প্রাছুর্ভাবের কথা শুনা যায়। এক সময়ে ইংলগ্ডেও ইহার প্রভাব কম ছিল নাঁ। বন্গদেশের মধ্যে সর্বপ্রথমে যশোহর জেলায় আরন্ধ হইয়া ইহা! ক্রমশঃ সর্ববত্র ব্যাপ্ত হয়। কথিত আছে ১৮৩৩ খুষ্টাব্দে ৭০০ শত কয়েদী ঢাকা হইতে যশোহর পর্য্যন্ত একটি সুদীর্ঘ রাজপথ নিন্মীণে নিযুক্ত ছিল। যশোহরের মহম্মদপুর গ্রামে কাধা করিবার সময় তাহারা হঠাৎ দুরন্ত জ্বররোগে আক্রান্ত হয় এবং অল্পদিনের মধ্যেই তন্মধ্যে দেড় শত লোক দেহত্যাগ করিল। অতঃপর সাত বসর ধরিয়া এই জ্বর অতি প্রবলভাবে তদ্দেশবাসী জনগণকে বিধ্বস্ত করিতে থাকে

১৮৩৩ হইতে ১৮৪০ খুষ্টাব্ড পর্য্যন্ত ম্যালেরিয়! গদখালিতে মহামারী রূপে আত্মপ্রকাশ করে। ১৮৪৫ খুষ্টাব্বে ইহা বনগ্রাম চাকদহে আসে এবং ১৮৫৬ খৃষ্টাব্দে বীরনগর বা উলা ধ্বংস করিয়া কীচড়াপাড়া, হালিসহর, নৈহাটা, ত্রিবেণী প্রভৃতি ভিন্ন ভিন্ন স্থানে পরিব্যাপ্ত হয়।

১৮৬০ খুষ্টান্দে এই জ্বর বদ্ধমানে নবপ্রবেশ করে। 'বদ্ধমানবাসী ইতঃপৃর্বেবে ষে স্বাস্থ্যস্থখ উপভোগ করিতেছিল, এই বগসর হইতে তাহা অন্তহিত হইল। তাহাদের ভাগ্যাকাশে প্রলয়ের চিহ্ৃম্বরূপ ধূমকেতু দেখা দিল। দেখিতে দেখিতে কয়েক বর্ষের মধ্যেই প্রদেশের জনপদগুলি শ্মশানে

১৪ ব্যাধি তাহার প্রতিষেধ

পরিণত হইতে বসিল। রোগে, শোকে লোক ত্রাহি ত্রাহি ডাক ছাড়িল। দেশের সংবাদপত্রসমূহ গভর্ণমেণ্টের চি্তাকর্ষণ করিবার জন্য দুন্দুভিনাদে এই মন্মন্তুদ সংবাদ বিঘোধিত করিতে লাগিল। ইহার অল্লদিন পরেই ম্যালেরিয়া হুগলি হাওড়া জেলায় প্রবেশ করিয়! তদ্দেশবাসীরও সর্বনাশ করিতে আরম্ত করে। এখন বাঙ্গালার সমস্ত জেলাতেই ইহার সমান অধিকার ইহার উৎপাতে স্থজলা, স্ৃফলা, শস্তশ্যামলা বঙ্গজননীর সন্তান সন্ভতিগণ জীর্ণ, শীর্ণ কঞ্কালসার। বাঙ্গালীর সে পুষ্টদেহ, তুষ্ট মন আর নাই। সেই বলদৃপ্ত পদবিক্ষেপের স্থলে এখন তাহার! অতি কষ্টে দেহভার বহন করিয়া ক্লান্ত পদে বিচরণ করিতেছে এই বিষম ব্যাধির আলিঙ্গন ভয়ে ভীত হইয়| লক্গীর বরপুত্রগণ বাস্তরভিটা পরিত্যাগ করিয়া সহরবাস করিতে বাধা হইয়াছেন। তীহাদের প্রয়াণে বঙ্গপলীর যে দশা ঘটিয়াছে, সে দৃশ্য দেখিলে মৃত কবির সেই শোকোচ্ছাস মনে পড়ে,

“কি ছুর্দশা ! ছিল যথা বাসগৃহশ্রেণী কত,

কোলাহল মুখরিত মধুকর চক্রমত,

খান কত জীর্ণ ঘর রহিয়াছে সেথা আজি,

ঘিরিয়াছে চারিদিকে তৃণগুল্ম বনরাজি !

ধনীর প্রাসাদ চূড়া ভাঙ্গিয়া পড়েছে ভূমে,

মন্দির, প্রাচীর, স্তস্ত সকলি মেদিনী চুমে !

ভাঙ্গিয়াছে বীধাঘাট নিবিড় শৈবালদল,

করিয়াছে জলাশয় সমল পঙ্কিল তল !

ম্যালেরিয়। জর ১১.

দন যাতায়াত শুন্য পল্লীপথগুলি পাশে, ছু'ধারে ঘিরেছে বনে, বিকট কণ্টক হাসে ' যে হয়েছে কৃতবিদ্য, লতেছে সম্পদ বল, সেই করিয়াছে ভিটা শ্বাপদ ভ্রমণ স্থল।”

যে ম্যালেরিয়ার পৈশাচিক অত্যাচারে বাঙ্গালার শান্ত, শ্িগ্ধ পল্লীগুলি আজ মহাশ্মশানে পরিণত--যাহার কবলে পড়িয়া গ্রতি বণুসর প্রায় দশ লক্ষ বঙ্গবাপী অকালে ভবের খেল! সাঙ্গ করিতেছে--সেই ম্যালেরিয়ার নিদান নিণয়ের জন্য অনেক সময় অনেক চেষ্টা হইয়া গিয়াছে। পূর্ববর্তী মনীধষিগণের মতে জলাভূমিতে লতাগুল্মাদি পচিয়া যে বিষ-বাম্প উৎপন্ন হয়, তাহাই ম্যালেরিয়ার কারণ। আবার কেহ কেহ বলিতেন, দুষিত জলপানেই এই রোগ জন্মিয়া থাকে ১৮৮০ খুব ফরাসী সৈনিকদলের ডাক্তার ল্যাভেরন্‌ এই রোগের প্রকৃত কারণ আবিষ্কত করিয়। জগদ্বাসীর এঁকান্তিক শ্রদ্ধা! আকর্ষণ করিয়াছেন। তাহার মতে এক প্রকার জীবাণুই (11953100901070 ) এই দুরন্ত ভ্বরের জনয়িতা% এই জীবাণুগণ অণুদেহী এবং এক কোবধুক্ত। ইহারা সহত্রগুণ পরিবদ্ধিত হইলে এক একটি বৈঁচ ফলের ন্যায় দৃষট হয়। আদিতে জলে কিংবা স্থলে কোথায় ইহারা প্রথম জন্মগ্রহণ করিয়াছিল তাহ!র নিশ্চয়তা নাই।

* এক দিন অস্তর জ্বর, পালাজ্বর প্রভৃতি ভিন্ন.ভিন্ন প্রকার ম্যালেরিয়া জ্বরের ভন্ম ভিন্ন জীবাণু আছে।

১২ বাধি তাহার প্রতিষেধ।

কিউলেক্স জাতীয় (0০015 ) মশকগণ গোদ রোগের জীবাণু বহন করে। ইহা দেখিয়া সর্বপ্রথমেই মহামতি ম্যান্সন্‌ অনুমান করেন যে ম্যালেরিয়া-জীবাণুও বোধ হয় এরূপ কোন জাতীয় মশকের দ্বারা রোগীর শরীর হইতে স্ুুস্থদেহে ক্রামিত হয়। তাহার অনুমানের উপর নির্ভর করিয়া ডাক্তার রস্‌ নানাঁজাতীয় মশক লইয়! পরীক্ষা করিতে আরম্ভ করেন। অবশেষে ১৮৯৫ খুষ্টীব্দে উক্ত মহাত্বা সপ্রমাণ করেন যে এনোফিলিস্‌ জাতীয় মশকই ম্যালেরিয়া জীবাণুর বাহকঞ্চ তিনি বলেন-__

“1৬121711215 006 10 [012510281৮৩ 01 0৮ 17911) 0001 0179 70185102, 18006 2 25 0৬৭০৪, 10152. 11510761708600ত 0006 ঠা 01 21870, 09 1001 11৮6 1] 1116 [শা12511) 1115 1176 02105 01 076 50710571010) 155 চ1015- 10176 20010116155 (1061)- 56159 2016 0116 10819119] 0019.9102.-)

এনোফিলিস্‌ মশক রোগীর দেহে হুল বিদ্ধ করিয়া রক্তপান- কালে রোগ-জীবাণু টানিয়। লয়। কয়েক দিবস পরে মশক দেহে জীবাণুর বংশবৃদ্ধি হইতে থাকে এই অবস্থায় মশক কোন স্থস্থ ব্যক্তিকে দংশন করিলেই মশকের লালার সহিত

* েগোমাইয়! ফ্যাসিক়েটা” নামক মশক পীত জরের বীজাণু বহন করে। কালাজ্বর এক প্রকার ছারপোক। দ্বারাই সংবাহিত হয়। « [২6127515)6

6৮51 "এর এক প্রকার বিশেষ জ্বরের ) বীঙ্গাণু আটালুর দ্বারাই মানব-দেছে সংক্রামিত হয়।

ম্যালেরিয়। জর ১৩

ম্যালেরিয়া-জীবাণু দষ্ট ব্যক্তির রক্তে প্রবিষ্ট হইয়া রোগানয়ন করিতে সমর্থ হয়।

অল্পদিন হইল বিলাতের অধ্যাপক ডাক্তার এ, ই, সিপ্লে মহোদয় এনোফিলিস্‌ মশকের গতি-প্রকৃতি বিশেষরূপে লক্ষ্য করিয়া এই দিদ্ধান্তে উপনীত হইয়াছেন যে পুরুষ মশকের দংশন দ্বারা রোগ বিস্তারের ভয় নাই ; মশক পত্রীরাই বিষবাহিকা উহারা দংশনকাঁলে দষ্টম্থানে ডিম পাড়িয়া চলিয়া যায়। ডিমের সঙ্গে রোগ-জীবাণু দেহপ্রবিষ্ট হইয়া ম্যালেরিয়া স্রের স্ট্টি কলে।

মশকগণ ঘেমন সকলে মিলিয়া গুণ গুণ স্বরে গীত গাভিতে খাকে, মশকীরা সেরূপ করে না। তাহারা চোরের ন্যায় নিঃশব্দে আসিয়াই আমাদের দেহে ছুলবিদ্ধ করে।

মহাত্ব! সিপ্লে দীর্ঘ ১৫ বৎসরকাল পূথিবীর বিতিন্ন স্/ন পরিভ্রমণ করিয়া মশক সম্বন্ধে আরও যে সকল অভিজ্ঞত। লাভ করিয়াছেন তাহা এই, -

হরিদ্রা এই জাতীয় মশকের প্রধান শত্রু ; হরিদ্রার গন্ধে উহার মরিয়া যাঁয়। যে ঘরে অধিক পরিমাণে হরিদ্রা চূর্ণ থাকে তথায় মশকের প্রবেশাধিকার নাই। উহারা দ্রব্যকে এত ভয় করে যে হরিপ্রাবর্ণে রঞ্জিত বস্ত্রের উপরেও বলিতে সাহস করে না

নীলরড্টি ইহাদের বড়ই প্রিয়। তাই ইহারা ঝাঁকে ঝাঁকে উড়িয়া গিয়া নীলানম্বরেই বগিয়া থাকে। নীলাম্বর পাইলে

১৪ ব্যাধি তাহার প্রতিষেধ।

মার কোন স্থানে উহারা বসিতে চাহে না। পিপ্লে যখন আাফ্রিকার মশক প্রধান স্থানে বাস করিতেন, তখন তিনি তাহার তান্ুর কাপড় নীলরড্‌ ছারা রঞ্জিত করিয়া লইয়াছিলেন। ইহার ফলে রাত্রিতে বখন তিনি নিদ্রান্খ উপভোগ করিতেন, তখন একটি মশকও তাহাকে দংশন করিয়া নিজ্লার ব্যাঘাত ঘটাইত না; সকলে সেই নীল তান্বুর উপর বসিয়া মজগুল হইয়া থাকিত। সিপ্লে বলেন মশকের ভ্বাণশক্তি একেবারেই নাই তাহারা শব শুনিয়া আহার অন্বেষণে সেই দিকে ধাবিত হয় যে সকল ব্যক্তি বেশ স্থিরভাবে বসিয়া থাকে-_-কোন প্রকার শব্দ করে না__-তাহাদের দংশনভ্বীল। বড় একটা সহা করিতে হয় না। বেশী কথাবার্তী কহিলে অথবা যে কোন প্রকার শব্দ করিলেই এই ক্ষুদ্র রাক্ষসের দল পালে পালে আসিয়া ঘাড়ে পড়ে। নিদ্রাবস্থায় যাহাদের নাসিক! গঞর্জিতে থাকে, তাহাদের আর রক্ষা নাই। খাটের শব্দ, পার্খবপরিবর্তনের শব্দ বা এরূপ কোন একটি শব্দ শুনিতে পাইলেই উহারা সেই দিকে ছুটিয়া যায় এবং শয়িত ব্যক্তির অঙ্গে বসিয়া ভুল ফুটাইতে থাকে অনেকে বলিয়া থাকেন, মশকদংশনেই যদি ম্যালেরিয়া জ্বর হইত তবে সার। বঙ্গদেশে বোধ হয় একটি লোকও সুস্থ থাকিত নী। কিন্তু মনে রাখ! উচিত, যে কোন মশক দংশন করিলেই ম্যালেরিয়া জ্বর হয় না। কেবল মাত্র এনোফিলিস্‌ জাতীয় মশকই ম্য।লেরিয়া-জীবাণুর বাহক। সাধারণ মশক হইতে এই এনোফিলিস্‌ মশকের অনেক পার্থক্য আছে। একটু লক্ষ্য

ম্যালেরিয়া জর ১৫

করিয়া দেখিলেই সকলে ইহা বুঝিতে পারেন। মশকের হুলের উভয় পার্থ দুইটি শু'ড় পক্ষোপরি ছিট ছিটু চিহ্ন দেখা যায়। ইহারা গৃহভিভ্ভিতে কখনই সোজা হইয়া বসিতে পারে নাঁ_বাকা ভাবেই বসে।

নালা, নর্দামা, খানা, ডোবা প্রভৃতি স্থানগুলি এনোফিলিস্‌ মশকের জন্মস্থান বর্ষা সমাগমে বঙ্গপল্লীসমুহে যে ম্যালেরিয়। ভ্বুরের আধিক্য দৃষ্ট হয়, তাহার কারণ সময়ে খানা, ডোবা জলপুর্ণ হওয়ায় মশকীরা ডিম পাড়িবার স্থবিধা পায়। ডিম হইতে অসংখ্য মশকের জন্ম হয়। মশকতন্ববিদ পণ্ডিতগণ বলেন প্রত্যেক মশকী এক সময়ে ১৫০ হইতে ২০০ ডিন্ব প্রসব করিয়া থাকে

ম্যালেরিয়া জীবাণু মশক কর্তৃক মনু্য-রক্তে প্রবিষ্ট হইয়া বংশবৃদ্ধি করে এবং সঙ্গে সঙ্গে রক্ত নষ্ট করিয়া ফেলে। এই রক্তদৌষই ম্যালেরিয়া জ্বরের বিপদের হেতু ডাক্তার রস্‌ বলেন যে দেশে এনোফিলিস্‌ নাই, তথায় ম্যালেরিয়া নাই। যে কোন উপায়ে দেশ এনোফিলিস্‌ শুন্য করিতে পাঁরিলেই ম্যালেরিয়াশূন্য হইবে। কথার প্রমাণও যথেষ্ট পাওয়া গিয়াছে। সে কালে কলিকাতায় মশকের বড়ই প্রাদুর্ভাব ছিল। *রেতে মশা, দিনে মাছি, এই নিয়ে কল্কাতায় আছি*--এই প্রচলিত বাক্য অদ্যাপি তাহার সাক্ষ্য প্রদান 'করিতেছে। কলিকাতায় তখন ভ্রেরও একাধিপত্য লোক এজবরকে “পাকান্বর” বলিত। কোন কোন বৎসর বর্যাকালে

১৪ ব্যাধি তাহার প্রতিষেধ।

এই জ্বরে তথাকার যুরোপীয় অধিবাসিবর্গের তিন ভাগ মৃত্যুমুখে পতিত হইত। যে এক ভাগ জীবিত থাকিত, তাহারা প্রাণরক্ষা করিতে পারিয়াছে বলিয়৷ প্রতি বসর ১৫ই অক্টোবর তারিখে একটি আনন্দ-ভোজের অনুষ্ঠান করিত। পূর্ববকালে আফ্রিকার কোন জনপদে ম্যালেরিয়ার অতিশয় দৌরাআ্য ছিল। অনেক শ্বেতাঙ্গ পুরুষ কন্মোপলক্ষে স্থানে গিয়া অল্পকাল মধ্যেই পঞ্চত্ব প্রাপ্ত হইত এই জন্য স্তানকে লোক শ্বেত মনুষ্ের “গোরস্তান” বলিত এক্ষণে তথায় ম্যালেরিয়া নাই বলিলেই হয়। ইহার কারণ অনুসন্ধান করিয়। দেখা গিয়াছে, স্থানে আর মশক নাই।

১৮৯৫ হইতে ১৮৯৯ খুষ্টাব্দ পর্যান্ত ম|লয় উপদ্বীপে ম্ালেরিয়ার উপদ্রব বিলক্ষণ ছিল। মশক ধ্বংসের ফলে দে শ্থানেও ম্যালেরিমীর গর্ব খর্নন হইয়াছে প্যানেমার অবস্থা ভাবিয়! দেখ একদা রেল রাস্ত! প্রস্থ করিবার জন্য শআাফ্রিকা হইতে এক সহজ নিগ্রো আশিয়া প্যানেমায় প্রেরণ করা হয়। কিন্তু ছয় মাসের মধ তাহারা! সকলেই জ্বর রোগে হুবধাম পরিত্যাগ করে। আর একবার উদ্দেশ্যে তথায় সহত্রীধিক চীনবাসীকে পাঠান হইল। তাহারাও ছয় মাসের মধ্যে নিগ্রোদিগের অনুগমন করিয়াছিল। বিগত ১৯১৩ খৃষ্টাব্দে তথায় প্রতি সহন্ত্রে জন মাত্র ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হইয়াছিল। প্যানেমাতে ম্যালেরিয়া নিবারণের যেযে উপায় অবল্ধিত হয় তাহা এই--

ম্যালেরিয়া জর। ১৭

১। প্রত্যেক বাড়ীর একশত গজের মধো এনোফিলিস্‌ জাতীয় মশকীর ডিম পাঁড়িধার স্থানগুলি নষ্ট করিয়া দেওয়া হয়

২। বাড়ীর সানিধ্যে যাহাতে মশককুল আশ্রয় লইঙ্ডে না পারে তাহার প্রতিও বিশেষ লক্ষ্য রাখা হইয়াছিল

৩। প্রত্যেক বাড়ীর লোক, বাড়ীর দরজা, জানাল! তাঅনিম্মিত এক প্রকার সহ্িদ্র আবরণ দ্বারা এরূপ ভাবে আবদ্ধ করিয়াছিল যাহাতে উহার মধ্যে মশক প্রবেশ করিতে না পারে, অথচ বায়ু যাতায়াতের ব্যাধাত না হয়।

৪1 মশকীর ডিম পাড়িবার যে স্থানগুলি নস্ট করা সম্ভব হয় নাই, তথায় কেরোসিন তৈলবা তুদ্ কোন ভিম্বনাশক বিষ-পদার্থ মধ্যে মধ্যে ঢালিয়] দেওয়া হইত |

ম্যালেরিয়াপ্রধান দেশে বাস করিয়া ম্যালেরিয়ার আক্রমণ হইতে আহ্ারক্ষা! করিতে হইলে যাহাতে স্থাস্থ্যভঙ্গ না হয় এবং এনোফিলিস্‌ মশকে দ:শন করিতে না পারে তদ্বিষয়ে লক্ষ্য রাখাই প্রধান কাধ্যা। কোন খতুতেই শীতবাতসমাকুল স্থানে অথবা আদ্র ভূমিতে শয়ন কর! বিধেয় নহে। খাঁটু বং পর্বাঙ্কোপরি শয়নস্থান নির্দেশ করিবে এনোফিলিস্‌ জাতীয় মশকগণ প্রায়শঃ দিবাভাগে দংশন করে না; স্থতরাং রাত্রিকালে মশারি ব্যবহার জাম! পরিধান করিয়া মশকের দংশন হইতে আস্মারকষা করিতে সচেষ্ট থাকিবে বাঁসগুহগুলি যাভাতে

*কার্বপিক এসিড ৩০ গ্রেণ, জল আউন্প। এই লোশন অল্প গ্রিমারিনের চিত মিশাইয়া গাত্রে মাখিলে অনেকক্ষণ পণ্যন্ত মশদু কামডাইতভে পাবে না|

সস

সি

১৮ ব্যাধি তাহার প্রতিষেধ।

পরিষ্কত পরিচ্ছন্ন থাকে এবং উহার মধ্যে বাতালোক সমানভাবে প্রবেশ করিতে পারে, তদ্বিষয়ে যত্রবান্‌ হইতে হইবে। আঙ্গিনা বাসভবনের পার্বতী স্থান সমূহে বনজঙ্গল হইতে দেওয়া অন্ুচিত। বাড়ীর জল যাহাতে সহজেই নিকাশ হয়, তাহার বন্দোবস্ত করিবে। ভদ্রাসনের নিকটব্তী স্তনে খানা, ডোবা! থাকিলে বর্ষাসমাগমের পূর্বেই উহাদিগকে ভরাট করা কর্তবা। বাড়ীর সান্নিধ্যে যাহাতে এক বিন্দু জলও কোন স্থানে জমিতে ন৷ পারে তদ্বিষয়ে খরদৃষ্টি রাখিতে হইবে

কেহ কেহ বলিয়া থাকেন এই সকল শ্ি্য়িম পালন কর বন্ুব্যয় সাধ্য ; কিন্তু আমি বলি, তাহা নহে। অট্রালিকাবাসী কুটারবাসী সকলেই ইচ্ছা করিলে নিজ নিজ গৃহ স্বাস্থ্যোপযোগী করিয়া রাখিতে পারেন। আমরা বাহিরে লন্বশাট পটাবুত বাবু সাজিয়৷ বেড়াইয়া থাকি; কিন্তু ঘরে আসিয়া দেওয়ালের গাত্রে খাটের পার্শে কফ, কাস ফেলিতে ত্রুটি করি না। আমাদের বাহিরের বৈঠকখানাটি ঝাড়, বেল প্রভৃতি বহুবিধ আলোকাধারে সজ্জিত; কিন্ত্রু রান্নাঘরের পার্খশ্হিত জল নালী ভাত, ফেন কদলা পত্রাদি দ্বারা আবদ্ধ

অবস্থা বৈগুণ্যহেতু খানা, ডোবা ভরাট করিতে অসমর্থ হইলে বর্ষাকালে মধ্যে মধ্যে উহাদের জলে কিছু কিছু কেরোসিন তৈল নিক্ষেপ করিলে অভীষ্ট কতক পরিমাণে পিদ্ধ হইতে পারে। ইহা দ্বারা মশকীর ডিম্বগুলি ([.7% ) বিনষ্ট হয়। ডাক্তার সার্‌ কৈলাস চন্দ্র বসু বলেন বাকসের কাচা পাতা জলে

ম্যালেরিয়া জর। ১৯

ডুবাইয়া রাখিলে মশক ডিম্ব ধ্বংদ হয়। পল্লীবাঁসিগণ এই সনায়াসলাধ্য উপায় ইচ্ছ! করিলেই অবলম্বন করিতে পারেন।

পল্লীগ্রামে দেখিতে পাই গুহস্থগণ বাসগুহের সম্মুখেই আঁন্তাকুড় করিয়া রাখেন। স্থানে আবজ্জনাদি: নিক্ষেপ মল-মুত্র ত্যাগ করা হয়। কাহারও কাহারও গুহপ্রাঙ্গণের মধ্যে গোময়স্ত্ুপ পচিতে থাকে এই সকল পৃতিগন্ধময় স্থানে রাশি রাশি মশা-মাছির প্রাছুর্ভাব হয়। আমাদের দেশের গুহলল্সনীরা সর্বদাই বলিয়া থাকেন-_-“আচার বিচারেই লক্ষ্মীর কৃপা ।” এই “আচার বিচারের” কথা যদ্দি তাহাদের সকল সময় মনে থাকে তাহা হইলে আমার্দের অনেক দুঃখ দূর হয়। সায়ংকালে বাসগৃহে ধুনা-গঙ্গাজল দিয়া তুলসীতলায় দীপ দেখাইলেই কেবল “আচার-বিচার” হয় না। ঝিষ্টামৃত্র বাড়ীর আবর্জনাগুলি পরিদ্ৃত করিবার ভয়ে প্রাঙ্গণের এক পার্খে জমা করিয়া বাহিরে আচার দেখাইলে কি হইবে? আচার-প্রিয় বঙ্গজননীগণ মিথ্যাচার ত্যাগ করিয়া সদাচার শিক্ষা করিলে বঙ্গগৃহ শান্তিময় হইতে পারে।

ম্যালেরির়। প্রতিষেধক উপায়গুলি একে একে বল! হইল এইবার আর একটি কথ! বলিয়া! আমার বক্তব্য শেষ করিব।

বর্ষা বা শর কালে পল্লীগ্রামে বাস করিয়া মশক দংশন হইতে একেবারে অব্যাহতি পাওয়া অসম্ভব বলিলেই চলে। অতএব সময় বাড়ীর প্রত্যেক সুস্থ ব্যক্তি প্রতি সপ্তাহে দুই দিনে একুনে অন্ততঃ ১০ রতি কুইনাইন সেবন করিতে ভুলিবে

ব্যাধি তাহার প্রতিষেধ।

না। নালকদিগের পক্ষে বয়; অনুযায়ী মাত্রা কম করিয়া লইবে। মনে রাখিও-_একমাত্র কুইনাইনই ম্যালেরিয়া-জীবাণুর মৃত্যুশর তবে উহা মল্লমাত্রায় প্রযুক্ত হইলে ফলপ্রদ হয় না, বরঃ তদ্গারা ম্যালেরিয়া-জীবাণুর শক্তি আরও বদ্দিত হয়: এজন্য প্রতিদিন এক আধ্‌ রতি কুইনাইন সেবন ন! করিয়া সপ্তাতে ছুই দিনে কিছু আধিক মাত্রায় সেবুন করাই স্বাস্থ]

টাইফয়েড কলেরা

টাইফয়েড গুরকে আমাদের ভাষায় অভিন্যাস সান্সিপাতিক ভূর বলা যার়। জন বহুল সহরেই এই রোগের প্রানর্ভাব অধিক ১৫ হইতে ৩৫ বসরের মধ্যে স্ত্রী অপেক্ষা পুরুষগণ ইহা দ্বারা অধিক আক্রান্ত হইয়া থাকে পরীক্ষা দারা স্বীকৃত হইয়াছে বে, এক' প্রকার জলবাহন জীবাণুই এই রোগের নিদান। সাধারণতঃ দুগ্ধ জলের সহিত এই জীবাণু মানবদেহে প্রবিষ্ট হয়। ১৮৭৩ খুষ্টান্দের নিদাঘকালে বিলাতের কোন একটি বিশিষ্ট গোঁশালার দুগ্ধ পান করিয়া ৫০০ শত লোক এককালীন এই রোগাক্রান্ত হইয়াছিল। অবিশুদ্ধ জলেই টাইফয়েড জীবাণু (01010 1১31] ) অবশ্থিতি করে আমাদের এই নদীমাতৃক বঙ্গদেশে যে সকল স্বল্পতোয়। বা রুদ্ধগতি মজ। নদী আছে, তাহাদের জলে এই সকল জীবাণু স্বচ্ছন্দে বংশবৃদ্ধি করিয়া বসতি করিতে পারে কিন্তু খরক্রোতা পুণ্যতোয়৷ ভাগীরথীর জলের এমন একটি শক্তি আছে যে উহার মধ্যে কোন জীবাণুই অধিক কাল জীবিত থাকিতে পারে না অনেকে দেখিয়া থাকিবেন যে, বসরাবধি শঙ্গোদক তুলিয়া রাখিলেও তন্মধ্যে কীট জন্মে না। গঙ্গার এইরূপ মাহাজ্য স্মরণ করিয়াই বুঝি স্বয়ং শঙ্করাচাধ্য বলিয়া-

২২ ব্যাধি তাছার প্রতিষেধ।

ছিলেন_-“তব তট নিকটে যস্য নিবাস, খলু বৈকুণ্টে তস্থ নিবাসঃ।৮ শুনিয়াছি দিল্লীশ্বর আকবর শাহ হরিদ্বার হইতে গঙ্গোদক আনাইয়া পান করিতেন। কলিকাতা-বাহিনী গঙ্গার উপস্থিত যে দুর্দশা! হইয়াছে, এবং যে পরিমাণে কলরাশির সেপ্টিক্‌ ট্যাঙ্কের ময়লা উহাতে ফেল হয়, তাহাতে তাহার আবিল আবর্জনাময় জল নির্ভয়ে পান করিতে কিন্তু শঙ্কা হয়।

টাইফয়েড জীবাণু উদ্ভিদ জাতীয়। ইহারা পানীয়জলের সহিত মনুষ্যদেহে প্রবিষ্ট হইয়া বংশবৃদ্ধি করত মনুষ্কের প্রীহা, যকৃ, অন্ত্র, মুত্রস্থলী প্রভৃতি যন্ত্রে ব্যাপ্ত হয়। রোগীর মূত্র- পুরীষের সহিত জীবাণুগুলি আবার নির্গত হইতে থাকে! বীজতব্বচ্ঞ পণ্ডিতগণ বলেন এক সুচ্যগ্রবিন্দু মুত্রে সহজ্র সহত্র এই জীবাণু দেখিতে পাওয়! যায়।

রোগীর মল-মুত্রে মক্ষিকা বসিয়া পরে মাছি আবার খাদাদ্রব্য স্পর্শ করিলে খাদ্যদাতা গৃহীতা উভয়েরই এই রোগ জন্মিবার সম্তাবনা।

টাইফয়েড রোগী নিরাময় হইলেও তাহাদের শরীরে স্ুদীর্ঘ কাল%* এই রোগ-জীবাণু জীবিত থাকে তখন তাহারা আশ্রয়- দীতার বিশেষ কোন অনিষ্ট করে না বটে কিন্তু সকল ব্যক্তি যে কোন স্থানে গিয়া পান-ভোজন মল-মুত্র ত্যাগ করিলেই তত্স্থানে রোগ বিস্তার হইতে পারে একদা বিলাতের বৃষ্টল

কহ কেহ বলেন ৫* পধাাশ বৎসন পথধ্যস্তও থাকিতে পারে।

টাইফয়েড কলেরা ২৩

সহরের কোন আতুরাশ্রমে এক শ্বেতাঙ্গী শুশ্রাধাকারিণী নিযুক্ত হ'ন। তিনি হাসপাতালে প্রবিষ্ট হইলেই তথাকার লোকদিগের মধ্ো টাইফয়েড জ্বর দেখ! দেয়। ইহার কারণ অনুসন্ধানে জান! গেল যে নবাগত রমণীর দেহে রোগ-জীবাণুর ভাণ্ডার রহিয়াছে এঁ বিষভাগ্ডোদরী কন্ম্চুত হইলে রোগও অদৃশ্য হুইল |

পশুদিগের মধ্যেও টাইফয়েড জ্বর হইয়া থাকে কোন সময়ে জান্মাণী দেশে টাইফয়েড রোগগ্রস্ত গো-বসের মাংস ভক্ষণ করিয়। অনেকগুলি লোক এই রোগাক্রান্ত হয়

জলবাহন জীবাণুগুলির মধ্যে কলেরা বা ওলাউঠা রোগের বাজাণু মন্যতম। ইহারাও উত্ভিদ্র জাতীয়। এই উদ্ভিজ্ভাণু গুলির আকার ইংরাজী কম! চিহ্বের ন্যায় বলিয়া ডাক্তাররা! উহ্াদিগকে “কমাবেসিলাস” (0077102702010105” ) আখ্যা দিয়াছেন। ওলাউঠা রোগীর মল বমিত পদার্থে এই উত্ভিজ্জাণু যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যায়। আমরা চন্ষম চক্ষুতে উহাদিগকে দেখিতে পাই না বটে, কিন্তু অণুবীক্ষণের সাহাযো যখন দেখি এক বিন্দু মলে সহত্্র সহত্র “কমাবেসিলাস” পুচ্ছ পরিচালন করিয়৷ বেড়াইতেছে, তখন বিল্ময় বিহ্বল চিত্তে বলিতে ইচ্ছা হয়, ধন্য বীজতত্ববিদ্ন মহাত্মীগণ ! ধন্য বিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞান !

অনেকদিন হইতে এই কালাস্তক ব্যাধি--ওলাউঠা__ এতদেেশে আধিপত্য করিতেছে তবে ম্যালেরিয়া জ্বরের ন্যায় ইনি সর্বদাই মনুষ্য-সমাজে বাস করেন না। মানবজাতি ঘন ঘন

২৪ ব্যাধি তাহার প্রতিষেধ।

ইহার প্রেমালিঙ্গন লাভ করিলে এতদিনে বুঝি সৃষ্টি লোপ পাইত। বৎসরের মধ্য দুই দশ দিনের জন্য ইনি বাঙ্গালার যে জনপদগুলিতে পরিভ্রমণ করেন, তাহাতেই অনেক সংসার ছারখার হইয়। যায়। ১৮১৭ খুষ্টান্দে ইংরাজ রাজন্বের প্রারস্তকালে ইনি একবার রাক্ষসীঘূর্তিতে লর্ড হেষ্টিংসের সেনাদলের সহিত সাক্ষাৎ করিয়াছিলেন ইহার “শুভাগমনে” সপ্তাহকাল মধ্যে ৭৬৪ জন সৈন্য তাহাদের ৮০০০ সহত্রর সঙ্গী চিরতরে মর্তধাম পরিত্যাগ করে। বাঙ্গলাদেশের মধ্যে যশোহরই ইহার প্রথম লীলাক্ষেত্র এক্ষণে সমগ্র বঙ্গে কোন কোন বুসর লক্ষাধিক নরনারী এই সাংঘাতিক রোগে মৃত্যুমুখে পতিত হইয়া থাকে

ওলাউঠা রোগের “কমাবেসিলাস্” টাইফয়েড জীবাণুর স্যায় সাধারণতঃ জল দুগ্ধের সহিত মানব-দ্ে্তে প্রবিষ্ট হয় মনুষ্যের পাকস্থলী স্ৃস্থ থাকিলে এই উদ্ভিজ্জীণু অনেক সময় বিনষ্ট হইয়া যায়। পাকস্থলীর অশ্নরসের প্রভাব ইহারা সহ্য করিতে পারে না। যে কোন কারণে মনুষ্যের স্থাস্থ্যহানি ঘটিলে এই উদ্ভিজ্জাণু দেহাভ্যন্তরে বংশবৃদ্ধি করিয়া রোগানয়ন করে।

ওলাউঠা রোগীর মললিপ্ত বন্ত্াদি যে পুক্ষরিণীতে ধৌত কর! হয়, সেই পুক্করিণীর জল ব্যবহার করিয়া এক এক সময়ে এক

গউদরাময়। আমাশয়, প্রভৃতি রোগের বীজাণুও বারি সহায়ে মনুষ্যদেহে সংক্রামিত হয়।

টাইফয়েড কলেরা ২৫

একটি পল জনশুন্য হইয়া যায়। অনেক সময় এতদ্েশীর় গোপ- নন্দনেরা যেখানে সেখানে দুপ্ধপাত্র ধৌত করিয়া বা রও যে কোন স্থানের জল মিশ্রিত করিয়া এই সকল রোগ-বীজাণু সং করে খরিদ্দারগণের মধ্যে রোগ বিস্তারের হেতৃভৃত রি থাকে।

রোগবীঞজ-সম্বলিত জলে হস্ত মুখ প্রক্ষালিত করিলে অথবা উহাতে বাসন মাজিলে জলবাসী জীবাণুগণ আমাদের দেহ- প্রবিষ্ট হইবার সুযোগ পায়। এই সকল রোগ-জীবাণু বহির্জগে ভূমধ্যে দীর্ঘকাল জীবিত থাকিতে পারে কোন একটি মজা নদীর সান্গিধ্যে এক সমাধিক্ষেত্র ছিল। স্থানে অনেক সময় ওলাউঠা রোগীর মৃত দেহও কবর দেওয়া হয়। কালক্রমে ভূখণ্ড নদীগর্ভে পতিত হইলে জল দুষিত হইয়া পড়ে। নদীর তশকুলবর্তী জনগ্রণ জল ব্যবহার করিয়। ওলাউঠা রোগাক্রান্ত হইয়াছিল। স্থাম্থ্যবিধি মতে এইজন্য হিন্দুর দাহ প্রথা! প্রশংসনীয়। আধ্যমনীষিগণ অনেক ভবিষ্যৎ চিন্ত। করিয়া এই সকল স্থনিয়ম করিয়া গিয়াছেন। ইংরাজ- দিগের মধ্যে এখন অনেকেই দাহ প্রথার পক্ষপাতী মৃতদেহ দাহ করিলে আশ্রয় আশ্রিত উভয়ই যুগপৎ তস্মীভূত হইয়া যায়। সংক্রামক রোগে মৃত্যু হইলে যদি কবর দিতে হয়, তবে চুণের দ্বারা শবদেহ আবৃত করিয়া কবর দেওয়াই স্থৃব্যবস্থা!

টাইফয়েড ওলাউঠা রোগ হইতে আত্মরক্ষা করিতে হইলে সকল প্রকার খাদ্যের বিশেষতঃ পানীয় জলের বিশুদ্ধতার

ব্যাধি তাহার প্রতিষেধ।

প্রতি লক্ষ্য রাখাই প্রধান আবশ্যক আমাদের দেশবাঁসিগণের এতদ্বিষয়ে জ্ঞান এত সন্কীর্ণ যে তাহারা যে জল পান করে, সেই জলেই আবার রোগীর মল-মুত্র সিক্ত শয্যা বসনা'দি ধৌত করিতে ভীত হয়না তাহারা এই বিষতুল্য জল পান করিয়া সবান্ধবে প্রাণত্যাগ করিবে, তথাচ পানীয় জল দিত করিতে পশ্চা্পদ নহে। আমাদের শান্ত্রকর্তারা জলের প্রয়োজনীয়ত। সম্যক উপলব্ধি করিয়াই বলিয়া গিফ্লাছেন “আপো নারায়ণ; স্বয়ম্‌।” হিন্দুশান্ত্রে জলকে দেবতাভ্ভানে অর্চনা করিবার কথা বনু স্থানে লিখিত আছে মহাভারতে উক্ত আছে--“উভে মৃত্রপুরীষে তু নাগ্, কুর্য্যাৎ কদাচন”-__অর্থাৎ জলে কদাঁচ ঘুত্র পুরীষাদি তাগ করিবে না। আমরা এই সকল কথা এখন বাভুলের উক্তি মনে করিয়া মান্য কবি না। ইংরাঁজ কবি পোপ যথার্থ বলিয়াছেন-_ |

“6 11] ০00৮ 98017915 (0019) 59 150 70৬ ; €)0 ৮1501 50105) 100 00001, ৮11] 01010]. 0১ 3০.

আমাদের দেশের অনেক ধর্মমধবজী ব্রা্ধণ পণ্ডিত অবগাহন কালে পরিত্যক্ত কান হস্ততালুতে নিক্ষিপ্ত করিয়া পরে সেই হস্ত জলে ধৌত করিয়া ফেলেন। ব্যবহারাজীব যেমন : আইনের কুট তর্কের দ্বারা অপরাধীকে নির্দোষ প্রমাণ করিতে সচেষ্ট হন, এই সকল ধন্মময় পুরুষ তেমনই শীস্ত্রীনুশীসন এতন্তাবে পালন করিরাও অসার তর্কের দ্বারা আপনাদিগকে নিষ্পাপ প্রতিপন্ন করেন। উদ্দেশ্যবিহীন হইয়া কাধ্য করিলে

টাইফয়েড কলের]। ২৭

কোণ ফলোধয় তয় না। শাস্ত্রে জলকে কেন দেবতা বল! হইয়াছে তাহার সত্য তথ্য যে দিন দেশবাসী ভাল করিয়া বুঝিবে, সেই দিন হইতে চিত্রগুপ্তের হিসাব নিকাশের তালিকায় আসামী--সংখ্যাও অনেক হাস হইয়] পড়িবে।

ক্রামক রোগের প্রাছুর্ভাবকালে যথাসম্ভব স্বাস্থ্যরক্ষার নিয়ম পালন করিয়া শরীর মন স্স্থ রাখিতে সচেষ্ট থাকিবে দুশ্চিন্তা, দুস্পাচ্য দ্রব্য আহার, রাত্রি জাগরণ, শীতাতপ সেবন, ভয়, অতাধিক পরিশ্রম প্রভৃতি স্থাস্থহানিকর কারণ গুলি সর্ববথা পরিহাধ্য। এই সময়ে শুন্যোদরে অধিকক্ষণ থাকিতে নাই। পাকস্থলী খাদ্যপুর্ণ খাবিলে অশ্নরস নিঃসরণ হইতে থাকে; স্তৃুতরাং তণকালে অল্পসংখাক রোঁগ- জীবাণু উদরস্থ হইলেও অস্নরসের প্রভাবে তাহারা গতাস্থ হইয়া পড়ে।

গ্রামে টাইফয়েড বা কলের! রোগ প্রাছুভূতি হইলে যাহাতে রোগ-বীজ নিজ নিজ গৃহে প্রবেশ করিতে না পারে তদ্দিষয়ে গ্রামবাসিগণ বিশেষ মনোযোগী হইবে

যে সকল খাদ্যসামগ্রী না রীধিয়। আহার করা চলে, তাহা বাজার হইতে বাড়ীতে আনিবে না। দোকানের প্রস্তত পাণ কখনই ব্যবহার করিবে না। অনেক সময় তাম্বুল বিক্রেতা তান্ুলের সহিত যে জল ব্যবহার করে তদ্দারাই রোগ-বীজাণু আমাদের দেহে সংক্রামিত হয়।

খাদ্যদ্রব্য মক্ষিকা বসিতে দিবে না। মক্ষিকাগণ নান!

২৮ ব্যাধি তাহার প্রতিষেধ।

দরিকৃ্দেশ হইতে কলেরা আর আর অনেক রোগের বাঁজাণু বহন করিয়া! আনে।

ধূলিকণার সহিতও এই সকল রোগ-বীজ উড়িয়৷ বেড়ায়। অতএব খাদ্যে ধুলিকণার সংস্পর্শ না হয় তদ্বিষয়ে সর্বদাই লক্ষ্য রাঁখিবে।

হস্ত রীতিমত ধৌত না করিয়া খাদ্যদ্রব্য স্পর্শ করিও না। দত্তের দ্বারা নখ কাটা বা পুনঃ পুনঃ মুখে হাত দিয়া অঙ্গুলিতে থুতু লাগাইয়া পুস্তকের পাতা উল্টান প্রভৃতি কুমত্যাস ত্যাগ করিবে। এক সময়ে কলিকাতার কোন এক সরকাৰি চিকিৎসালয়ে হঠাৎ কয়েকজন ওলাউঠা রোগে আক্রান্ত হয় কোথা হইতে কি ভাবে এই বাঁজ ই।সপাতালে প্রবেশ করিল তাহার অনুসন্ধান করিতে গিয়া তত্রত্য প্রথিতনামা চিকিৎসকগণ দেখিলেন ষে এক ভূৃত্যের হস্তে ওলাউঠার উদ্ভিজ্জাণু যুক্ত ছিল। অনেক সময় এইরূপ অলক্ষিতভাবে রোগ.বীজ দেশীন্তর হইতে রোগ-শুন্য দেশে আসিয়া উপস্থিত হয়। একদ! বিহারের পাটনা সরে ওলাউঠ! রোগের অত্যন্ত প্রাদুর্ভাব হইয়াছিল। দানাপুরের সেনানিবাসে যাহাতে পাটনার কোন দ্রব্য ব। নরনারী প্রবেশ করিতে ন! পারে তশুপক্ষে উচ্চপদস্থ কম্মচারিগণ 'এক নিষেধাজ্ঞ। প্রচার করিলেন। একদিন মলিন বলনাবৃত জনৈক দরিদ্র ব্যক্তি স্থানে ভিক্ষা করিতে আসিলে সেনানিবাদের দ্বাররক্ষী তাহার গলদেশে হস্ত প্রদান করিয়া তাড়াইয়া দিল। এই ঘটনার পরদিনই সেই রক্ষী সৈন্যের

টাইফয়েড কলের|। ১৯

ওলাউঠা রোগ হইয়াছিল। সম্ভবতঃ ভিক্ষুকের মলিন বসনে কোথা হইতে কি প্রকারে রোগ-বীজাণু লিপ্ত হয়। পরে নাজ সৈনিকের হস্তে লাগিয়াই এই অনর্থ ঘটাইয়াছে।

বাজারের যে কোন স্থানের সোডা, লেমনেড প্রভৃতি পানীয় পান করিবে না। উহা বিশ্বস্ত কারখানায় প্রস্তুত হওয়া চাই। দূষিত জলে প্রস্তুত সোডা লেমনেড পান করিয়। সংক্রামক রোগ হইতে শুনা গিয়াছে

আহার্যা সামগ্রা সকল সময়েই গরম গরম ভক্ষণ করিবে লবণ বা অন্য কোন বস্তু মাটাতে রাখিয়া খাইবে না। পানীয় জল-পাত্র কখন অনাবুহ রাখিও না। উহার মধ্যে ঘটা, গেলাস বা অপর কোন ক্ষুদ্র পাত্র ডুবাইয়া জল তুলিবে না।

রোগের প্রাহুর্ভাবকালে নিজের রক্ষিত পুম্করিণী বা কূপের জল ব্যতীত বাহিরের জল বাবহার করিবে নক: অবিশুদ্ধ জলে বাসন মাজিয়া তাহাতে খাদাদ্রব্য রক্ষা করিলেও অনেক সময় অলক্ষিতভাবে রোগ-বীজ উদরস্থ হয়। পুক্ষরিণী বা কূপের জলের পবিভ্রতা সম্বন্ধে সন্দেহ থাকিলে জল রীতিমত সিদ্ধ করিয়া ব্যবহার করিতে বাধা নাই। আমরা ইচ্ছা করিলে নিজ নিজ পুঙ্গরিণী বা কূপ সংশোধন করিয়া লইতে পারি। অবশ্টা এই উপায়ে জল শোধন করা কিছু ব্যয় সাধ্য একটি পরিষ্কত পাত্রে পাঁরমাঙ্গা-নেট-অব.-পটাস্‌ ( 1011)1:00:5,01708111 06 7০053) গুলিয়া পু্ষরিণী বা কুপের জলে ঢালিয়া দিতে হইবে। যতক্ষণ জলের রছ্‌ অল্প বেগুনিয়া বর্ণ না হয় ততক্ষণ

৩০ ব্যাধি তাহার প্রতিষেধ।

মল্প অল্প গুলিয়া ঢালিয়া দিবে জলের রঙ্‌ অল্প বেগুনিয়া বর্ণ হইলে আর ধিবার প্রয়োজন নাই। এইরূপে শোধন করার পর দুই তিন দিবস জল ব্যবহার না করিলেই ভাল হয়। যর্দি নিতান্ত আবশ্যক হয় তবে ১২ ঘণ্টা পরে ব্যবহার করিতে পার। ইহাতে জল বিস্বাদ হয় না।

পারমাঙ্গা-নেট্-মব-পটাস্‌ ডাক্তারখানায় পাওয়া যায়। ইহা রক্তব্ণ দানাবিশিষ্ট পদার্থ। সাধারণতঃ প্রত্যেক কুপ শোধন করিতে এই দ্রব্য অদ্ধ ছটাক হইতে এক ছটাক পধ্যস্ত লাগিতে পারে।

গোয়ালার দুগ্ধ অথবা অপরিচিত জল পান করিতে হইলে রীতিমত না ফুটাইয়া কখনই ব্যবহার করিবে না। অনেকে মনে করেন, জল নিন্মল, স্বচ্ছ স্বাছু হইলেই উহা! নিরাপদে পান করা যায়। ধারণা সম্পূ্ণ ভ্রমাগরক। টাইফয়েড, কলেরা, অতিসার, আমাশয় প্রভাতি রোগের বীজাণু জলের সহিত অল্প মিশ্রিত থাকিলে উহার বর্ণের বা স্বাদের কোন ব্যতিক্রম হয় না) আমরা এরূপ হতভ্ভান হইয়াছি ঘে প্রত্যহ বোঁড়শোপচারে অন্ন ব্যঞ্জন প্রস্তুত করাইভে পারি কিন্তু পানীয় জলটুকু ফুটাইয়। লইতে পারি না। ইহার কলও ফলিতেছে। আমাদের “অস্ত্রে দন্তে” না দেওয়া সঞ্চিত ধন চিকিৎসকেরা লইতেছেন এবং প্রাণগুলি কলের, অতিসার, টাইফয়েডের উদর পুর্ণ করিতেছে যদি এই সকল ব্যাধির গ্রাস হইতে মাত্বরক্ষ। করিতে ইচ্ছা থাকে, তবে পানীয় জল দুগ্ধ রীতিমত

টাইফয়েড কলেরা ৩১

স্থসিদ্ধ করিয়া পান কর। জল ঈষদুষ্খ করিলে জলবাসী জীবাণুগণের মৃত্যু হয় না ইহা সর্ববদা মনে রাখিবে।

বাড়ীতে টাইফয়েড বা কলেরা দেখা দিলে যাহাতে রোগ- বিস্তার না হয় তৎপক্ষে গৃহস্থ যত্ববান হইবে। রোগীর পরিচর্ধ্যাকারিগণ শ্ীতিমত হস্ত প্রক্ষালন না করিয়া খাদ্য গ্রহণ অথবা খাদ্য।দি প্রস্তুত করিবে না। রোগীর মল বমিত পদার্থাদি দ্বারা কলুষিত শহ্যা বন্দি দগ্ধ অথবা পল্লীর বহুদূরে যে স্থানে পুক্করিণী, কপ, নদী ব| পয়ঃপ্রণালী নাই এমত স্থানে প্রোথিত করিতে হইবে বাড়ী ঘর দ্বার সদা সর্বদা পরিষ্কৃত পরিচ্ছন্ন রাখিবে। পয়ঃপ্রণালী, পাইখানা প্রভৃতি স্থানগুলি প্রতিদিন দুই ভিন বার ফেনাইল দ্বারা ধৌত করিবে। কোন স্থানে তরকারীর খোসা, মাছ, মাংস ব। ফেন ইত্যাদি পচিতে দিবে না। পানীয় জল দুগ্ধ উদ্ভমরূপে স্থসিদ্দ না করিয়া কখনই ব্যবহার করিবে না। বাড়ীর পুর্বব সঞ্চিত জল পরিত্যাগ করিয়া জলাধারগুলি ফুটন্ত জলে ভিতর বাহির পুন; পুনঃ ধৌত করিয়া লইবে। হস্ত মুখ প্রক্ষালনের জন্য যে জল আবশ্যক, তাহাও স্ুুসিদ্ধ হওয়া উচিত। পানীয় জলটুকু সিদ করিলেই যথেষ্ট, এরূপ ধারণা রাখিও না। অনেক সময় গৃহস্থ স্ুসিদ্ধ জল পান করেন বটে কিন্তু ভাতে জল দিবার সময় কাচা জল ব্যবহার করিয়া থাকেন। ওলাউঠার প্রাছুর্ভাব- কালে এইরূপ অপাঁরচিত জল-সিক্ত পান্ত।ভাত খাঁইয়! রোগা- ক্রান্ত হইতে শুনা গিয়াছে।

৩২ ব্যাধি তাহার প্রতিষেধ।

ভোজন পাত্রাদি সংস্কৃত করিয়৷ ছুই তিন বার ফুটন্ত জলে ধৌত করিয়া লইবে। উহাদিগকে মাটীতে সাঁজাইয়া রাঁখিবে না ;--কোন উচ্চ স্থানে তুলিয়! রাখিবে।

রোগীর ঘরে কোন তক্ষ্য বা পানীয় রক্ষা করা নব! ঘরে বসিয়া কিছু আহার করা৷ কখনই কর্তব্য নহে

বাড়ীর সুস্থ জনগণ রোগীর কক্ষ হইতে অনেক দুরে ধুলি- মক্ষিক পরিশৃন্য এক পরিষ্কৃত স্থানে বসিয়া হস্ত উত্তমরূপে ধৌত করিয়া তগ্তজল-ধৌত বাসনে স্তুসিদ্ধ অন্নপানীয় গরম গাকিতে থাকিতে গ্রহণ করিবে এবং আহারান্তে সিদ্ধ জলে আচমন করিবে লময়ে কোন দ্রবাই সিদ্ধ না করিঘ! খাইবে না। সকল সামগ্রী উত্তমরূপে ঢাকিয়! রাখিবে।

মনে কোন প্রকার ভয় আসিতে দিবে না; যাহাতে শরীর- মন তুস্থ থাকে তাভাই করিবে জানিয়া রাখিও-_আম্দের দেহে যে বিধি-দরত্ত ব্যাধি প্রতিবেধক শক্তি আছে, শরীর মন ভগ্ন হইলে সে শক্তিও ক্ষুপ্ন হয়। কাজে কাজেই তখন অতি সহজেই রোগ-বীজাণু আমাদিগকে পাঠিত করিয়। ফেলে

অনেকে কলেরা টাইফয়েড রোগীর পরিচর্ধ্যা করিতে শঙ্ক- বোধ করেন। রোগী স্পর্শ করিলেই এই সকল রোগ হয় না। ভোজ্য পানীয়ের সহিত রোগ বীজাণু উদরস্থ না হইলে ভয়ের কোন কারণ নাই। ভোজ্য পানীয় বীজাণুশুন্য রাখিতে পারিলে, পান-ভোজনপাত্র পরিক্কত রাখিলে এবং হস্ত পরিশোধক জলে

টাইফয়েড কলেরা। ৩৩

ধৌত করিয়া খাদ্য গ্রহণ করিলে এই সকল রোগীর বমিত পদার্থ মুত্র-পুরীষ-_যাহার সহিত রোগ-বীজাণু বহির্গত হয়-- ঘাঁটিলেও কোন বিপদ্‌ হয় না। |

কিছুদিন হইতে পণ্ডিত হ্যাফ্কিনের ওলাউঠা নিবারক টিকার পরীক্ষা চলিতেছে উহা যদি সফল হয় তাহা হইলে আমরা শীঘ্রই দেশ ভইতে ওলাউঠ! ভীতি দূর করিতে সমর্থ ভইন। উক্ত মহাত্বা ওলাউঠ৷ বিষ ক্ষীণ করিয়া লইয়া উদরের দক্ষিণ পার্খে অধস্তাচীক রূপে (ভাইপোডাগিক) প্রয়োগ করেন। প্রথম বিষ প্রয়োগের পর দেহের উত্তাপ কিছু বুদ্ধি হয়; শিরঃপীড়া এবং বিদ্ধ স্থানে অল্প বেদন৷ স্ফীতি দৃষ্ট হয়। যষ্ঠ দ্বিবসে বিষের অপেক্ষাকৃত উগ্রভর দ্রব দ্বিতীয়বার প্রবিষ্ট করান হয়। সময়েও শরীরের তাপাধিক্য স্থানীয় বেদনা প্রকাশ পায়; কিন্তু স্ফীতি দৃষ্ট হয় না। বেদনা তিন দিবসের অধিক থাকে না। উদরাময় বা কোন প্রকার পরিপাক বিকার উপস্থিত না হইয়া অনেকের ২৮ ঘণ্টার মধ্যেই অস্থস্থাস্থা তিরোহিত হয়। ১৮৯৯ খুষ্টাব্দে পুরুলিয়া স্থলকিন্‌ “কুলি-নিবাসে” ২৩৮৮ জন শ্রমজীবীকে এই টিকা দেওয়া হয়। পুর্ব পুর্বৰ বশুসরাপেক্ষা এই বশুসর তথায় ওলাউঠা রোগের প্রাছুর্ভাৰ অল্পই দুষ হইয়াছিল। এক সময়ে কতিপয় পল্লীতে এই রোগের প্রানুর্ভাব হইলে ডাক্তার পাউয়েল্‌ অনুসন্ধান করিয়া দেখিয়া- চিলেন যে টিকা হয়" নাই এমন ৬৫৪৯ জনের মধ্যে ১৯৮ জন

ওলাউঠা রোগে পীড়িত হয় এবং ১২৪ জন ভবলীলা সাঙ্গ করে।

৩৪ বাধি তাহাক প্রতিষেধ।

অপর পক্ষে টিক! গ্রহণকারী ৫৭৭৮ এনের মধো কেবলমাত্র ২৭ জন রোগাক্রান্ত এবং ১৪ জন মৃত্যুমুখে পতিত হইয়াছিল। উভয় সম্প্রদায়ের পীড়া মৃত্যুর হার সমান হইলে টিকাধারিগণের মধ্যে ২৭ জনের পরিবর্তে ১৭৪ জন পীড়িত এবং ১৪ জনের পরিবর্ভে ১০৯ জন মুত হইত। এতদ্বারা প্রমাণ হইতেছে যে টিকাধারী অপেক্ষ! টিকাবঞ্ভিত জন সাধারণের মধ্যে এই রোগে মৃত্যুর হার প্রায় অধ্টগুণ অধিক ওলাউঠার টিকা প্রচলিত হইলে শ্বেত খধি হাফ্কিনের নাম জগদ্বাসীর চিরস্মরণীয় হইয়া খাকিবে।

কোন কোন লব্ধপ্রতিষ্ঠ চিকিৎসক বলেন যে, যে সকল লোক তাতম্রখণ্ড নাড়াচাড়া করে বা তাঅখনিনে কাঁধ্য করে তাহাদের প্রায় ওলাউঠ। হয় না। তীভাদের মতে শরীরে পুর্ব হইতে তাত ধারণ করিলে এই ব্যাধির আক্রমণ হইতে রক্ষা পাওয়া যায়। এই কথার কোন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নাই বটে তবে হিন্দু জ্যোতিষ শাস্ত্রানুসারে ইহার স্থমীমাংসা হইতে পারে। সূর্যাদি গ্রহগণ বিরুদ্ধ হইলেই আমাদের শরীরে রোগ প্রবিষ্ট হয়। কোন্‌ গ্রভ হইতে কোন্‌ ব্যাধির উতপন্তি তাহাও শাস্ত্রে নির্দিষ্ট আছে রবি-_হৃদ্কম্প, শিরঃগীড়া, সদ্দি-গন্্মী, ওলাউঠা, চক্ষু মুখ রোগকারক গ্রহ। এই ছুষ্ট গ্রহ তুষ্ট থাকিলে মন্ুষ্তের সকল রোগ ভোগ করিতে হয় না শাস্ত্র বলিয়াছেন

“সূধ্যাদি দোষশাস্ত্যে বীরধ্যাণি ভূজেন তাত্র শছৌ চ।

বিদ্রম কাঞ্চন মুক্তা রজত ত্রিপু লৌহ রাজ পানি”

টাইফয়েড কলেরা ৩৫

অতএব দেখা যাইতেছে, বাছুমুলে তাত্্ধারণ করিলে সেই মানবের প্রতি সুষ্যগ্রহ প্রসন্ন হইয়া থাকেন। কাজে কাজেই উপরি উক্ত গ্রহজ ব্যাধিগুলি আর হুইতে পারে না তাত্রই সূ্যের প্রয় সামগ্রী। এই জন্য সূষ্যপৃজায় তা্প্রতিমা তাত্রালঙ্কার আবশ্যক হয়। পুজান্তে গ্রহ-বিপ্রকে যে সকল সামগ্রী দান করিবার বিধি আছে তন্মধ্যেও প্ল্রত হেম তাত্রম্” পদের উল্লেখ দেখা যায়

অনেকে গ্রহশান্তির কথায় বিশ্বাদ না করিতে পারেন এখনকার দিনে কেহ সকল কথা বলিলেও লোকে তাহাকে বাতুলালয়ে পাঠাইবার ব্যবস্থা দিয়া থাকেন। তবে ইহা জানিয়া রাখিও---আধ্যখধিগণ যে সকল বিধি লিপিবদ্ধ করিয়াছেন তন্মধ্যে কোন গুটঢ় সত্য নিশ্চয়ই নিহিত আছে অনেক স্থানে তাহারা প্রকৃত কারণ গোপন করিয়া এক একটি বিষয়ের এক একটি বাহ কারণ দ্েখাইয়। গিয়াছেন॥। আজ লোক িজ্ছানা- লোকে ভাহাদের প্রদত্ত ব্যবস্থাগুলির রহস্য কিছু কিছু অনুভব করিতেছে আগ্তোপদেশ গ্রহণ করিলে জীবের মঙ্গল ভিন্ন অমঙ্গল নাই।

৩৪ ব্াধি তাহাৰ প্রতিষেধ

অপর পক্ষে টিক! গ্রহণকারী ৫৭৭৮ এনের মধ্যে কেবলমাত্র ২৭ জন রোগাক্রান্ত এবং ১৪ জন মৃত্যুমুখে পতিত হইয়াছিল। উভয় সম্প্রদায়ের পীড়া মৃত্যুর হার সমান হইলে টিকাধারিগণের মধ্যে ২৭ জনের পরিবর্তে ১৭৪ জন পীড়িত এবং ১৪ জনের পরিবন্তে ১০৯ জন মৃত হইত এতদ্বারা প্রমাণ হইতেছে যে টিকাধারী অপেক্ষা! টিকাবজ্জিত জন সাধারণের মধ্যে এই রোগে মৃত্যুর হার প্রায় অব্টগুণ অধিক। ওলাউঠার টিকা প্রচলিত হইলে শ্বেত খষি হা।ক্কিনের নাম জগদ্বাসীর চিরস্মরণীয় হইয়া থাকিবে

কোন কোন লব্বপ্রতিষ্ঠ চিকিৎসক বলেন যে, যে সকল লোক তাত্রখণ্ড নাড়াচাড়া করে বা তামখনিতে কাধ্য করে তাহাদের প্রায় ওলাউঠা হয় না। তীাভাদের মতে শরীরে পুর্ব হইতে তাত ধারণ করিলে এই ব্যাধির আক্রমণ হইতে রক্ষা পাওয়া যায়। এই কথার কোন বৈচ্ভানিক প্রমাণ নাই বটে তবে হিন্দু জ্যোতিষ শান্ত্রানুসারে ইহার স্ুমীমাংস1 হইতে পারে। সূধ্যাদি গ্রহগণ বিরুদ্ধ হইলেই আমাদের শরীরে রোগ প্রবিষ্ট হয়। কোন্‌ গ্রহ হইতে কোন্‌ ব্যাধির উৎপত্তি তাহাও শাস্তে নির্দিষফ আছে রবি-_হৃদ্কম্প, শিরঃগীড়া, সদ্দি-গম্স্ী, ওলাউঠা, চক্ষু মুখ রোগকারক গ্রহ। এই দুষ্ট গ্রহ তষ্ট থাকিলে মনুষ্যের এঁ সকল রোগ ভোগ করিতে হয় না। শাস্ত্র বলিয়াছেন-__

“দুধ্যাদি দোষশান্ত্যে বীর্য্যাণি ভুজেন তাত্র শত্ৌ চ।

বিদ্রম কাঞ্চন মুক্তা রজত ত্রিপু' লৌহ রাজ পট্ানি”

টাইফয়েড কলেরা ৩৫

অতএব দেখা যাইতেছে, বাহুমূলে তাত্ধারণ করিলে সেই মানবের প্রতি সূষ্যগ্রহ প্রসন্ন হইয়। থাকেন। কাজে কাজেই উপরি উক্ত গ্রহজ ব্যাধিগুলি আর হইতে পারে না। তাত্রই ূর্যোর প্রয় সামগ্রী। এই জগ্ঠ ঘূর্ধ্পূজায় তা্জপ্রতিমা তাম্রালঙ্কার আবশ্বক হয়। পুজান্তে গ্রহ-বিগ্রকে যে সকল সামগ্রী দান করিবার বিধি আছে তম্মধ্যেও প্রত হেম তাত্রম” পদের উল্লেখ দেখা যায়।

অনেকে গ্রহশান্তির কথায় বিশ্বাদ না করিতে পারেন। এখনকার দিনে কেহ সকল কথা বলিলেও লোকে তাহাকে বাডুলালয়ে পাঠাইবার ব্যবস্থা দিয়া থাকেন। তবে ইহা জানিয়া রাখিও__আধ্যখধিগণ যে সকল বিধি লিপিবদ্ধ করিয়াছেন তন্মধ্যে কোন গুঢ সত্য নিশ্চয়ই নিহিত আছে। অনেক স্থানে তাহার! প্রকৃত কারণ গোপন করিয়া এক একটি বিষয়ের এক একটি বাহ কারণ দেখাইয়া গিয়াছেন। আজ লোক নিজ্ঞানা- লোকে ঠাহাদের প্রদত্ত ব্যবস্থাগুলির রহস্য কিছু কিছু অনুতব করিতেছে। আপ্তোপদেশ গ্রহণ করিলে জীবের মঙ্গল তিন অমঙ্গল নাই।

প্লেগ বা মহামারী

কিছুদিন হইতে আসমুদ্র